ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বিমানবন্দরটিতে সৌদি আরবের এই অস্ত্রবাহী সামরিক কার্গো বিমান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবিলম্বে খালি করার নির্দেশনা দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এর কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এরআগে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে এডেন বিমানবন্দর খালি করার আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘এডেন বিমানবন্দরে যারা উপস্থিত আছেন, তাদের এ মুহূর্তে সরে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। এর কারণ সেখানে সৌদি শত্রুদের একটি সামরিক কার্গো বিমানের উপস্থিতি রয়েছে। এই বিমান দিয়ে ইয়েমেনের সন্তানদের হত্যা করার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার একই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এডেনের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিমানবন্দরের একটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হুথিদের সতর্কবার্তার আগেই এডেনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন শহরটির বাসিন্দারা।
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট এবং দেশটির অস্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্র এডেনে অবস্থিত। অন্যদিকে, হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এডেন বিমানবন্দরকে ইয়েমেনের সরকার-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত কয়েক সপ্তাহে এডেন বিমানবন্দরও একাধিকবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ফলে বিমান চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর




