- এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ
- গত অর্থবছরে বাস্তবায়ন হার ছিল ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ
- দুই মাসে ব্যয় ৫ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা
- সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জুলাই ও আগস্টে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এডিপি বাস্তবায়নের এই হার এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন। বড় বরাদ্দ থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্পে ব্যয়ের গতি কম থাকায় সামগ্রিক বাস্তবায়নেও এর প্রভাব পড়েছে। এমনকি পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এ সময়ে এডিপির কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ এডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ অর্থ বাস্তবায়নে রয়েছে ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্প। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৮৬টি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প ২৩টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৯টি এবং নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প ৫৩টি।
এত বড় উন্নয়ন কর্মসূচির বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যয় হয়েছে মোট বরাদ্দের ২ শতাংশেরও কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও এবার বাস্তবায়নের হার কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৫ হাজার ৭১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যয় কমেছে ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
এর আগের বছরগুলোতেও প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার চলতি অর্থবছরের চেয়ে বেশি ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ধারাবাহিকভাবে আগের কয়েক বছরের তুলনায় বাস্তবায়নের হার কমে চলতি অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমেছে।
প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। চলতি অর্থবছরে বিভাগের অধীনে ২০১টি প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে জুলাই-আগস্টে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে বিভাগের বরাদ্দের ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।
অন্যদিকে, বড় বরাদ্দ থাকা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলনামূলক কম। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ২৯ হাজার ৮৪১ কোটি ৭ লাখ টাকা। প্রথম দুই মাসে ব্যয় হয়েছে ৬৬৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ২ দশমিক ২৩ শতাংশ।
বিদ্যুৎ বিভাগের ১৮ হাজার ১০৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১৭ হাজার ৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৮২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতিও কম। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৯ হাজার ৫২০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে দুই মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এদিকে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপির বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অর্থবছরের দুই মাস পার হলেও এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্পে কোনো ব্যয় না হওয়ায় বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে আইএমইডির প্রতিবেদনে এ ব্যয় না হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
তবে কিছু মন্ত্রণালয় তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্দের ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং আইন ও বিচার বিভাগ ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ব্যয় করেছে। ছোট বরাদ্দের কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগেও বাস্তবায়নের হার তুলনামূলক বেশি।
এএইচ/এআর




