সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

এলডিসি উত্তরণে আইনি দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

এলডিসি উত্তরণে আইনি দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনি দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণা, ডিজিটাল সেবা এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

তিনি বলেছেন, এলডিসি উত্তরণের পর কিছু বাণিজ্য সুবিধা হারালেও সব সুবিধা হারাবে না বাংলাদেশ। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য সরকার রোডম্যাপ ও অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে কাজ করছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের আইনি দক্ষতার কিছু ঘাটতি রয়েছে। চীন ও কোরিয়ার মতো দেশগুলো নিজেদের ন্যারেটিভ নিয়েও কাজ করেছে। তাই বাংলাদেশকে একদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও মেধাস্বত্বসহ সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে, অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও জোরদার করতে হবে। সরকার এ ঘাটতি পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসবে, তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার একটি রোডম্যাপ ও অ্যাকশন প্ল্যান করেছে। বেসরকারি খাতের জন্যও একটি খসড়া রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তবে এসব কোনো চূড়ান্ত দলিল নয়, এগুলো ‘লিভিং ডকুমেন্ট’। জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান ও ভালো চর্চাগুলোও এতে বিবেচনায় নিতে হবে।

ব্যবসায়িক স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্ব থাকলেও তা সমাধানে ধারাবাহিক পরামর্শ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ইআরডি সচিব।

সচিব বলেন, সব ধরনের স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গবেষণায় বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরে শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, গবেষণা খাতে সরকারের বরাদ্দের ঘাটতি নেই, বরং অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থও বিভিন্ন সংস্থা ব্যবহার করতে পারছে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানতে পেরেছেন, গবেষণা খাতে বরাদ্দ থাকা অর্থের বড় অংশই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি নেই, কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।

এসএমই খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তার বরাদ্দ ঘোষণা করেছে। তবে এ অর্থ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে এবং ঋণ সহায়তার স্থায়িত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের জন্যও নির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্যবসা ও নাগরিক সেবা সহজ করার বিষয়ে ইআরডি সচিব বলেন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে আইন ও বিধিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। এ সমস্যা কমাতে সরকারি সেবা দ্রুত ডিজিটালাইজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব মান বা ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড’ তৈরি করতে হবে। গার্মেন্টস ও চামড়াজাত পণ্যের মতো পণ্যে বাংলাদেশের একটি গ্রহণযোগ্য মান তৈরি হয়েছে। এ ধারা ধরে রাখতে শিল্প ও একাডেমিয়াকে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হতে হবে।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে প্রথম ২৪ মাসে সুনির্দিষ্ট কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় মাস রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সমন্বিত প্রস্তুতির জন্য। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমপ্লায়েন্স ও রেডিনেস নিশ্চিত করতে হবে।

শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, রাতারাতি সব আইন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কারণ একটি আইনের সঙ্গে অন্য অনেক আইন ও বিধি সম্পর্কিত। তাই বাণিজ্য কাঠামো এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যা বাংলাদেশের জন্য সহনীয় হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর কাছেও গ্রহণযোগ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আইন ও নীতিগুলো মৌলিকভাবে খারাপ নয়, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি রয়েছে। কৃষি, তৈরি পোশাক, ওষুধ, এসএমইসহ প্রতিটি খাতের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নীতিগত সমন্বয়, কার্যকর বাস্তবায়ন ও আর্থিক প্রস্তুতির মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব।

স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক এবং সাবেক ডব্লিউআইপিও একাডেমির কনসালট্যান্ট আতাউল করিম।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর