মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

হাসপাতাল থেকে ভোটের মাঠে ৪৬ চিকিৎসক

সাখাওয়াত হোসাইন
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

হাসপাতাল থেকে ভোটের মাঠে ৪৬ চিকিৎসক
হাসপাতাল থেকে ভোটের মাঠে ৪৬ চিকিৎসক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটের উত্তাপও তত বাড়ছে। শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। তালিকাতে নাম আছে কয়েকজন চিকিৎসকেরও। তাদের বেশিরভাগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একজন। এদের মধ্যে আছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও। সবমিলিয়ে এবার ৪৬ জন চিকিৎসক ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন।

ভোটে যেসব চিকিৎসক অংশ নিচ্ছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে। নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়বেন ২০ জন।


বিজ্ঞাপন


দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ১৩ চিকিৎসক। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ১০ চিকিৎসক। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ২ চিকিৎসক। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন যারা

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া চিকিৎসকরা হলেন- অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (দিনাজপুর ৬), ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর ৩), ডা. আনোয়ারুল হক (নেত্রকোনা ২), ডা. মইনুল হাসান সাদিক (গাইবান্ধা ৩), ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন (ময়মনসিংহ ৭), ডা. কে এম বাবর (গোপালগঞ্জ ২), ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (ঢাকা ১৯ সাভার), ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন (হবিগঞ্জ ২), ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম (গাইবান্ধা ১), ডা. সানসীলা জেবরীন প্রিয়াংকা (শেরপুর ১), ডা. ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ ৪), ডা. এম.এ. মুহিত সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) ও ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার আংশিক) ডা. আব্দুস সালাম।

জামায়াত থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন যারা


বিজ্ঞাপন


জামায়াত থেকে মনোনয়ন পাওয়া চিকিৎসকরা হলেন- দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), ডা. এসএম খালিদুজ্জামান (ঢাকা-১৭), অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর), অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল), অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রাজশাহী সদর-২ (সদর), ডা. সুলতান আহমেদ বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী), ডা. একেএম ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৯ (চান্দগাঁও, ডবলমুরিং), ডা. আবু বকর সিদ্দিক মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়), ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোবিন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ)।

আরো আছেন- ডা. ফরিদুল আলম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), ডা. শাহাদাৎ হোসেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক), ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা), ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, আংশিক পাচঁলাইশ), ডা. এ কে এম আবদুল হামিদ (টাঙ্গাইল-৬), ডা. এ টি এম রেজাউল করিম চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), ডা. আব্দুল বারী রাজশাহী-৪ (বাগমারা), ডা. আব্দুর রহিম সরকার গাইবান্ধা-৫ (গোবিন্দগঞ্জ), টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ফখরুদ্দিন মানিক ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী)।

ইসলামী আন্দোলন থেকে মনোনোনয়ন পাওয়া চিকিৎসকরা হলেন- ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী (দিনাজপুর-৬), ডা. আক্কাছ আলী সরকার (কুড়িগ্রাম-৩), ডা. মো. ইব্রাহীম খলীল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), ডা. মো. মনিরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), অধ্যাপক ডা. মোস্তফিজুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (ঝালকাঠি-২), ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী (পিরোজপুর-৩), ডা. হারুন অর রশীদ (টাঙ্গাইল-১), ডা. সৈয়দ ইউনুছ আহমাদ (জামালপুর-৫), ডা. নাছির উদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪)।

এনসিপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া দুই চিকিৎসক হলেন-দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. মো. আবদুল আহাদ এবং ময়মনসিংহ-১১ আসনে ডা. জাহিদুল ইসলাম।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করবেন আলোচিত চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। তিন আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মনোনয়ন পাওয়া এসব চিকিৎসক এখন ভোটের প্রচারণায় মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে রাত অবধি তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। হাসপাতাল থেকে ভোটের ময়দানে উপস্থিত হওয়া এই চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছেন। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে জানা যাবে কতজন চিকিৎসক জিতবেন।

কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন: দিনাজপুর-৬ আসনে নির্বাচনে লড়বেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাহিদ হোসেন।

ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু: গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম। দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত থাকা রফিকুল বিএনপির দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। একাধিক মামলায় হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকবার কারাভোগও করেছেন।

অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক: নেত্রকোনা-২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। একজন অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন হিসেবে স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি।

তিনি নর্দার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান এবং ময়মনসিংহ কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের কর্মরত ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক: গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক। মেডিসিনে এফসিপিএস করা ডা. মইনুল হাসান সাদিক শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।

বিএনপির দুঃসময়ে কাজ করেছেন বলে দল তাকে মূল্যায়ন করেছে বলে মনে করেন ডা. মইনুল হাসান সাদিক।

ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন: ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।

ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কৃষিবিদ হাবিবুর রহমানের সন্তান ডা. লিটন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট অন্যতম সদস্য। জাতীয় কবির নামে পূর্ণাঙ্গ এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার ছিল অগ্রণী ভূমিকা।

ডা. কে এম বাবর: সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. কে এম বাবর। বরিশাল মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে একাগ্রচিত্ত বাবর শেবাচিমের ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন: ঢাকা-১৯ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু।

তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৭ সালে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯৯১ সালে দশম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হয়ে আসেন। ১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি সরকারি চাকুরি হতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন: হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন (জীবন)। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

