ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। পেট্রোলের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, দাম বাড়ার আতঙ্ক থেকেই অনেক গ্রাহক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জ্বালানি তেল নিতে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পাম্পেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন। অনেকেই ধারণা করছেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই পেট্রোলের দাম বাড়তে পারে। তাই আগেভাগেই বর্তমান দামে বেশি করে তেল নিয়ে রাখছেন তারা। অন্যদিকে পাম্পের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির আতঙ্কে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি তেল নিচ্ছেন।

মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশন, সিএনজি অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের চাহিদা বেড়েছে। তবে গত তিন দিনে চাহিদা আরও অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে একটি গাড়ি তেল আনলেই চলত, এখন সেখানে দুটি গাড়ি তেল লাগছে। সবাই বেশি করে তেল নিচ্ছেন, তাই পাম্পগুলোতে ভিড় বাড়ছে। এর সঙ্গে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
আসাদ গেটের সোনার বাংলা পেট্রোল পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। পাম্পটির নিরাপত্তাকর্মী মাসুদ বলেন, পাম্পে যে পরিমাণ তেল রয়েছে, তাতে সবাই জ্বালানি পাবেন। কিন্তু মানুষের মধ্যে দাম বাড়ার আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

নিজের মোটরসাইকেলে পেট্রোল নিতে আসা আবদুর রাজ্জাক বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে বলে শুনেছি। তাই আজ একটু আগে থেকেই কম দামে তেল নিতে এসেছি। ফুল ট্যাংক করে তেল নিয়ে গেলাম।
প্রাইভেটকার চালক আমজাদ বলেন, গাড়ির মালিক আমাকে বলেছেন তেলের দাম বাড়তে পারে, তাই বেশি করে তেল নিয়ে আসতে। সেই কারণে পাম্পে এসেছি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও আমার সিরিয়াল আসেনি।
এর আগে গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিকল্প বাজার থেকে তেল সংগ্রহের বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তাতে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।
এমএইচএইচ/ক.ম

