- ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সব টিকিট ‘সোল্ড আউট’
- বর্ণনাকারী রাখা হলেও তথ্য দিতে পারছেন না
- প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের দাবি উঠেছে
- চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ
- মূল্যবান সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে সেই ইতিহাস তুলে ধরতে গণভবনে গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ৬ আগস্ট সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে জাদুঘরটি। শুরুতেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। টিকিট নিয়ে জটিলতা, দীর্ঘ অপেক্ষা, দর্শনার্থীদের সঠিক নির্দেশনা দিতে না পারা, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন স্পর্শ করার সুযোগসহ নানা অভিযোগে জাদুঘরটির নিরাপত্তা ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জাদুঘর পরিদর্শনের সময় কোনো দর্শনার্থী কোনো নিদর্শন সম্পর্কে জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যথাযথ তথ্য দিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক দর্শনার্থীকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জাদুঘরের কোথায় কী রাখা হয়েছে কিংবা কোনো নিদর্শনের পেছনের ইতিহাস কী, সে বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, জাদুঘরে রাখা বিভিন্ন নিদর্শন দর্শনার্থীদের কেউ কেউ হাত দিয়ে ধরে দেখছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষণযোগ্য সামগ্রী নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা এবং নিদর্শন স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নির্দেশনামূলক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মূল্যবান নিদর্শন জাদুঘরটিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এর পাশাপাশি সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম। এসব সামগ্রী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সতর্কতা না থাকলে দর্শনার্থীদের ভিড় ও অসচেতনতার কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনটি ধাপে ৩০০ জন করে মোট ৯০০ জন দর্শনার্থী প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হলেও টিকিট, প্রবেশের সময় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও কোথাও প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীর কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্য নেওয়ার পর শিশুদের টিকিট দেওয়ার।
দর্শনার্থীদের চাপ বিবেচনায় নিয়ে সময়ভিত্তিক প্রবেশের ব্যবস্থা করা হলেও বাস্তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, লাইনে দাঁড়ানো দর্শনার্থীদের নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জাদুঘর ঘুরতে আসা মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন বিরক্তি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
জাদুঘরের প্রতিটি কক্ষেই নিজস্ব লোকবল হিসেবে ‘স্টোরিটেলার’ বা বর্ণনাকারীদের রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, কোনো নিদর্শন বা জাদুঘরের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা স্টোরিটেলারদের কাছ থেকে অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান দর্শনার্থীরা।
জাদুঘরে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, কোনো একটি নিদর্শন দেখে সেটির সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের কী সম্পর্ক বা এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী, তা জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকটা নিজেদের মতো করে প্রদর্শনীগুলো দেখতে হচ্ছে তাদের।
মিরপুর থেকে আসা দর্শনার্থী মাহিন কবির বলেন, জাদুঘরে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ অনেক নিদর্শন রয়েছে। তবে কোনো নিদর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
কেরানীগঞ্জ থেকে আসা সারওয়ার হোসেন নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, এত দূর থেকে জাদুঘর দেখতে এসে ভেতরের ব্যবস্থাপনায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন। কোথায় কী রাখা হয়েছে বা কোনো নিদর্শনের ইতিহাস জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন। জাদুঘরে দর্শনার্থীদের সহযোগিতার জন্য জানাশোনা লোকবল থাকা উচিত।
গাজীপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী মুস্তাকিমুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস জানতেই তারা জাদুঘরে এসেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত নির্দেশনা ও তথ্য না থাকায় অনেক কিছু বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলো যাতে কেউ স্পর্শ করতে না পারেন সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।
দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাদুঘর পরিচালনা কিংবা প্রদর্শিত নিদর্শন সম্পর্কে তাদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ফলে কোথায় কী রয়েছে, কোন নিদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কতটুকু এবং দর্শনার্থীদের কীভাবে সেগুলো সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে, সে বিষয়ে তাদেরও পর্যাপ্ত ধারণা নেই।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠানে দর্শনার্থীদের শুধু নিদর্শন দেখার সুযোগ করে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি নিয়ে গড়ে ওঠা জাদুঘরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। জুলাইকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ অবশ্যই অনুপ্রেরণার বিষয়। তবে জাদুঘরে শহীদদের স্মৃতিচিহ্নসহ এমন অনেক নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো একবার নষ্ট হয়ে গেলে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। এমন অনেক জিনিস রয়েছে, যেগুলো একবার নষ্ট হলে আর পাওয়া যাবে না।
শুধু নিদর্শনের নিরাপত্তা নয়, পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশ করানো হলে জাদুঘর দেখার স্বাভাবিক অভিজ্ঞতাও ব্যাহত হতে পারে। দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে প্রদর্শনীগুলো দেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত কর্মী ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরি।
জুলাই জাদুঘর সূত্রে জানা গেছে, সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পর থেকেই জাদুঘরটি দেখতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। প্রথম দিনেই নির্ধারিত ৯০০টি টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এরপরও প্রতিদিন টিকিটের চাহিদা বাড়তে থাকে। সূত্র বলছে, আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত জাদুঘরের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক দর্শনার্থী চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন না।
সূত্র বলেছ, অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে গতকাল রাতে তড়িঘড়ি করে ২০ জন স্টোরিটেলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক ও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব ঢাকা মেইলকে বলেন, স্টোরিটেলিং কার্যক্রম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে আপাতত স্টোরিটেলারদের ভিড় ব্যবস্থাপনার কাজে রাখা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টোরিটেলিং কার্যক্রম শুরু হবে। তখন তারা সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের তথ্য দিতে পারবেন।
তার মতে, দর্শনার্থীদের আগ্রহকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি জাদুঘরের নিরাপত্তা ও পরিচালনায়ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ, নিদর্শনের পাশে স্পষ্ট তথ্য সংযোজন, দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যাপ্ত কর্মী দিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা থাকাও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে যে জাদুঘর তৈরি হয়েছে, সেটি যেন অব্যবস্থাপনার কারণে নিজেই নতুন কোনো প্রশ্নের জন্ম না দেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের আগ্রহ ও দর্শনার্থীর চাপকে যদি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় রূপ দেওয়া যায়, তবেই এই জাদুঘর তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই জাদুঘরের পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জরুরি ভিত্তিতে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। জাদুঘরটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে এতদিন সময় পাওয়ার পরও তা যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জাদুঘরটিকে যথাযথভাবে পরিচালনার উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, জুলাই জাদুঘর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এমন একটি স্থাপনা কেন জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। প্রয়োজনে জাদুঘরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই ও মহড়া এবং দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর আবার খুলে দেওয়া যেতে পারে।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত মূল্যবান নিদর্শনগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায়। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরাও যেন একটি পূর্ণাঙ্গ, সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ জাদুঘর অভিজ্ঞতা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এতদিন ধরে প্রস্তুতির পরও যদি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রদর্শিত নিদর্শন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা না থাকে, দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো প্রশিক্ষণ না থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন স্পর্শ করা ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জাদুঘরের বর্তমান কাঠামো, জনবল, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত জনবল বর্তমানে নেই। প্রায় ২০০ জনের মতো জনবল প্রয়োজন হলেও এখন মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন কাজ করছেন। স্বল্প জনবল দিয়ে আপাতত স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দর্শনার্থীদের সঠিকভাবে জাদুঘরের বিভিন্ন নিদর্শন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে প্রশিক্ষিত জনবলও প্রয়োজন।
জাদুঘর পরিচালনায় আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেন এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাদুঘরটি স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোয় পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামো তৈরি করা দরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন শিক্ষার্থী, গবেষক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। শুরু থেকেই যারা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো উচিত।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে। জাদুঘর উদ্বোধনের পর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে। অনেক দুর্নীতি হয়েছে’ বা এ ধরনের সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অনিয়ম বা দুর্নীতির ধরন এবং কীভাবে তা ঘটেছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আইনগত তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রয়োজন। অভিযোগে দুর্নীতির বিষয় থাকলে তা দুদকে পাঠানো হবে। আর কোনো অভিযোগে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা করা হবে।
এএইচ/জেবি




