শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল: বৈদেশিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় ইন্ডিয়ান কোম্পানির দাপট

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল: বৈদেশিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় ইন্ডিয়ান কোম্পানির দাপট
বৈদেশিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় ইন্ডিয়ান কোম্পানির দাপট। ছবি: সংগৃহীত

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বৈদেশিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় কিছু ইন্ডিয়ান কোম্পানি দাপট দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরও দরপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দরপত্র গ্রহণে অনিচ্ছুক হলে দেশের রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের এক ঠিকাদারের পরিচয় দেওয়া লোক হুমকি ও অসদাচরণ করেছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দফতরের (সিসিএস) একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ নভেম্বর দুপুর ১২টার পর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সিসিএস দপ্তরে এসে ইন্ডিয়ান চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দরপত্র জমা দেয়।


বিজ্ঞাপন


প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইএলজিআই ইকুইপমেন্ট, লোকোমোটিভ ইলেকট্রনিক্স, এএসএ ইঞ্জিন ইকুইপমেন্ট এবং ইপিম্যাচ। এছাড়া কোরিয়ার সামায়ন কোম্পানি ও কানাডার সীমোর ইন্ডাস্ট্রিজও একই সময়ে দরপত্র জমা দিয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকি দিয়ে বলেন, দরপত্র না নেওয়া হলে রেলওয়ের ডিজি বা মন্ত্রণালয়ের সচিব নেবেন। এরপর জোর করে দরপত্রগুলো দপ্তরে রেখে চলে যান। অভিযোগ করা হয়, অসদাচরণকারীরা স্থানীয় এক জামায়াতপন্থী ঠিকাদারের লোক।

দপ্তরের দরপত্র বিক্রয়কারী আয়েশা আক্তার জানান, বিদেশি সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি ও সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য দরপত্র আহবান করে। সাতবার সময় বাড়ানো হলেও ৩০ নভেম্বর দুপুর ১২টার পর দরপত্র জমা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে জামায়াতপন্থী ঠিকাদারের লোকজন দরপত্র জমা নেওয়ার জন্য হম্বিতম্বি শুরু করে। একপর্যায়ে সিসিএস দপ্তরের সকল কর্মকর্তারা তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মোকাবেলা শুরু করেন।


বিজ্ঞাপন


সূত্র মতে, টেন্ডারে ৯২টি দরপত্র বিক্রি করা হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা আয় করে। এর মধ্যে ৫৪টি দরপত্র জমা পড়ে। সময় অতিক্রম হওয়ার পর জোরপূর্বক ৬টি বিদেশি কোম্পানি দরপত্র জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। নিয়ম ভেঙে দরপত্র গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

ঠিকাদাররা জানান, পূর্বের সরকারের আমলে রেলওয়ের বৈদেশিক মালামাল কেনাকাটার টেন্ডার গোপনে হয়ে যেত এবং অধিকাংশ হাতিয়ে নিয়েছিল ইন্ডিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। ৫ আগস্টের পর গোপনে হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ হারায় তারা, তাই রাজনৈতিক দূষ্টচক্র ব্যবহার করে জোরপূর্বক দরপত্র জমা দিয়েছে।

আবদুল মাবুদ নামে এক ঠিকাদার জানান, এখন দরপত্র জমা হলেও কোনো গোপন কারচুরি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে তারা তা বরদাস্ত করবেন না।

সিসিএস দপ্তরের সহকারি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পিটু) গোলাম মোর্শেদ বলেন, দরপত্র নিয়ম মেনে ওপেন করা হয়েছে। সময়ের পর জমা দেওয়া দরপত্র এখনো গণনা করা হয়নি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সময় পার হওয়া দরপত্র গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিবেচনায়ও আসবে না।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর