ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। এর ফলে সৌদি আরবের অনুরোধে দেশটির প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দিতে পারবে কায়রো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) মিসরের পার্লামেন্ট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এ অনুমোদন দেয়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে মিসরের এ সিদ্ধান্ত এল।
কায়রোর দাবি, তাদের সামরিক সহায়তার উদ্দেশ্য হবে সৌদি ভূখণ্ড, সীমান্ত, সার্বভৌমত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা; ইয়েমেনে হামলা চালানো নয়। তবে এই পদক্ষেপে ইয়েমেনের সংঘাতে মিসরের সরাসরি সম্পৃক্ততার আশঙ্কা বাড়ছে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অনুরোধ এলে দেশটির ভূখণ্ড ও সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কায়রো।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সহায়তার উদ্দেশ্য ইয়েমেনে হামলা চালানো নয়, বরং সৌদি আরবকে রক্ষা করা। পার্লামেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পরও সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে মিসরের কাছে সেনা চেয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
হুথিদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
এদিকে মিসরের পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুথি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন কার্যত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদিকে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা চলছে, অন্যদিকে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে মিসরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সহায়তা হবে আত্মরক্ষামূলক এবং ইয়েমেনে আক্রমণ চালানোর জন্য নয়।
কী ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে পারে মিসর?
এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এপি জানিয়েছে, মিসর সৌদি আরবকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার জন্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমান দিয়ে সহায়তা করতে পারে। তবে ইয়েমেনে স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মিসর সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি মিসরের রয়েছে উল্লেখযোগ্য বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এর আগে ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে নৌ-সহায়তা দিয়েছিল মিসর। সে সময় লোহিত সাগরের নৌপথ সুরক্ষায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক স্থলসেনাও পাঠানো হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স, এপি
এমএইচআর




