* গুজবে তেল কেনার হিড়িক, অতিরিক্ত চাহিদা
* রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি
* সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবির সতর্কতা জারি
* দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, সরবরাহ স্বাভাবিক: মন্ত্রী
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশে। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের অস্বাভাবিক ভিড় দেখা দিয়েছে। অনেকেই আগেভাগে ট্যাংক পূর্ণ করে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গাড়ির ধরন অনুযায়ী তেল কেনার সীমা নির্ধারণ করেছে এবং আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্প ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক চালক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে এবং কিছু পাম্পে মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।
রাজধানীতে তেল নেওয়ার হিড়িক
তেল সংকটের গুঞ্জনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চালকদের মধ্যে ট্যাংক পূর্ণ করে জ্বালানি নেওয়ার হিড়িক পড়েছে। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।
রাজধানীর মালিবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেট, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পে এই চিত্র দেখা গেছে। অনেক পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
মতিঝিল এলাকার একটি পাম্পের ব্যবস্থাপক বলেন, সাধারণত তাদের ২০ থেকে ২৭ হাজার লিটার তেল মজুত থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা দ্রুত কমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
শত শত ট্যাংক-লরির দীর্ঘ সারি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল এলাকায় পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শত শত ট্যাংক-লরির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তেল সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় ডিপোর ভেতর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ট্যাংক-লরির লাইন নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল সড়কে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়।
মোটরসাইকেল চালক সৈয়দ আহমদ বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বাড়তে পারে শুনে একটু বেশি তেল নিতে এসেছিলাম। কিন্তু পাম্প থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ চাপ, গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক কমাতে রাজধানীর পরীবাগের একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনে যান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী সেসময় জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে যাতে দেশে জ্বালানির সংকট না হয়, সেজন্য আগামী রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পেট্রোল পাম্পগুলোকে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিয়ে যে সংশয়টি জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে আমরা সেটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখছি না। কারণ একটি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ফলে একটা দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জ্বালানি তেল নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের কাছে যথেষ্ট মজুত আছে।

মিথ্যা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শুক্রবার রাজধানীর একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করে বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।
মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু গুজব, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। কিন্তু তেল নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাইকে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিপিসি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংস্থাটি বলেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে উঠবে এবং সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
তেল কেনার সীমা নির্ধারণ, কোন গাড়িতে কত লিটার:
জ্বালানি তেল কেনার পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এর ফলে চাইলেও কেউ নির্ধারিত পরিমাণের বেশি জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন না।
একটি মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন/পেট্রোল কেনা যাবে, প্রাইভেটকারের জন্য অকটেন/পেট্রোল কেনা যাবে, এসইউভি/জিপ/ মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন/পেট্রোল কেনা যাবে, পিকআপ/লোকাল বাসের জন্য ডিজেল কেনা যাবে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস/ ট্রাক/কার্ভাডভ্যান/ কনটেইনার ট্রাকের জন্য ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল কেনা যাবে।
জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনতে বিপিসি কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে। তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে ক্রয়রশিদ দিতে হবে এবং পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় আগের রশিদ দেখাতে হবে। ডিলাররা নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল বিক্রি করবেন এবং ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিত মজুত ও বিক্রির তথ্য ডিপোতে জানাতে হবে। বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।
মজুত কমছে কত:
দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুত তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। ডিজেলের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার টনের মধ্যে ব্যবহারযোগ্য মজুত বর্তমানে ১ লাখ ৮০ হাজার টন, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। এ মজুত দিয়ে প্রায় সাত দিনের সরবরাহ চালানো সম্ভব। অকটেনের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৫৩ হাজার টনের মধ্যে বর্তমানে ২৮ হাজার টন মজুত আছে, যা প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং প্রায় ১৪ দিনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম। পেট্রোলের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৭ হাজার টনের মধ্যে বর্তমানে মজুত ১৮ হাজার টন, যা প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং প্রায় আট দিনের সরবরাহ সম্ভব।
বিপিসি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩০ হাজার ও ২৭ হাজার টন তেল নিয়ে দুটি জাহাজ এসেছে এবং আরও জাহাজ আসার পথে রয়েছে। হরমুজ প্রণালির কারণে সৌদি আরব থেকে দুটি জাহাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, কিছু চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে প্রিমিয়াম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
মার্চের ১ থেকে ৪ তারিখে দেশের ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৯৫ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের ৪৫ হাজার টনের চেয়ে দ্বিগুণ। একই সময় অকটেন ও পেট্রোলের বিক্রিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপিসি আশা করছে, নিয়মিত আমদানি এবং ডিপোতে সরবরাহের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক থাকবে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই: বিপিসি
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি বাধ্যতামূলক, অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া আইনগত অপরাধ।
কিছু ভোক্তা, ডিলার বা পাম্প থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা নজরদারি করা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানি এবং ডিপোতে নিয়মিত রেল ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। ডিজেল আমদানি করা হলেও পেট্রোল ও অকটেন দেশেই উৎপাদিত হয়, তাই তাদের সংকটের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে সরকার জনগণকে তেল ও গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমাতে, ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করতে এবং শেয়ারিং বা কার-পুলিং অনুসরণ করার অনুরোধ করেছে। প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয়ে রান্না ও যন্ত্রপাতিতে সঠিক ব্যবহার, লিকেজ পরীক্ষা ও অবৈধ ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর একটি পেট্রোল পাম্পে কর্মীদের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালকদের তর্কের সময় হঠাৎ উপস্থিত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানতে চাইলেন কী হয়েছে।
চালকরা বাড়তি তেলের চাহিদার কথা জানালে মন্ত্রী বললেন, এত অস্থীর হওয়ার দরকার নেই। আমাদের কাছে তেল আছে, তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে। সব একবারে খেয়ে ফেলে কীভাবে চলবে? তাই কম করে তেল নিন।
পাম্প মালিককে মন্ত্রী বলেন, আপনার সংসারে যদি এক মণ চাল থাকে এবং সাপ্লাই সীমিত, আপনি কম খাবেন না? সবাইকে এটাই বলতে হবে। প্রাইভেটকারের জন্য দুই হাজার টাকার বেশি তেল দেবেন না।
পাম্প কর্মচারীর কাছে মন্ত্রী জানতে চান মোটরসাইকেল চালককে সর্বোচ্চ কত টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। কর্মী জানান, ৫০০ টাকার। মন্ত্রী সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ঠিক আছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, গত কয়েক দিনে তেলের সরবরাহ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ক্রেতারা আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে যথেষ্ট সচেষ্ট। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাপ তৈরি হয়েছে, তবে সরকার চেষ্টা করছে দাম বৃদ্ধি রোধ করতে। প্রয়োজন হলে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের সঙ্গে স্পষ্টভাবে পরিস্থিতি শেয়ার করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তেলের কোন সঙ্কট হয়নি। আমাদের সবকটি পাম্পগুলোতে পরিমাণের জ্বালানি তেল রয়েছে। তিনি বলেন, হুমড়ি খেয়ে সবাই যদি একসঙ্গে বেশি পরিমাণে তেল নিতে যান, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হবে।
পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন ঢাকা মেইলকে বলেন, আসলে যভাবে হইহুল্লোহ পড়ে গেছে বাস্তাবে তেমন না। দাম বাড়ার যে খবর ছড়িতে পড়েছে তাতে মানুষের মাঝে পেনিক (আতঙ্ক) কাজ করছে। আমাদের পাম্পগুলোতে যথেষ্ট তেল মজুদ আছে। মানুষ অতিরিক্ত তেল নিতে হুড়োহুড়ি করছে অহেতুক। সরকার এবার অতিরিক্ত তেল নিতে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যে জনগণকে আশ্বাস্ত করেছে। আশাকরা যায় মানুষের মাঝে পেনিক কমে যাবে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে আমদানি চেইন স্থবির হয়ে যেতে পারে। তখন মূলত সংকট পড়বে। আমরা আশাবাদী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা নিয়ে এখনই শঙ্কার কিছু নেই। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭টি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেট ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।
জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবির সতর্কতা জারি:
এদিকে যশোর সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্কতা জারি করেছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর, শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং যানবাহন কড়া নজরদারিতে তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষভাবে সেইসব রুটে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে, যেখানে আগে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। ভারত ও বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করা পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এমআর/ক.ম

