শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

রাজধানীতে ফুটপাত সংকোচন, হুমকিতে পথচারীরা

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

ফুটপাত সংকোচনে হুমকিতে পথচারীরা
কাকরাইল, মগবাজার, কামরাঙ্গীরচরসহ শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ফুটপাত সংকুচিত বা অনেক জায়গায় একেবারে বিলীন হয়ে গেছে। ছবি: ঢাকা মেইল
  • রাজধানীতে ৭৩% সড়ক দুর্ঘটনার শিকার পথচারী

  • ফুটপাতের ৬৮% ন্যূনতম দুই মিটার প্রশস্ততা নেই

  • ডিটিসিএর ‘এসটিপি ২০২৫’ অনুসারে ১০৮ কিলোমিটার ফুটপাত অবৈধ দখলে

  • দোকান ও হকারদের কারণে পথচারীরা সড়কে নামতে বাধ্য হচ্ছেন

  • সংসদ ভবনের সামনের ফুটপাতও পুরোপুরি দখল

ঢাকার রাস্তায় হাঁটার সময় মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। কাকরাইল, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত সংকুচিত করছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ছোট হওয়া ফুটপাতের কারণে পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে; অনেক জায়গায় একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে। শহরের রাস্তাগুলো যেন শুধু গাড়ির জন্য তৈরি, মানুষের জন্য নয়। হাঁটার স্বাধীনতা সীমিত হওয়ায় প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। নগরের পরিকল্পনায় এই ধরনের কাজ কেবল নাগরিক অধিকার হরণের দৃষ্টান্ত নয়, বরং একটি স্থায়ী সমস্যা তৈরি করছে, যা জনজীবনে প্রভাব ফেলছে এবং সামাজিক অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


বিজ্ঞাপন


সম্প্রতি কাকরাইল, মগবাজার, কামরাঙ্গীরচরসহ শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ফুটপাত সংকুচিত বা অনেক জায়গায় একেবারে বিলীন হয়ে গেছে। ফুটপাতের আকার এত ছোট করা হয়েছে যে একজন সাধারণ পথচারীও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন না। অনেক স্থানে ফুটপাতে অবৈধ দখল ও পার্কিং-এর কারণে চলাচল করা যাচ্ছে না। রাস্তার পাশে দোকানগুলো এবং হকাররা ফুটপাতের জায়গা দখল করে মালামাল রাখছে। এতে পথচারীরা সড়কে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানীয় নির্মাণ ও অব্যবস্থার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ফুটপাত। ফুটপাতের পৃষ্ঠ খারাপ, ভাঙা ইট ও টাইলসের কারণে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ। পথচারীরা দৈনন্দিন চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও শিশুদের জন্য চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

 

পথচারীরা বলছেন, ফুটপাতের আকার এত ছোট করা হয়েছে যে একজন মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে না। কিছু এলাকায় ফুটপাত সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে, যা পথচারীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।


বিজ্ঞাপন


রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৭৩ শতাংশ শিকার পথচারী। বিভিন্ন নীতিমালা, যেমন স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) অনুযায়ী পথচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তবে এসব আইন উপেক্ষা করে ফুটপাত সংকুচিত করছে ডিএসসিসি। ফুটপাত এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একজন প্রতিবন্ধী হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে পারবে না, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ সালে রাজধানীর দৈনন্দিন যাত্রার মধ্যে পায়ে হাঁটার অংশ ছিল মাত্র ১৯-২০ শতাংশ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে পৌঁছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশে। অর্থাৎ প্রায় ১৪ বছরে পায়ে হাঁটার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

তবে এই বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নগরের ফুটপাতের মান বৃদ্ধি পায়নি। ঢাকার মোট প্রায় এক হাজার ৮৪০ কিলোমিটার ফুটপাতে মাত্র ৩৩ শতাংশের প্রশস্ততা দুই মিটার বা তার বেশি, যা পথচারীর জন্য আদর্শ। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ফুটপাতের প্রশস্ততা ০.৫ মিটারের কম, ৩৯.৪ শতাংশের প্রশস্ততা এক মিটারের কম, আর ১৭ দশমিক ৪ শতাংশের প্রশস্ততা ১ দশমিক ৫ মিটারের কম। অনেক জায়গায় ফুটপাত সংকুচিত বা ভাঙাচোরা হওয়ায় পথচারীর নিরাপত্তা ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। 

footpath_1
প্রায় ১৪ বছরে পায়ে হাঁটার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।তবে এই বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নগরের ফুটপাতের মান বৃদ্ধি পায়নি। ছবি: ঢাকা মেইল

