সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নানি-দাদিদের সেই বিকেলের নাস্তা, কোথায় হারিয়ে গেল?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

নানি-দাদিদের সেই বিকেলের নাস্তা, কোথায় হারিয়ে গেল?

ব্যস্ত নাগরিক জীবনে সময়ের অভাব এবং আধুনিক রেস্তোরাঁ সংস্কৃতির বিস্তারে আমাদের বিকেলের নাস্তার ধরন অনেক বদলে গেছে। এখনকার ব্যস্ত বিকেলে পিৎজা, বার্গার কিংবা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এক নতুন বাস্তবতা। তবে খুব বেশিদিন আগেও বিকেলের নাস্তা মানেই ছিল ঘরে তৈরি দেশি স্বাদের আয়োজন। নানি-দাদিদের আমলের সেই ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো আজ ধীরে ধীরে প্রাত্যহিক জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

একটা সময় ছিল যখন মেহমানদারি বা ঘরোয়া আড্ডায় ঘরের তৈরি খাবারের বিকল্প ছিল না। মুরালি, খোরমা, নারিকেলের তক্তি কিংবা মালপোয়া ছিল প্রতিটি পরিবারের পরিচিত আয়োজন। বিশেষ করে নকশি পিঠার কারুকাজ ছিল লোকশিল্পেরই এক অনন্য রূপ। সময়ের সাথে সাথে ফাস্টফুড ও প্যাকেটজাত খাবারের সহজলভ্যতায় সেই ধীর-সুন্দর রান্নার ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: গরমে সকালের নাশতায় রাখুন এই খাবার, থাকবেন সুস্থ

অতীতের স্মৃতিমাখা কিছু দেশি নাস্তা

মুরালি ও খোরমা: ময়দা ও চিনির সিরায় তৈরি কুড়মুড়ে নাস্তা, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যেত এবং বিকেলের চায়ের অপরিহার্য সঙ্গী ছিল।
নারিকেলের তক্তি বা বরফি: নারিকেল ও গুড়ের মিশেলে তৈরি এই মিষ্টি ছিল ঘরোয়া মিষ্টান্নের অন্যতম জনপ্রিয় রূপ।
ভাজা চালের নাস্তা: ভাজা চাল, নারিকেল ও গুড়ের মিশ্রণে তৈরি এই খাবার ছিল গ্রামীণ বিকেলের সহজ কিন্তু প্রিয় আয়োজন।
মালপোয়া ও পোয়া পিঠা: তেলে ভাজা ময়দার গোলা ফুলে ওঠার সেই দৃশ্যই ছিল শিশুদের কাছে এক পরম আনন্দের বিষয়।

snaks_past


বিজ্ঞাপন


আধুনিক বাস্তবতায় ঐতিহ্যের গুরুত্ব

ফাস্টফুড সহজলভ্য হলেও ঘরে তৈরি দেশি নাস্তাগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে কৃত্রিম রং বা প্রিজারভেটিভ থাকে না এবং উপকরণের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে থাকে। মূলত এসব শুধু খাদ্য নয়; এগুলো আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক শেকড়ের অংশ।

আরও পড়ুন: চায়ের সঙ্গে যেসব খাবার খেলে মারাত্মক ক্ষতি

ফিরে আসুক সেই স্বাদ: দুটি সহজ রেসিপি

১. কুড়মুড়ে মিষ্টি মুরালি

ময়দা ও তেলের ময়ান দিয়ে তৈরি খামির আঙুলের মতো লম্বা করে কেটে ডুবো তেলে ভাজতে হয়। এরপর ঘন চিনির সিরায় নেড়েচেড়ে শুকিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় দীর্ঘস্থায়ী ও সুস্বাদু মুরালি।

২. নারিকেলের দুধ-চিতই পিঠা

চালের গুঁড়োর চিতই পিঠা তৈরি করে তা নারিকেল ও গুড় মিশ্রিত ঘন দুধে ভিজিয়ে রাখতে হয়। ৫-৬ ঘণ্টা ভিজে থাকার পর এটি হয়ে ওঠে শীতের বিকেলের এক উষ্ণ ঘরোয়া অভিজ্ঞতা।

gemini-2.5-flash-image_Prompt_A_steaming_clay_bowl_filled_with_Dudh-Chitoi_Pitha_traditional

ফাস্টফুড সংস্কৃতির ভিড়ে ঘরে তৈরি নাস্তা ফিরিয়ে আনতে পারে হারানো স্বাদ ও স্মৃতির এক অনন্য পুনর্জাগরণ। ভালোবাসা, সময় আর অসীম ধৈর্যের মায়াবী সমন্বয়ে তৈরি নানি-দাদিদের হাতের সেই পরম যত্নের আয়োজনগুলোই হতে পারে আগামী প্রজন্মের সাথে আমাদের ঐতিহ্যের এক সজীব সেতুবন্ধন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর