মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

১০০০ টাকার নোট বাতিল ও ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানো বন্ধে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

১০০০ টাকার নোট বাতিল ও ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানো বন্ধে আইনি নোটিশ
প্রতীকী ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

দেশের অর্থনীতিকে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং কালোটাকার বিস্তার রোধে ১০০০ টাকার নোট বাতিল এবং রিজার্ভ ছাড়া ‘ইচ্ছেমতো’ টাকা ছাপানো বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের স্বর্ণ, রৌপ্য বা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার, ইউরো ইত্যাদি) রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়াই অর্থনীতিতে ক্রমাগত ‘কৃত্রিম টাকা’ সরবরাহ করছে।

এতে বলা হয়, ‘অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির নিয়ম না মেনে ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানোর ফলে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’ অনুযায়ী টাকার নিজস্ব মান বা ক্রয়ক্ষমতা চরমভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে এবং দেশে এক ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে।’

এই মূল্যস্ফীতিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘জীবনধারণের অধিকার’ এর লঙ্ঘন উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, জীবনধারণের অধিকার বলতে কেবল পশুর মতো বেঁচে থাকাকে বোঝায় না, বরং মানুষের মতো মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে বোঝায়। ব্যাকআপ ছাড়া টাকা ছাপিয়ে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরার উপক্রম হয়েছে, যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।

নোটিশে ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে বলা হয়, সাধারণ মানুষ, দিনমজুর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে এত বড় নোটের বাস্তব কোনো প্রয়োজন নেই।

আইনজীবী মামুন নোটিশে উল্লেখ করেন, এই উচ্চমূল্যের নোটটি মূলত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট, কর ফাঁকিবাজ এবং অপরাধীরা তাদের অবৈধ কালোটাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখার জন্যই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে। এটি দেশে একটি ধ্বংসাত্মক ‘ছায়া অর্থনীতি’  তৈরি করেছে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের দুই হাজার টাকার নোট বাতিলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি থেকে কালোটাকার বিস্তার সমূলে উৎপাটন করতে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।

নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

আরএনবি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর