চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। তবে সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে থেমে যায় সেই উদ্যোগ। এবার একই স্থানে দ্বিতীয় রিফাইনারি স্থাপনে তৎপর হয়েছে চট্টগ্রামের আরেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান টি কে গ্রুপ।
তবে দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। এস আলম গ্রুপ সরকারি অনুমোদন নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিলেও টি কে গ্রুপের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়াই রিফাইনারি স্থাপনের চেষ্টা এবং এ ক্ষেত্রে কারসাজির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
গত ২৫ অক্টোবর বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। গঠিত কমিটির আহ্বায়ক হলেন বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম ও সদস্য সচিব হলেন অপারেশন ও বাণিজ্য শাখার উপ-ব্যবস্থাপক তানজিন হোসেন।
কমিটিতে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মাসুদুল আলমকে সদস্য করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এ টি এম সেলিম ঢাকা মেইলকে বলেন, ইতোমধ্যে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের এ পর্যায়ে এসে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। যা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিগগির যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তদন্ত কমিটির তথ্যমতে, টি কে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে নাকচ হওয়ার পর রিফাইনারি বানানোয় সক্রিয় রয়েছে। এক্ষেত্রে আগে নাকচ হওয়া আবেদনের তথ্য গোপন করেই রিফাইনারি পরিচালনায় ফের আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। এ ঘটনায় জ্বালানি খাতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তথ্য গোপন এবং সরকারের অনুমোদন ছাড়াই রিফাইনারি বানানোর উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল চট্টগ্রামের বিতির্কিত এস আলম গ্রুপও। আলোচিত এই গ্রুপ ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। যা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বিপিসিসহ চট্টগ্রামের সচেতন মহলের মাঝে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচরে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ক্যাটালিস্ট রিফরমিং ইউনিট (সিআরইউ) নামে একটি প্ল্যান্ট আছে। প্ল্যান্টটিতে বছরে সাড়ে ছয় লাখ টন ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্রসেসিং সক্ষমতা আছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই সেটিকে পৌনে ২৬ লাখ টনের রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে টি কে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পেট্রোকেমিক্যাল। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সুপারিশে অনুমোদন পাওয়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইনও নির্মাণ সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সরকার পরিবর্তনের পর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণন ও সম্প্রসারণের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির করা আবেদন প্রায় ৯ মাস আগে নাকচ করে দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে সিআরইউ প্ল্যান্টটিকে রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৩ সালের করা বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনের জ্বালানি নীতিমালাটি বাতিল করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু পরে নীতিমালাটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ওই নীতিমালার আলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল।
আবেদনে পুরনো সিআরইউ প্ল্যান্টের সঙ্গে বছরে সোয়া ১৯ লাখ টন ক্রুড/কনডেনসেট পরিশোধনের রিফাইনারি প্রতিষ্ঠাসহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল বিপণনের বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হয়। এরপর জ্বালানি বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে বিপিসি।
ওই কমিটিকে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শনসহ প্রতিষ্ঠানটির (এসপিএল) আবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে কমিটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন ব্যবস্থাপককে কো-অপ্ট করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাত সদস্যের কমিটি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে জুলধা ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সিআরইউ প্ল্যান্ট এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন। ৮ এপ্রিল বিপিসি চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন জমা দেন সাত সদস্যের সেই কমিটি।
প্রতিবেদনে নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক অনুমতি প্রদান ও প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে রিফাইনারির চূড়ান্ত অনুমোদন, অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ এবং বিপণনে অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে, বলে সুপারিশ করে বিপিসির কমিটি।
প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালে বর্তমানে ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ১৬ হাজার ৯০০ ব্যারেল হিসেবে বার্ষিক ছয় লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ক্রুড/কনডেনসেট অয়েল প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ৪৫ হাজার ব্যারেল হিসেবে বছরে উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১৯ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান ও প্রস্তাবিত মিলিয়ে বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়াবে পৌনে ২৬ লাখ মেট্রিক টন।
বিপিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে, বেসরকারি এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ অন্য প্রযুক্তি কোন দেশ থেকে আনা হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে সংস্থান করা হবে- সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।
প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ থাকবে কি না, নাকি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ হবে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। অতিগোপনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারির প্রস্তাবিত প্রকল্পের সুপারিশ করে বিপিসি।
এরপর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। নাকচের বিষয়টি বিপিসিকেও চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি গোপন রাখে বিপিসি।
সম্প্রতি রিফাইনারিটি পুরোদমে উৎপাদনে যাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে নড়ে চড়ে বসে সব মহল। তৈরি হয় সমালোচনা। কোনো প্রকার প্রাথমিক অনুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি নতুন রিফাইনারি নির্মাণ অব্যাহত রাখে।
আবেদন নাকচের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণনের ক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩ এর আওতায় এ বিভাগ থেকে কোনো প্রকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির অনুমোদন ছাড়া পেট্রোলিয়াম জ্বালানি রিফাইনারির সম্প্রসারণ কিংবা নতুন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের রিফাইনারির কাজে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির প্রাথমিক অনুমতি, চূড়ান্ত অনুমতিসহ কয়েক ধাপে অনুমতি নিতে হয়। সরকারের উচিত এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শুরু করা।
আবেদন নাকচের পরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কারসাজি প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতা একটা ব্যাক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি কীভাবে উপেক্ষ করতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাকে আতংকিত করে। এমন ক্ষমতা কীভাবে হয় কোনো ব্যক্তি বিশেষের?
তিনি আরও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দেশের মাটিতে নিজেদের স্বার্থে কোনো কোম্পানি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে? এটা একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা সত্যি হলে দেশের সরকার বলেতো কিছু থাকে না। আমরা যে বলেছি, দেশ অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেই দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে এ ঘটনাই যথেষ্ট।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সরকার অনুমোদন না দিলে বাংলাদেশে তারা কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। বর্তমান আইনে বেসরকারি কোনো কোম্পানি এ জাতীয় পণ্য মার্কেটিংয়ের এখতিয়ার নেই। বর্তমান আইনে কোনো কোম্পানি বা রিফাইনারির সরকারের অনুমতি ছাড়া উৎপাদন ও বিপণন করতে পারে না। যেকোনো শিল্প গড়ে তুলতেই সরকারের অনুমোদন লাগে। অনুমোদন ছাড়া তারা এটা কীভাবে করে, সেটা আমার জানা নেই।
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের সময় টি কে গ্রুপের কাছে অকটেনের মজুত থাকার পরেও দাম বাড়ার আশায় বাজারে ছাড়ে নাই বলে অভিযোগ আছে। সেই টি কে গ্রুপ এখন নাফথা ও কনডেনসেট প্রসেস করে অকটেন উৎপাদনের ছোট আকারের ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিটকে (সিআরইউ) ক্রুড অয়েল প্রসেস করার বৃহৎ রিফাইনারিতে পরিণত করতে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে টি কে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর ও সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ মুস্তফা হায়দার ঢাকা মেইলকে বলেন, ২০২১ সালে সিআরইউভিত্তিক ফ্যাকশনেশন প্লান্ট ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলোকে ক্রুড আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। মূলত সরকারের দেওয়া সে অনুমতির ভিত্তিতেই আমরা (টি কে গ্রুপ) রিফাইনারি ও স্টোরেজ ক্যাপাসিটি গড়ে তুলতে বিনিয়োগ শুরু করি।
অনুমোদন নাকচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নবায়নের জন্য ফের আবেদন করেছি। আমাদের চলমান রিফাইনারি প্রকল্পটি আগামী বছরের মার্চে উৎপাদনে যাবে। এটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশে বেসরকারি খাতে ক্রুড অয়েল আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিপিসির পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিও বড় অংশে কমে যাবে। এতে দেশীয় কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
প্রসঙ্গত, দেশে বিপিসি যে জ্বালানি তেল সরবরাহ করে তার মধ্যে ১৪ লাখ টনের কিছু বেশি আসে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে। যার মধ্যে ডিজেল ৭ লাখ ৬৭ হাজার টন (মোট সরবরাহের ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ), অকটেন ২ লাখ ৫৮ হাজার টন (৬২ শতাংশ) ও পেট্রল ৩ লাখ ৮০ হাজার টন (৮২ শতাংশ)। অথচ দেশে প্রতি বছর জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। ফলে দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই পরিশোধিত আকারে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)।
আইকে/জেবি