 

ঢাকার ১৬৩টি ফুটপাতের মধ্যে প্রায় ১০৮ কিলোমিটার অংশ অবৈধ দখলের কবলে আছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এই দখল ফুটপাত ব্যবহারকে আরও সীমিত করেছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজারপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশেপাশে ফুটপাত সংকুচিত হওয়ায় পথচারীদের দৈনন্দিন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নগর পরিকল্পনা ও ব্যবহারেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০০৫ সালে ঢাকার প্রথম পরিবহন নীতিতে ‘পথচারী প্রথম’ নীতির কথা বলা হলেও পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্পে ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজের স্থান কমানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সৈকত এলাকায়ও ফুটপাত সরানো হয়েছে, যার ফলে মানুষের পায়ে চলাচলের সুবিধা আরও সংকুচিত হয়েছে।

২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী বৃহত্তর ঢাকায় দৈনন্দিন যাত্রার মধ্যে প্রায় ৩.৮৭ কোটি ট্রিপ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৮.৩ শতাংশ বা প্রায় ১.৪৭ কোটি ট্রিপ হচ্ছে পায়ে হাঁটার মাধ্যমে। ২০০৯ সালের জরিপে পায়ে চলাচলের অংশ ছিল মাত্র ১৯-২০ শতাংশ। অর্থাৎ, ২০০৯ থেকে ২০২৩-২৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে হাঁটার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির তুলনায় ফুটপাত সংকুচিত হওয়ায় পথচারীরা দৈনন্দিন চলাচলে বিপদের মুখে পড়ছেন।

ফুটপাত সংকুচিত হওয়ার ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে অনেক সময় সড়কে নামছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নাগরিক সমাজ ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের দায়িত্বের অবহেলা হিসেবে ধরা যায়। শুধু পথচারীর নিরাপত্তা নয়, শহরের পরিবেশ এবং নগর পরিচালনার কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকার ফুটপাতে হাঁটার আদর্শ প্রশস্ততা ধরা হয় অন্তত দুই মিটার। তবে শহরের ফুটপাতের প্রায় ৬৮ শতাংশে এই ন্যূনতম মান নেই। অবৈধ দখল, পার্কিং, ভাঙাচোরা দশা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে হাঁটা কঠিন। অন্যদিকে, ঢাকার মানুষের হাঁটার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ডিটিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা মহানগর এলাকার ৩৮ শতাংশ মানুষ হেঁটে গন্তব্যে যান, যা ২০০৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। 

footpath_3
ঢাকার ফুটপাতে হাঁটার আদর্শ প্রশস্ততা ধরা হয় অন্তত দুই মিটার। তবে শহরের ফুটপাতের প্রায় ৬৮ শতাংশে এই ন্যূনতম মান নেই। ছবি: ঢাকা মেইল

 

ডিটিসিএর ‘এসটিপি ২০২৫’ খসড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় বর্তমানে ১ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার ফুটপাত রয়েছে। এর ১০ শতাংশের প্রশস্ততা ০.৫ মিটার বা তার কম। ৩৯.৪ শতাংশের প্রশস্ততা এক মিটারের কম, এবং ১৭.৪ শতাংশের প্রশস্ততা ১.৫ মিটারের কম। আদর্শ মান বা দুই মিটারের বেশি ফুটপাতের পরিমাণ মাত্র ৩৩ শতাংশ। এছাড়া ঢাকার ১৬৩টি ফুটপাতের অন্তত ১০৮ কিলোমিটার অংশ অবৈধ দখলের কবলে আছে। এসব দখলে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পুলিশের অংশগ্রহণ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুটপাত সংকোচনের বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রশাসনের বিবৃতি অনুযায়ী, ঢাকার ব্যস্ত এলাকা যেমন কাকরাইল, মগবাজার ও কামরাঙ্গীরচর পরিদর্শন করা হয়েছে, যেখানে ফুটপাতে চলাচল অনিয়মিত বা সংকুচিত হয়েছে। তারা বলেছে, শহরের ফুটপাত উন্নয়ন ও পথচারীবান্ধব করার জন্য ইতোমধ্যে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়েছে। 

footpath_2
ফুটপাতের আকার এত ছোট করা হয়েছে যে একজন মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে না। ছবি: ঢাকা মেইল

 

সিটি করপোরেশন মনে করছে, ফুটপাতের সঙ্গে ব্যবসা, হকার ও পার্কিং সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব সমাধান করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শহরের ফুটপাত পুনঃস্থাপন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পথচারী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও শিশুদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। শিগগিরই একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

ফুটপাতের বেহাল দশা পথচারীর নিরাপত্তা, শহরের পরিবেশ ও নগর পরিচালনার জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নগরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং রাস্তায় অবৈধ দখল, পার্কিং, ভাঙাচোরা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে হেঁটে চলাচল করা কঠিন। এজন্য নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে অবকাঠামোগত সংস্কার জরুরি। ফুটপাত পুনঃস্থাপন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজধানীর পথচারী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং নগর পরিবেশের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ অপরিহার্য। ঢাকার ফুটপাতকে পথচারীবান্ধব করে তোলা গেলে শহরের চলাচল নিরাপদ, সুস্থ এবং সুষ্ঠু হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীর রাস্তায় ফুটপাত মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ডিএসিসি যেসব এলাকায় ফুটপাত সংকুচিত করছে, তা কেবল প্রাইভেট গাড়ির সুবিধার জন্য। নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই কাজকে বেআইনী এবং নাগরিক অধিকার হরণের অংশ হিসেবে দেখছেন। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজারপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের আশেপাশের ফুটপাত সংকুচিত হওয়ায় পথচারীরা দিনের বেলা চলাফেরায় মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান ঢাকা মেইলকে বলেন, বড় শহরের জন্য ফুটপাথ প্রশস্ত হওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। উন্নত অনেক দেশে যেখানে মানুষের উপস্থিতি বেশি, সেখানে ফুটপাথ প্রায় ৪–৫ মিটার প্রশস্ত থাকে, যা শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেয়। কিন্তু আমাদের শহরে ফুটপাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। শহরের সবচেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি যেখানে, সেই স্থানগুলোতে ফুটপাত সংকুচিত হচ্ছে। গুলশান ও বনানীর মতো এলাকা যেখানে মানুষ কম, সেখানে ফুটপাত বড়, কিন্তু শহরের মধ্যবিত্ত এলাকা, মোড় বা মার্কেটের আশপাশে হকার এবং অবৈধ দখলের কারণে ফুটপাত ব্যবহার করা যায় না। 

footpath_4
ফুটপাতের গুরুত্ব শুধু মানুষের চলাচলের জন্য নয়, এটি নগর পরিকল্পনা এবং শহরের নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য

 

ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ফুটপাতের গুরুত্ব শুধু মানুষের চলাচলের জন্য নয়, এটি নগর পরিকল্পনা এবং শহরের নিরাপত্তার জন্যও অপরিহার্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ফুটপাতকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহারযোগ্য রাখা হচ্ছে না। অবৈধ দখলদারদের কেউ আটকানো হচ্ছে না। যারা নীতি নির্ধারণ করেন, তারা গাড়িতে চড়ে চলাচল করেন, ফুটপাতকে গুরুত্ব দেন না। গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুদিন ফুটপাত ব্যবহারযোগ্য থাকলেও হকাররা আবার ফিরে এসেছে। সংসদের সামনে ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। এখানে হকার বসছে, পুরো এলাকা বাজারে পরিণত হচ্ছে। মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তা ব্যবহার করছে।

এই অধ্যাপক বলেন, রাজধানীর মধ্যবিত্ত এলাকা, মোড় ও মার্কেটের আশপাশে প্রচুর মানুষ থাকে, কিন্তু ফুটপাত সংকুচিত হওয়ায় চলাচল দুরূহ হয়ে গেছে। রাস্তার পাশে হকার ও দোকানদার ফুটপাত দখল করেছে, এবং সরকারি প্রকল্পের নামে ফুটপাত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু পথচারীর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ নয়, নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতাও নির্দেশ করে। ফুটপাত সংরক্ষণ এবং পথচারী-বান্ধব নগর গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্ব অপরিহার্য। নগরের নীতি-নির্ধারকরা যদি এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার না দেন, তাহলে নগরের চলাচল, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শহরের ফুটপাতকে ব্যবহারযোগ্য, নিরাপদ এবং দখলমুক্ত করতে রাষ্ট্রকে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। নাগরিক, পরিকল্পনাবিদ ও প্রশাসনকে মিলিতভাবে শহরের ফুটপাতকে পথচারীবান্ধব করার দায়িত্ব নিতে হবে।

এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর