শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

তামাকের মোড়কে অনিয়ম, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে: টিসিআরসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

Tobaco
টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি)। ছবি: ঢাকা মেইল

দেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেছে টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি)। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে তামাক কোম্পানিগুলো সচিত্র সতর্কবার্তার আকার, অবস্থান ও মানে ব্যাপক অনিয়ম করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে টিসিআরসি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কতার বাস্তবায়নের অবস্থা: গবেষণার ফলাফল প্রকাশ এবং প্রেস ব্রিফিং' শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।


বিজ্ঞাপন


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসটিআইয়ের মেট্রোলজি বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিসিআরসির প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান। টিসিআরসির প্রকল্প কর্মকর্তা মো. জুলহাস আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে তিনি জানান, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধনী ২০১৩)’ এর ধারা ১০ অনুযায়ী দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে বাজারজাত তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার বাস্তব অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, আইন অনুযায়ী মোড়কের নির্ধারিত অংশজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে বহু পণ্যে এর ব্যত্যয় ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে সতর্কবার্তার আকার নির্ধারিত মাপ অনুযায়ী নয়, অবস্থান দেওয়া হয়েছে এমন জায়গায় যা সহজে চোখে পড়ে না। কিছু পণ্যে ব্যবহৃত সতর্কচিত্র অস্পষ্ট, ঝাপসা বা মানহীন, যা জনসচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ। এছাড়া একই মোড়কে বারবার একই সতর্কচিত্র ব্যবহারের মতো অনিয়মও চিহ্নিত হয়েছে, যা বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।


বিজ্ঞাপন


মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, তামাকজাত দ্রব্যের দুর্বল মোড়কজাতকরণ, উৎপাদনের তারিখ না থাকা এবং তামাক কোম্পানির জবাবদিহিতার অভাবই আইন বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায়। এসব অনিয়ম কমাতে তামাকজাত দ্রব্যের স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালু করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার একটি কার্যকর উপায়। গবেষণায় উঠে আসা অনিয়মগুলো দ্রুত সমাধান না হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হবে। তিনি জানান, নতুন অধ্যাদেশটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন বলেন, বাজারে প্রচলিত তামাকজাত দ্রব্যের মধ্য থেকেই একটি নমুনাকে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তামাক কোম্পানিগুলোর জন্য এটি বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালু হলে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে কর আদায়ও সহজ হবে।

বিএসটিআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্যাকেটজাত সব পণ্যের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ তামাক কোম্পানির নিবন্ধন নেই। তামাক কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে আইন বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ বলেন, ২০১৬ সালে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা চালু হওয়ার পর থেকেই গত এক দশক ধরে তামাক কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে আইন লঙ্ঘন করে আসছে। আইনে মোড়কের উপরের অংশে সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নিচের দিকে দেওয়া হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. বজলুর রহমান বলেন, আইন থাকলেও কার্যকর বাস্তবায়ন না হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়। সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা পুরোপুরি কার্যকর করতে স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং প্রবর্তনের পাশাপাশি কঠোর মনিটরিং ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনায় তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। তারা দ্রুত অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাশ করা, আইনের প্রয়োগ জোরদার, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং আইন লঙ্ঘনকারী তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এএইচ/এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর