ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যেই সমাবেশস্থল কনট প্লেসের ও আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং ১৪৪ ধারা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দিল্লির নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে।
এরআগে গত বুধবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার বিকেল ৫টায় সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মূলত, দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় কারাগারে পাঠানো প্রতিবাদে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি। জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর নতুন কর্মসূচির জন্য সেন্ট্রাল পার্ককে বেছে নেয় দলটি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই জমায়েতের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমাবেশ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের সভাপতিত্বে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর দিল্লি পুলিশের ডিসিপি (পিআরও) নেহা যাদব গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘শান্তি বজায় রাখতে এবং জীবন, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য কনট প্লেস এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ (১৪৪) ধারা জারি করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কনট প্লেস ও রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের আশপাশে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় পতাকা বহন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য উপযুক্ত স্থানে ১১ জনের একটি ছোট দলকে সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। তবে অনুমতিহীন বড় জমায়েতের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এর আগে সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে আটক করা হয়। পরে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমএইচআর




