রাজধানী ঢাকায় প্রিয়জনের দাফন কখনোই সহজ ছিল না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কবরস্থান ব্যবস্থাপনা, কবর সংরক্ষণ এবং খনন-দাফনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত কবরের ক্ষেত্রে উচ্চ ফি সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক পরিবার দীর্ঘদিন কবর সংরক্ষণ করতে চাওয়ায় কবরস্থানে নতুন দাফনের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে। এই জায়গা সংকট সামাল দিতেই কবর সংরক্ষণ ফি বাড়ানো হয়েছে। তবে বাস্তবে এই ফি বৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন কবরস্থানে রেজিস্ট্রেশন, খনন ও দাফনের সরকারি হার তুলনামূলকভাবে কম। তবে বাস্তব খরচ অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অঞ্চলভেদে রাজধানীতে একটি কবরের সর্বোচ্চ খরচ পৌঁছে গেছে দেড় কোটি টাকা। এটি নির্ধারিত সময়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই সময়ের হিসাব করলে প্রতি মাসে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এই কবর আগে বিক্রি হতো ৪৫ লাখ টাকায়। তবে শুধু টাকা থাকলেই পাওয়া যায় না; ভালো জায়গা পেতে প্রয়োজন হয় উচ্চপর্যায়ের তদবির। মাসিক ভাড়া দিলেও নির্ধারিত মেয়াদ শেষে একই কবরে অন্য কাউকে দাফন করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সিটির আওতায় বর্তমানে ছয়টি কবরস্থান পরিচালিত হচ্ছে। সেগুলো হলো বনানী কবরস্থান, উত্তরা ৪নং সেক্টর কবরস্থান, উত্তরা ১২নং সেক্টর কবরস্থান, উত্তরা ১৪নং সেক্টর কবরস্থান, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এবং রায়ের বাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান।
বিজ্ঞাপন

প্রতিটি কবরস্থানের মোট জায়গার সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, যেখানে বিশেষ অনুমোদনক্রমে স্থায়ী বা সীমিত মেয়াদের জন্য কবর সংরক্ষণ করা সম্ভব। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) অংশ সাধারণ এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিটি মৃতদেহ দাফনের জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। দরিদ্র বা অসহায় পরিবারের জন্য ফি ১০০ টাকা নেওয়া হয়। দাফনের সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।
ডিএসসিসি বলছে, নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত কবরের স্থায়ী সংরক্ষণ করতে হলে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কবর সংরক্ষণে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর বিষয়টি কবর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সিটি করপোরেশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংরক্ষণ ফি জমা দিয়ে কবর সংরক্ষণ করা যাবে।

সংরক্ষিত কবরের সর্বোচ্চ মেয়াদ এককালীনভাবে ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। সংরক্ষণ মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নবায়ন ফি পরিশোধসাপেক্ষে মেয়াদ বাড়ানো যাবে। কবরের পরিমাপ সংরক্ষিত কবরের জন্য সর্বোচ্চ ৮ ফুট, সর্বনিম্ন ৪ ফুট এবং উচ্চতা ৩ ফুট পর্যন্ত নির্ধারিত। সংরক্ষিত কবরের উপর পুনঃকবর দেওয়ার ক্ষেত্রে বনানী কবরস্থানে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য কবরস্থানে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পুনঃকবর শুধু মৃত ব্যক্তির স্বজনদের জন্য অনুমোদিত।
আরও পড়ুন
চলাচলে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ‘কালো জঙ্গল’
ডিএসসিসি জানায়, কবর স্থানান্তর, দান বা বিক্রয় কোনোভাবে অনুমোদিত নয়। সাধারণ এলাকায় সংরক্ষিত কবরের সুযোগ সীমিত; তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত বরেণ্য ব্যক্তির কবর সাধারণ এলাকায় হলেও সংরক্ষণযোগ্য হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আলাদা সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যেকোনো কবরস্থানে কবর সংরক্ষণ করা সম্ভব।

উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত বনানী কবরস্থান চালু হয় ১৯৭৩ সালে। ১০ একর আয়তনের এই কবরস্থানে বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার কবর রয়েছে। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এখানে কাউকে কবর দিতে গেলে খরচ হতো প্রায় ১৫ লাখ টাকা। পরে ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত কবরস্থানের জায়গা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ২০০৮ সাল থেকে পুনরায় বিভিন্ন মেয়াদে কবর সংরক্ষণ শুরু করেডিএনসিসি। বর্তমানে এই কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকা দিতে হয়।
কোন কবরের ফি কত
তথ্যসূত্রে জানা যায়, সংরক্ষণের নিয়ম চালু হওয়ার পর ১৫ বছরের জন্য ফি ছিল ২৪ লাখ টাকা, যা গত বছর বাড়িয়ে করা হয়েছে এক কোটি টাকা। ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ ফি ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় কোটি টাকা করা হয়েছে।
উত্তরা ৮নং সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ৭৫ লাখ টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য এক কোটি টাকা। উত্তরা ১২নং সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ৫০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৭৫ লাখ টাকা, উত্তরা ১৮নং সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৫০ লাখ টাকা।
উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে ১৫ বছরের সংরক্ষণ ফি ছিল ৬ লাখ টাকা, যা এখন বেড়ে ৭৫ লাখ টাকা। ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি টাকা। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ফি ছিল ৬ লাখ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ টাকা। ২৫ বছরের জন্য আগে ১১ লাখ টাকা লাগলেও এখন ৭৫ লাখ টাকা দিতে হবে।

মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ ফি ছিল ৬ লাখ টাকা, বর্তমানে ১৫ বছরের জন্য ২০ লাখ। ২৫ বছরের জন্য আগে ১১ লাখ টাকা লাগলেও এখন ৩০ লাখ টাকা দিতে হয়। রায়েরবাজার কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ফি ছিল ৬ লাখ টাকা, বর্তমানে এই কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধনাঢ্য পরিবারের কেউ মারা গেলে প্রিয়জনের কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চান। ফলে কবরস্থানে নতুন দাফনের জায়গা সংকুচিত হয়। এই সংকট সামাল দিতে কবর সংরক্ষণে ফি বাড়ানো হয়েছে। তবে সংরক্ষিত কবরে পুনঃদাফনের জন্য কবরস্থানভেদে নতুন ফি দিতে হয়।
বনানী কবরস্থানে পুনঃকবর ফি ৫০ হাজার টাকা, মিরপুরে ৩০ হাজার টাকা। কবর সংরক্ষণ ফি উচ্চ হলেও বনানী কবরস্থানে জায়গা পেতে হয় উচ্চপর্যায়ের তদবির। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে মিরপুর বা রায়েরবাজারে দাফন করছেন। দাফন শেষ হলেও স্বজনদের ভোগান্তি শেষ হয় না। কবর দেখভাল ও পানি দেওয়ার জন্য নিয়মিত অর্থ দিতে হয়। না দিলে অযত্নে কবরের চিহ্নও হারিয়ে যেতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় বর্তমানে ছয়টি কবরস্থান রয়েছে। এই কবরস্থানে অগ্রিম কবর সংরক্ষণ এখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকলেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং স্থান প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে সীমিত সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ১৫ বা ২৫ বছরের মেয়াদের জন্য কবর সংরক্ষণ করা যায়।
মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রমাণ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তালিকায় নাম থাকা এবং যথাযথ মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিলের মাধ্যমে ১০ বছরের জন্য ফ্রি কবর সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এটি প্রধানত স্বাধীনতা সংগ্রামের অবদান স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
প্রতিটি কবরস্থানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া কবরের সমাহিতকরণের জন্য বাঁশ ও চাঁটাই সরবরাহের দায়িত্বে ইজারাদার থাকেন। দাফনের সরকারি ফি প্রতিটি কবরস্থানে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দৈনন্দিন কার্যক্রম সকাল ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

উত্তরা, বনানী, খিলগাঁও, মিরপুর ও রায়ের বাজার কবরস্থানে খরচের মানও ভিন্ন। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে কবর ফি ৪৫১ টাকা ৫০ পয়সা, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরেও একই ফি ধার্য আছে। বনানী কবরস্থানে কবর ফি ২৩৫ টাকা ৩০ পয়সা, খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে ৪৬৯ টাকা। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ৪৫৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং রায়ের বাজার বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে ৪৮৭ টাকা।
এই খরচের মধ্যে কবর খনন, বাঁশ ও চাঁটাইসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ফি অন্তর্ভুক্ত। তবে সংরক্ষণের মেয়াদ, স্থান প্রাপ্যতা এবং পরিবারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কখনো কখনো অতিরিক্ত খরচও হয়।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন কবরস্থানে দাফনের জন্য সরকার নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র এক হাজার টাকা। এটি মূলত লাশ দাফনের সরকারি আনুষ্ঠানিক খরচ হিসেবে নেওয়া হয়। তবে কবর খনন, বাঁশ, চাঁটাইসহ আনুষঙ্গিক খরচের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হয়। কবরের আকার অনুযায়ী এই খরচ পরিবর্তিত হয়। বড় কবরের ক্ষেত্রে খরচ ৭০৮ টাকা, মধ্যম কবরের জন্য ২০৭ থেকে ৭০৮ টাকা, ছোট কবরের জন্য ২০৮ টাকা এবং মৃতজন্ম কবরের জন্য ২০ টাকা নেওয়া হয়। এগুলো মূলত কবর খনন এবং কবরের নিরাপদ ও সুষ্ঠু অবস্থান নিশ্চিত করার খরচ।
সংরক্ষিত কবরের ক্ষেত্রে খরচ অনেক বেশি। সংরক্ষিত কবরের ফি নির্ধারিত হয় সংরক্ষণের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে। ১০ বছরের জন্য সংরক্ষণের খরচ পাঁচ লাখ টাকা, যা বোঝায় এই কবরটি দশ বছর পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য নিশ্চিত করা হবে। ১৫ বছরের জন্য ফি দশ লাখ টাকা, ২০ বছরের জন্য পনের লাখ টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য বিশ লাখ টাকা। সংরক্ষণের মেয়াদ যত দীর্ঘ হবে, ফিও তার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। এটি মূলত কবরস্থানের সীমিত স্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খরচকে প্রতিফলিত করে।
পুনঃদাফনের ক্ষেত্রে খরচও নির্ধারিত আছে। বনানী কবরস্থানে পূর্বের সংরক্ষিত কবরে পুনঃদাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা, মিরপুর কবরস্থানে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। এটি বোঝায়, যদি কোনো পরিবারের সদস্য একই কবরের মধ্যে পুনরায় দাফন করতে চান, তবে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। সংরক্ষিত কবরের ক্ষেত্রে শুধু অর্থই নয়, পরিবারের সদস্যদের সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য।

উত্তরা ও মিরপুর কবরস্থানে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ ফি বিভিন্ন। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ফি ছিল ছয় লাখ টাকা, যা এখন বাড়িয়ে ৭৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। ২৫ বছরের জন্য ফি এখন এক কোটি টাকা। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ফি ছিল ছয় লাখ টাকা, এখন ৫০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৭৫ লাখ টাকা দিতে হবে। মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের সংরক্ষণ ফি ছিল ছয় লাখ টাকা, এখন ২০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য আগে ১১ লাখ টাকা, বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা। রায়েরবাজার কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ফি ছিল ছয় লাখ টাকা, যা এখন ১০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ১১ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাগরিক সংগঠনগুলো বলছে, কবর সংরক্ষণের নামে অতিরিক্ত ফি সাধারণ মানুষের জন্য অমানবিক চাপ সৃষ্টি করছে। গত বছর বিভিন্ন সংগঠন কবর ও দাফনের ফি কমানোর দাবি তুলেছিল। সরকারি হিসাবে সাধারণ একটি দাফনে রেজিস্ট্রেশনসহ এক থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন
আয়ের সিংহভাগ ‘গিলে নিচ্ছে’ বাড়িভাড়া
আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি ফি কম হলেও ভালো জায়গা পেতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। বাঁশ, খাট ও জায়গা ঠিক করতে গিয়ে কয়েক হাজার টাকা বাড়তি খরচ হয়ে যায়।
জুরাইন এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, শোকের মুহূর্তে দরকষাকষির সুযোগ থাকে না। ফলে নির্ধারিত হারের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হয়।
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, লোকবল সংকটের কারণে অনেক কাজ বাইরে থেকে করাতে হয়। এতে অনানুষ্ঠানিক খরচ বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকার মতো জনবহুল নগরে কবরস্থানের সংকট একটি কাঠামোগত সমস্যা। নতুন কবরস্থান স্থাপন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ ফি-নীতিতে স্বচ্ছতা না এলে দাফনের ব্যয় আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, সাশ্রয়ী ও মানবিক দাফনব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এএইচ/জেবি