এমবিবিএস অধ্যয়নের সময় তিনি চমেকে ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, জিএস ও ভিপি ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় ইনসার্ভিস ট্রেইনি চিকিৎসক পরিষদের কনভেনার, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) পাঁচবার সদস্য ও একবার প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজ সেবায়ও সমান সরব ডা. জীবন। ৪৩ বছর ধরে এলাকায় দরিদ্র মানুষকে বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ব্র্যাক প্রতিষ্ঠাতা স্যার এফ এইচ আবেদের চাচাতো ভাই।

দলের দুঃসময়ে দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ডা. জীবন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা হয়, যার ১৩টিতেই তিনি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) সংসদীয় আসনে অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়া মনোনয়ন পেয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রাবাস, লাইব্রেরি সমস্যার সমাধান ও পড়ার পরিবেশ নিশ্চিতে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে মিটিংয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে নানা দাবি তুলে ধরেন। তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ড্যাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে ২০১০ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করে স্বৈরাচার সরকার। তিনি গাইবান্ধা জেলা বিএনপির অন্যতম সহ সভাপতি। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সম্মানিত সদস্য।

ডা. সানসীলা জেবরীন প্রিয়াংকা: সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসন থেকে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. সানসিলা।

তিনি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়েছিলেন তিনি, হারিয়েছিলেন চাকরি। তিনি শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে।

ডা. শফিকুর রহমান: ঢাকা-১৫ আসনে লড়বেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি ১৯৭৪ সালে স্থানীয় বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে ১৯৭৬ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে (সিওমেক)। সেখান থেকে ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে তার ছাত্র রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয়। জাসদ ছেড়ে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। শফিকুর রহমান সিওমেক ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং সিলেট শহর শাখার সভাপতি ছিলেন।

১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সিলেট শহর, জেলা ও মহানগরী আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হন তিনি। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের (সদস্য) প্রত্যক্ষ ভোটে আমির নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর ২০২০-২০২২ কার্যকালের জন্য আমির হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর জামায়াতের রুকনদের (সদস্য) ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো আমির হন এবং ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর ২০২৩-২০২৫ কার্যকালের জন্য তিনি আমির হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেন এবং সংগঠনের আমির হিসেবে বহাল আছেন।

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের: কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি অষ্টম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো সদস্য নির্বাচিত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ছাত্র রাজনীতি যুক্ত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য হন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ঢামেক ছাত্রশিবির ও ঢাকা শহর শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢামেকে অধ্যয়নের সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র কেন্দ্রীয় ইউনিয়নের (ঢামেকসু) সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৬-৮৭ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল: সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল। তিনি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য।

অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান: কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের অন্যতম পরিচালক।

অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান: ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হৃদরোগ বিভাগের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ এলাকার সন্তান।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর:  রাজশাহী সদর-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডা. সুলতান আহমেদ: সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন ডা. সুলতান আহমেদ। তিনি আল মানার হাসপাতাল লিমিটিডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।

ডা. একেএম ফজলুল হক: এনডিএফ অফিস সম্পাদকের তথ্যানুসারে, ডা. একেএম ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৯ (চান্দগাঁও, ডবলমুরিং) আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন। চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, উদোক্তা, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হিসেবে সুনাম কুড়ানো ডা. ফজলুল হক চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডা. আবু বকর সিদ্দিক: সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসনে (ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়) জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ডা. আবু বকর সিদ্দিক। তিনি ইউরো বাংলা হার্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোবিন: চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মোবিন। তিনি ১৯৭৯ সিলেট এমএ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ডা. মোবিন ছিলেন সিওমেকের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ডা. ফরিদুল আলম: চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে লড়বেন ডা. ফরিদুল আলম। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ: যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। প্রতিথযশা শিশু হৃদরোগ ও ইনটেনসিভ কেয়ার (আইসিইউ) বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদ যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম শরীফ হোসেনের ছেলে।

ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের: চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চাঁন্দগাও, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. মুহাম্মদ আবু নাছের।

ডা. এ কে এম আবদুল হামিদ: টাঙ্গাইল-৬ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এ কে এম আবদুল হামিদ। তিনি ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী লুৎফুন নাহার টাঙ্গাইল ধলেশরী হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান।
ডা. এসএম খালিদুজ্জামান: ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। তিনি বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

ডা. এ টি এম রেজাউল করিম: চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। তিনি চট্টগ্রাম পার্কভিউ হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং রাজধানীর ম্যাক্স ড্রাগ লিমিটেডের চেয়ারম্যান। করোনা মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই অর্থোপেডিক সার্জন। এর সুবাদে এলাকায় 'কোভিড যোদ্ধা' হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

ডা. আব্দুল বারী: রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল বারী। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর নিজের প্রতিষ্ঠিত ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন। ডা. আব্দুল বারী তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ এবং সমৃদ্ধ ও সম্প্রীতির বাগমারা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

ডা. আব্দুর রহিম সরকার: গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকারকে গাইবান্ধা-৫ (গোবিন্দগঞ্জ) থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।

ফখরুদ্দিন মানিক: ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ফখরুদ্দিন মানিক। তিনি সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন।

ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি: টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন পেয়েছেন বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। এলাকায় গরিবের ডাক্তার খ্যাত আবদুল্লাহিল কাফি জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলে মনে করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এসএইচ/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর