মাসিক বা ঋতুস্রাব চলাকালীন পেটে যন্ত্রণা হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এই যন্ত্রণা যদি অতিরিক্ত হয় তাহলে তা অস্বাভাবিক। বেশিরভাগ নারীরই মাসিকের সময় তলপেট ও শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা শুরু হয়। অনেকসময়ে এই যন্ত্রণা এতটাই অসহ্য হয়ে ওঠে, যে পেইনকিলার খেতে বাধ্য হন অনেকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এমন ব্যথাকে ‘ডিসমেনোরিয়া বলে।
প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে এক জন নারী এই সমস্যায় ভোগেন। তাদের কাছের মাসের ওই কয়েকটি দিন দুঃস্বপ্নের মতো লাগে। হটব্যাগ, প্যারাসিটামল খেলেও মেলে না স্বস্তি। যন্ত্রণাদায়ক মাসিকের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কী সেগুলো? চলুন জানা যাক-
বিজ্ঞাপন

১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
হরমোনের ওঠানামা, জরায়ুর সঙ্কোচনের কারণে পেট, তলপেট, কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতেও ব্যথা শুরু হয়। হরমোনের গোলমাল এর কারণে এমনটা হয়।
২. থাইরডের সমস্যা
দীর্ঘ দিন ধরে যারা থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের মাসিক অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। আর মাসিক অনিয়মিত হলেই ব্যথা শুরু হয়।

৩. ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড
ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন মাসিক ঋতুচক্রের সময়ে জরায়ুর আবরণে প্রদাহ তৈরি করে। তখন ফাইব্রয়েড হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ‘ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড’ হলে ঋতুস্রাবের সময়ে অত্যধিক রক্তপাত হয়, যন্ত্রণাও বাড়ে।
আরও পড়ুন-
৪. পিসিওএস
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) থাকলে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যায়। এর কারণে হরমোনের তারতম্যও ঘটে। ফলে মাসিকের সময় নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে।

৫. জরায়ুতে সিস্ট
জরায়ুতে সিস্ট হলেও এমন সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে মেয়েদের সবচেয়ে বড় শারীরিক সমস্যা ‘ওভারিয়ান সিস্ট’। ফলে অনিয়মিত বা অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, অল্প বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব খুব বেদনাদায়কও হয়।
আরও পড়ুন-
মাসিকের ব্যথা কমানোর উপায় কী?
ভিটামিন ডি
এই সময়ে শরীরে ভিটামিন ডি-র জোগান প্রয়োজন। যেকোনো ব্যথা-বেদনা এড়াতে এই ভিটামিন দারুণ উপকারী। ভিটামিন ডি হাড় ও পেশীর ব্যথার সঙ্গেও লড়তে পারে। ঋতুস্রাব চলাকালীন কিছুক্ষণ রোদে গিয়ে দাঁড়ান। উপকার পাবেন। খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি ও ফল রাখুন।

গ্রিন টি, হলুদ
ব্যথা বেশি হলে আদা দিয়ে রঙ চা বা গ্রিন টি খেলে উপকার হবে। ডার্ক চকোলেট খেলেও অনেক সময়ে ব্যথা কমে। খেতে পারেন হলুদ। এটি জরায়ুতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও হলুদ হলো ইস্ট্রোজেনের প্রাকৃতিক উৎস। এটি শরীরে প্রদাহ নাশ করে।
যোগাসন
হরমোনের ওঠানামার জন্যই মাসিকের সময়ে পেটে ব্যথা হয়। তাই হরমোন ঠিক রাখতে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা করে যোগাসন করুন। এতে পেশি শক্তিশালী হয় এবং হরমোন জনিত সমস্যাও কমে যায়। ফলে ঋতুস্রাবের সময়েও অত কষ্ট হয় না।

ঋতুস্রাবের সময়ে ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে যন্ত্রণা কম হয়। খাদ্যতালিকায় রাখুন পালংশাক, কলা, কাঠবাদাম, ডার্ক চকোলেট মতো খাবার। সেসঙ্গে বাদাম ও নানারকম বীজ খান। তাহলে পুষ্টির ঘাটতি কম হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতেই হবে। টাটকা ফলের রস বা সবজির স্যুপ রাখুন রোজকার পাতে।
এনএম




