রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

তেল সংকট আতঙ্কে বাইকাররা, পাম্পে গিয়ে জড়াচ্ছেন বিবাদে

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

তেলের আতঙ্কে দুশ্চিন্তায় বাইকাররা, পাম্পে গিয়ে জড়াচ্ছেন বিবাদে

আতঙ্কজনিত চাহিদাই পরিস্থিতিকে বেশি চাপের মধ্যে ফেলছে।

 

কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

দেশে বছরে চাহিদার দ্বিগুণ পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন হয় (চাহিদা ৮ লাখ টন, উৎপাদন প্রায় ১৬ লাখ টন)। 

 

আতঙ্ক না ছড়াতে চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার

রাজধানীতে জ্বালানি তেল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। পেট্রোল ও অকটেনের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেক বাইকার আগেভাগেই তেল সংগ্রহ করতে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছেন। এতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং সিরিয়াল নিয়ে বাইকারদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।


বিজ্ঞাপন


বিশেষ করে যারা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাত্রী পরিবহন করেন বা রাইডশেয়ার সেবার সঙ্গে যুক্ত, তাদের উদ্বেগ আরও বেশি। কারণ তাদের আয় পুরোপুরি মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। তেল না থাকলে রাস্তায় নামা সম্ভব নয়, ফলে আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করছেন। অনেককে আবার এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল খুঁজতে দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে অনেকেই বিকল্প হিসেবে গ্যাস ব্যবহার করতে পারেন বলে তুলনামূলক চাপ কম থাকলেও বাইকারদের জন্য পেট্রোল বা অকটেনের বিকল্প নেই। ফলে তেল না পাওয়ার আতঙ্কে তারা দ্রুত ট্যাংক ভরতে চাইছেন। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ নোটিশ টাঙিয়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে পাম্পে ভিড় আরও বাড়ছে এবং চালকদের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদাই পরিস্থিতিকে বেশি চাপের মধ্যে ফেলছে। সরকারি ইস্টার্ন রিফাইনারি ও কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। অন্যদিকে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। অর্থাৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় দেশের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।


বিজ্ঞাপন


img-12145145_(2)

এ অবস্থায় সরকার চালকদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেতন আচরণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কোথাও গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও তেল না থাকার নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে অনেক চালক তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। তবে কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখানেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা গেছে চালকদের। আবার সিরিয়াল নিয়ে বাইকারদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও দেখা গেছে।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, তেজগাঁও, ফার্মগেট, মালিবাগ, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় একাধিক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। 

মিরপুরের একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হয় মোটরসাইকেল চালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুর থেকে কয়েকটা পাম্প ঘুরছি কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছি না। কোথাও বলা হচ্ছে তেল শেষ, আবার কোথাও পাম্প বন্ধ করে রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এখানে এসেও দেখি বন্ধ করে রেখেছে তারা। আবার অন্য কোথাও যাবো দেখি পাওয়া যায় কিনা।

img-12145145_(6)

কথা হয় মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আজকে দুপুরের পর থেকে অন্তত পাঁচ–ছয়টা পাম্প ঘুরেছি। কোথাও অকটেন নেই, আবার কোথাও গিয়ে দেখি পাম্প বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এক জায়গায় বললো তেল শেষ, আরেক জায়গায় বললো পরে আসতে। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করার পর একটা পাম্প থেকে সামান্য তেল নিতে পেরেছি। এইভাবে যদি তেল খুঁজতে হয় তাহলে আমাদের মতো যারা প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে চলাফেরা করি তাদের জন্য বড় ভোগান্তি হয়ে দাঁড়াবে।

ব্যক্তিগত গাড়িচালক মাহিদ রানা বলেন, কয়েকদিন ধরে শুনছি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই অনেকেই আগে থেকেই ট্যাংক ফুল করার চেষ্টা করছি। কিন্তু বাস্তবে পাম্পে এসে দেখি অনেক জায়গায় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু পাম্পে লম্বা লাইন, আবার কিছু পাম্প পুরোপুরি বন্ধ। এতে সাধারণ চালকদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

মাইক্রোবাস চালক আব্দুল কাদের বলেন, মানুষের মধ্যে এখন একটু আতঙ্ক কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। অনেকেই একসঙ্গে বেশি করে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে পাম্পে চাপ বেড়ে গেছে। আজকে আমি নিজেও কয়েকটা পাম্প ঘুরেছি। কোথাও তেল নেই, কোথাও আবার লম্বা লাইন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবহন চালানো এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

img-12145145_(5)

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তেলের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পর থেকেই অনেক বাইকার আগেভাগে পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু তেল সীমিত থাকায় কখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কখনো তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সিরিয়াল নিয়ে প্রায়ই তর্ক-বিতর্কের ঘটনা ঘটছে।

পুরবী এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর পাম্পে এসে দেখি অনেক বড় লাইন। কয়েকজন বাইকার সিরিয়াল নিয়ে তর্ক করছিলেন। পরে বিষয়টা নিয়ে ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে। অনেকেই বলছিলেন আগে তেল না নিলে পরে হয়তো পাওয়া যাবে না।

img-12145145_(2)

আরিফ হোসেন নামের এক গাড়ী চালক বলেন, আমি নিজের গাড়ির জন্য তেল নিতে এসেছিলাম। কিন্তু দেখলাম মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটা বোতল বা অতিরিক্ত তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, এজন্য পাম্পে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া অনেক বাইকার বলছিলেন তারা রাইডশেয়ার করেন, তেল না পেলে আয় বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা আগেই ট্যাংক ভরে রাখতে চাইছেন। কিন্তু তেল কম থাকায় অনেক সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ সীমিত করে দিচ্ছেন, এতে করে ঝামেলা আরও বাড়ছে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে তারা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আসাদগেটের তালুকদার পাম্পের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাধারণ দিনে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হয়, আজ তার চেয়ে অনেক বেশি চাহিদা দেখা যাচ্ছে। দুপুরের মধ্যেই পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। তাই আপাতত পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।

img-12145145_(3)

কল্যাণপুরের খালেক পাম্পের কর্মচারী নাহিদ বলেন, গতকাল বিকেল পর্যন্ত তেল বিক্রি করেছি, এরপর আর বিক্রি হচ্ছে না, শেষ। কিন্তু চাপ পড়ছেই। তেল নেই তবুও লাইন। তেলের লাইনের চাপে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনও বিড়ম্বনায় পড়েছে। 

খালেক স্টেশনের কর্মচারী সুমন বলেন, আমরা চাপে আছি। তেলের গাড়ি লোড করা। কিন্তু যে পরিমাণ চাপ, তা সামাল দিতে অন্তত ২০টা স্টেশন দরকার। সেটা তো নেই। যে কারণে দীর্ঘ লাইন হচ্ছে। কিন্তু সামনে এসে দুটি স্টেশনে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন, পেট্রোল পাম্পে বাড়তি চাপের কারণে সড়কে যানজট, গাড়ির জটলা তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সড়কে যানজট নিরসন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দুদিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতেও নজর দিতে হচ্ছে।  আমরা ফিলিং স্টেশন মালিক পক্ষ, শ্রমিক, পরিবহন ও পুলিশ মিলে যৌথ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। পাম্প কেন্দ্রিক লাইন করা হচ্ছে। বাইকারদের জন্য আলাদা লাইন করা হচ্ছে। তবে আশঙ্কা করছি আগামীকাল মূল সড়ক-সংলগ্ন ফিলিং স্টেশন কেন্দ্রিক যানজট বাড়তে পারে।

img-12145145_(1)

এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার রাজধানীতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় টুকু বলেন, অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তেল নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়াতে আহ্বান এবং বাড়তি তেল মজুত না করতে চালকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ মূলত বিভিন্ন দেশ থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলে এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে।

img-12145145_(7)

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে কয়েক সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রয়েছে। নিয়মিতভাবে আমদানিও অব্যাহত আছে। ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংকট হওয়ার কথা নয়। এছাড়া অক্টেন আর পেট্রোলের ঘাটতি হবে না।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদাই বর্তমানে পরিস্থিতিকে বেশি চাপের মধ্যে ফেলছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।

img-12145145_(1)

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতেই জ্বালানি তেলের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গত ১ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯৫ হাজার টন। অথচ গত বছর একই সময়ে ডিজেল বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৪৫ হাজার টন। একই সময়ে পেট্রোল ও অকটেনের বিক্রিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এই বাড়তি বিক্রির ফলে দেশে জ্বালানি তেলের মজুতও তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ছয় লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ৯৪০ টন, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। গত ১ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪ হাজার ৪৭৮ টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। এই হিসাবে বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় সাত দিনের সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।

img-12145145_(5)

সরকারি ইস্টার্ন রিফাইনারি ও কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। অন্যদিকে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় দেশের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিসি। শুক্রবার সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল দেওয়া যাবে। 

এএইচ/ 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর