সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

নির্মিত হচ্ছে ‘পদ্মা ব্যারেজ’, উপকৃত হবে ২৪ জেলার মানুষ

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

DM
ছবি- ঢাকা মেইল

ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট। এছাড়া লবণাক্ততা, নদী ভরাট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এসবের মোকাবিলায় বহুমুখী ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নদী পুনরুজ্জীবন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং পানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবে। 

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শুরুতে প্রকল্পটি এক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী মোট ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়। তবে বিপুল অর্থায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় প্রকল্পটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এত বড় প্রকল্প এক ধাপে বাস্তবায়ন করলে ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ব্যারেজ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের পর নদীগুলোর প্রবাহ, নাব্য ও ভৌগোলিক গঠন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হবে। তাই হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বাস্তবায়নকে অধিক বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যারেজের মূল অবকাঠামো নির্মাণ, হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী সিস্টেম এবং গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম পুনঃখননের কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং অতিরিক্ত সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পদ্মানির্ভর পাঁচটি প্রধান নদী সিস্টেমে আবারও প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে।


বিজ্ঞাপন


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর বাংলাদেশ অংশে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ, নৌচলাচল ও গার্হস্থ্য পানির প্রাপ্যতা সংকটে পড়ে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও ক্ষতির মুখে পড়ে।

এ সংকট মোকাবিলায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিস পাস এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। একই সঙ্গে ব্যারেজকে কেন্দ্র করে বহুমুখী অবকাঠামোগত সংযোগও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীতে পৃথক অফটেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় মৃতপ্রায় হিসনা নদী পুনরুদ্ধার করে ‘হিসনা অফটেক’ নির্মাণ করা হবে, যা ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে। রাজবাড়ীর পাংশায় চন্দনা অফটেক এবং কুষ্টিয়ায় গড়াই অফটেক নির্মাণ করা হবে। গড়াই অফটেকে ১৫টি স্পিলওয়ে, ফিস পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ এমব্যাঙ্কমেন্ট নির্মাণ করা হবে। চন্দনা অফটেকে চারটি এবং হিসনা অফটেকে পাঁচটি স্পিলওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জলবিদ্যুৎ উৎপাদন। মূল ব্যারেজ ও গড়াই অফটেকে দুটি হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে, যার মাধ্যমে বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ এলাকায় ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফটেক এলাকায় ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় গড়াই-মধুমতি নদীতে প্রায় ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী সিস্টেমে ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ১৮০ কিলোমিটার এফ্ল্যাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, নদী সিস্টেম বলতে শুধু মূল নদী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট শাখা নদী, উপনদী, খাল, বিল, জলাধার ও পুরো পানিপ্রবাহ নেটওয়ার্ককে বোঝায়। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মাধ্যমে এই পুরো নেটওয়ার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বনসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। নদী থেকে পলি অপসারণের ফলে নাব্য বাড়বে এবং নৌচলাচল সহজ হবে।

00

প্রকল্পের আওতায় হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেমে শুষ্ক মৌসুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হিসনা-মাথাভাঙ্গায় ২৩৯, গড়াই-মধুমতিতে ২৩০, চন্দনা-বারাশিয়ায় ৮০, বড়াল ও ইছামতিতে ২২ কিউসেক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহীর গোদাগাড়ী পাম্প হাউজ, জি-কে সেচ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্প এলাকা দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত। চারটি বিভাগের ২৪টি জেলার ১৬৩টি উপজেলাকে প্রকল্প এলাকার আওতায় ধরা হয়েছে। তবে প্রথম পর্যায়ে ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে। উপকারভোগী জেলার মধ্যে রয়েছে খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা; ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ; রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ হেক্টর নিট চাষযোগ্য জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে ধান উৎপাদন প্রায় ২৩ দশমিক ৯০ লাখ টন এবং মাছ উৎপাদন প্রায় ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রকল্পটির অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মার মতো বড় নদীর ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে নদীর গতিপথ ও তলদেশের গঠন পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নদীর হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমীক্ষা হালনাগাদ করতে হবে। সে কারণে ডিপিপিতে পরামর্শক সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন জানান, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ও নদী পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর অর্থনীতি পানির স্বল্পতা এবং লবণাক্ততার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় পদ্মা ব্যারাজ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত ও নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বলেন, ব্যারাজ নির্মাণের ফলে উজানে নদী ক্ষয় এবং ভাটিতে অতিরিক্ত পলি জমার মতো মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এসব পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে নদীর নাব্য, পানিপ্রবাহ ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে উন্নত নকশা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প নয়, বরং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি, কৃষি, পরিবেশ, নৌচলাচল ও অর্থনীতিকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা। ফারাক্কার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নদী ও জনপদের জন্য এটি হতে পারে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার।

 

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে স্পষ্টভাবে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। কারণ, ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় বন্যার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গঙ্গা নদী থেকে ভারত পানি প্রত্যাহার করায় দেশের খরস্রোতা, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতী, ইছামতি ও বারাসিয়াসহ বহু নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বাড়ছে, যা কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আমরা যদি এখন পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ না করি এবং পানিকে রিজার্ভারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে নদী ব্যবস্থার মধ্যে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে যাবে। এই প্রকল্পের সঙ্গে দেশের ২৪টি জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, ফরিদপুর, বরিশাল, যশোর ও খুলনাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এ প্রকল্পের সুফল পাবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও পদ্মা ব্যারেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এবং প্রায় সাত কোটি মানুষের ভাগ্য এ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও অবকাঠামোর ক্ষয়রোধে আধুনিক প্রযুক্তি ও টেকসই পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে শুধু উন্নয়ন চিন্তা করলেই হবে না, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে। আমরা এখন পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছি, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে দৃশ্যমান ও বাস্তবায়ন করা যায়।’

এএইচ/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর