- ৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ২৮ কোটি
- প্রশিক্ষণে বরাদ্দ মাত্র ১২ লাখ টাকা
- কম্পিউটার মেরামতে বরাদ্দ ৮৫ লাখ টাকা
- আসবাবপত্র কেনায় বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকা
- একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা
- ১০০ ডেস্কটপ কিনতেই ব্যয় হবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ই-সিএমএস) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং টেকসই ক্রয় বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নেওয়া ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পে পরামর্শক খাতেই ব্যয় হবে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৮১ শতাংশই এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিভিত্তিক তিন পরামর্শকের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
‘এলজিইডিতে ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা (ই-সিএমএস) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং টেকসই ক্রয় বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় বিভাজন অনুযায়ী, রাজস্ব খাতে মোট ৩১ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং মূলধন খাতে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর সঙ্গে ফিজিক্যাল কনটিনজেন্সি হিসেবে ১০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং প্রাইস কনটিনজেন্সি হিসেবে ৫০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
রাজস্ব ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত পরামর্শক সেবা। একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ৪২ মাসের জন্য নিয়োগ দিতে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনজন ব্যক্তিভিত্তিক পরামর্শকের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। দুই খাতে মোট ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ প্রকল্পের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে প্রায় ৮১ টাকা পরামর্শক খাতে ব্যয় হবে।
বিপরীতে প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো হলেও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ১২ লাখ টাকা। প্রশিক্ষকদের জন্য তিনটি ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে ২০ জন করে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের অন্যান্য রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে দুটি চুক্তিভিত্তিক যানবাহন ব্যবহারের জন্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ৪৮ মাসের জন্য যানবাহন ব্যবহারের এই ব্যয় ধরা হয়েছে। কম্পিউটার মেরামতে ৮৫ লাখ টাকা, সম্মানীতে ৩৪ লাখ টাকা, অন্যান্য মনিহারি সামগ্রীতে ১০ লাখ টাকা, আসবাবপত্র মেরামতে ৫ লাখ টাকা এবং অফিস সরঞ্জামাদিতে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীতে ৩ লাখ টাকা, আপ্যায়নে ১২ লাখ টাকা, কুরিয়ারে ২ লাখ টাকা, প্রচার ও বিজ্ঞাপনে ৪ লাখ টাকা, বইপত্র ও সাময়িকীতে ৩ লাখ টাকা, প্রকাশনায় ৫ লাখ টাকা, কম্পিউটার সামগ্রীতে ৪ লাখ টাকা এবং স্ট্যাম্প ও সিলে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মূলধন ব্যয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৭৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২২টি ইন্টার্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া বোর্ড কেনায় ৮৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং ১০০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় ১ কোটি ৩০ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আটটি ল্যাপটপ সরবরাহে ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, অফিস সরঞ্জামাদিতে ১৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে শুরুতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করে ওই অর্থবছরে ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রাজস্ব খাতে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং মূলধন খাতে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকিউরমেন্ট শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন খান ঢাকা মেইলকে বলেন, আপনাকে বোঝানোর দায়িত্ব আমার নয়, অফিসে আসেন বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন, পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, এই ব্যয় কী কারণে ধরা হয়েছে, তা এই মুহূর্তে তার জানা নেই।
এএইচ/এএস




