সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধে গোষ্ঠীটিকে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ। ইরানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য এই সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে অংশ নেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ডমার্শাল আসিম মুনির, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
ইরানের পক্ষে আলোচনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের ইরান সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা। বিশেষ করে দেশটির তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্রগুলো আরও বলছে, এই উদ্যোগে ইরানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হুথিদের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ইরান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইরানের মাধ্যমে হুথিদের কাছে ১০০ কোটি ডলার পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকটি কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে তেহরানে পৌঁছান, তাতে ওই অর্থও বহন করা হয়েছিল।
তবে সৌদি কর্মকর্তারা অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরান সফর সম্পর্কে এক বিবৃতিতে জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান উৎসাহিত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করাই সফরের উদ্দেশ্য। বিবৃতিতে হুথিদের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে সৌদির প্রস্তাবিত অর্থের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
ইসরায়েল হায়োম-এর প্রতিবেদনের বলা হয়, প্রায় তিন বছর আগে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগে হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল। নতুন এই প্রস্তাবের মাধ্যমে পুরোনো সেই সমঝোতাগুলোকে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইসরায়েল হায়োম, ইকোনমিক টাইমস
এমএইচআর




