শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ডা. জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: ডা. জাহিদ
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ যেন বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়েই মানসম্মত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পান, সে লক্ষ্যে সরকার বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে কাউকে যেন রাজধানীতে ছুটে আসতে না হয়, সেটিও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং আয়োজিত ‘৩২তম জাতীয় সম্মেলন ও ২য় আউটরিচ প্রোগ্রাম বাংলাদেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে এই বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং বিদ্যমান সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সার্বিক দিকনির্দেশনা দেবে। তবে চিকিৎসাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা এবং জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার। রোগীরা যেন দেশেই জটিল ও আধুনিক রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

নবীন চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এ জন্য তাঁদের সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে বক্তারা জানান, বাংলাদেশে মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে লিভার সিরোসিসের অবস্থান সপ্তম। দেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং ৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। রোগটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছালে এক বছরের মধ্যে আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মৃত্যু হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিটিস্ক্যান ও অস্ত্রোপচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বক্তারা। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রেডিয়েশন ঝুঁকি ভাতা চালুর দাবি জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সৈয়দ আওসাফ আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিংয়ের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।

এতে ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এম/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর