ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার (পুশইন) প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, নাগরিকত্ব, পরিচয় কিংবা প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একতরফাভাবে সীমান্ত দিয়ে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগজনক।
তারা সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকাকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি যে দৃঢ়তা, ধৈর্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির জন্য গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা জানান।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, অনুপ্রবেশের চেষ্টা বা সীমান্তসংক্রান্ত অস্বাভাবিক ঘটনা নজরে এলে দ্রুত বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানাতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়, এটি পুরো জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।
তারা বলেন, জনগণ ও বিজিবির পারস্পরিক সহযোগিতা সীমান্তকে আরও নিরাপদ করবে এবং যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তারা।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
এমআর/এএস




