পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বেড়েছে। কিন্তু এরপরও স্বস্তিতে গন্তব্যে ফিরছেন তারা। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিটি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। ঈদযাত্রায় আজ তৃতীয় দিনে ঢাকা থেকে ৬৯টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন। এর মধ্যে আন্তঃনগর ৪৩টি এবং মেইল ও কমিউটার মিলিয়ে ২৬টি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।
যাত্রীরা বলছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সময় মেনে যেভাবে ট্রেন ছাড়ছে, ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলোতে এই পরিস্থিতি বজায় রাখলে এবার লোকজন স্বাচ্ছন্দ্যেই বাড়ি যেতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
ট্রেন ছাড়ার আগে কথা হয় যশোরের যাত্রী আব্দুর রহমানের সঙ্গে। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, এ বছর দেখলাম প্রতিটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে। আশাকরি ঠিক সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব।
অপর এক যাত্রী রুবেল হোসেন। তিনি খুলনায় যাবেন। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, কমলাপুর এসেছি। টিকিট কেনার ঝামেলা নেই। টিকিট আগেই অনলাইন থেকে নিয়েছি। ট্রেন আসবে, চলে যাব। গ্রামে যাচ্ছি বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করব।
বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুরের ব্রিফিং করেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, আজ ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন। এদিন সবগুলো ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে গেছে, শুধু তিতাস কমিউটার ৪৫ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। ট্রেনটি স্টেশনে আসতে দেরি করেছিল, এজন্য দেরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল (২৭ মার্চ) থেকে বিশেষ ট্রেন চলবে। যাত্রীসেবায় প্রতিবারের মতো এবারও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। স্টেশনের শুরু থেকে গন্তব্যে ট্রেনে পৌঁছানো পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে টিকিট চেকিং করা হচ্ছে।
এদিন সকাল থেকে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ দেখা গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা ছাড়ছেন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। এছাড়া যারা অনলাইনে টিকিট পাননি তারা সরাসরি এসে টিকিট সংগ্রহ করছেন।
রাজধানীর ডেমরা থেকে এসেছেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যাচ্ছি। টিকিট অনলাইনে পাইনি। সরাসরি এখন টিকিট নেব। আজকে যাত্রীদের চাপ তুলনামূলক কম।
জামালপুর যাওয়ার জন্য এসেছে অশীতিপর আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, আমরা অনলাইনে টিকিট কাটতে পারি না। যদি আজকে টিকিট পাই তাহলে বাড়িতে যেতে পারব।

এদিকে, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে কমলাপুর রেলস্টেশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেলের কর্মীরা যাত্রীদের টিকিট যাচাই করে স্টেশনে ঢোকাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় প্ল্যাটফর্মেও যাত্রীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি।
ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে চড়া নিষেধ
ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। সম্প্রতি তিনি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, ‘এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, স্টেশনে কোনো মই ও টুল থাকবে না। আশা করব, ২৭ তারিখ থেকে মই ও টুল আপনারা স্টেশনে দেখতে পাবেন না।’
এছাড়া রেলসচিব বলেন, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা যাবে না। এটা বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। এর আগে আপনারা দেখেছেন, মই ও টুল ব্যবহার করে ছাদে উঠে যেতেন। এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, স্টেশনে কোনো মই ও টুল থাকবে না। আশা করব, ২৭ তারিখ থেকে মই ও টুল আপনারা স্টেশনে দেখতে পাবেন না।’
ঈদযাত্রায় চলবে ১০টি বিশেষ ট্রেন
ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকেট বিক্রি শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ)। গত ২৪ মার্চ ঈদের অগ্রিম টিকেট কাটা যাত্রীরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
এবার ঈদে ১০টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে রেলওয়ে। এসব ট্রেন ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর, ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুর পথে চলাচল করবে। ঈদ উপলক্ষে রেলের বিদ্যমান আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর সঙ্গে আরও ৪৪টি নতুন কোচ যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এমআর/এমএইচটি