গোটা বলিউড টাইগার শ্রফের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় আতংকিত। ভারতীয় পুলিশও একের পর এক অপরাধীকে পাকড়াও করছে। ছাড় দিচ্ছে না তদন্তকারী দল। তাদের তদন্তে এবার উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। শুরুতে হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিলেন আমির খান। কেন তার বদলে জ্যাকি শ্রফপুত্রকে নিশানা করা হলো তাও উঠে এসেছে তদন্তে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌরি স্প্র্যাটকে বিয়েকে কেন্দ্র করে আমিরের ওপর ক্ষুব্ধ হয় লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠী। ভিন্ন ধর্মের নারীকে বিয়ে করে লাভ জিহাদের প্রচার করছেন আমির— দাবি করে সে সময় অভিনেতাকে হুমকিও দেয় বিশ্নোইরা। অভিযোগ তোলা হয়— আমিরের বিয়ে তাঁদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বদলা নেবে বলেও হুশিয়ারি দেয় লরেন্স গ্যাং।

সে সময় সামাজিক মাধ্যমে টাইসন বিশ্নোই এবং আরজু বিশ্নোইয়ের নামে তৈরি অ্যাকাউণ্ট থেকে এক পোস্টে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল, “আমরা, আরজু বিশ্নোই এবং টাইসন বিশ্নোই (লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠী), আমির খানের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আমাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর নামে এই কাজের প্রচার হতে দেখছি। আমরা এসব বরদাস্ত করব না এবং দ্রুত এর উপযুক্ত জবাব দেব। এই কাজ আমাদের সনাতন ধর্ম এবং দেশের বিরুদ্ধে। আমাদের ভাই-বোন এবং দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, যারা এই ঘৃণ্য কাজের প্রচার করবে, তাদের নিজেদের মতো করে উপযুক্ত জবাব দেব। তারকাখ্যাতির আড়ালে যারা এই কাজের প্রচার করছে, তাদের দম বন্ধ করে দেব।”
এরপর থেকেই আমিরকে আক্রমণের সুযোগ খুঁজতে থাকে হামলাকারীরা। গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকে তার। কিন্তু আমির খুব একটা জনসম্মুখে আসেন না। যা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায় অভিনেতার জন্য। বাধ্য হয়ে হাল ছাড়ে হামলাকারীরা। ঘন ঘন বাইরে ঘোরাঘুরি করায় তারা বেছে নেয় টাইগার শ্রফকে।

এরপরই গেল ১৮ অক্টোবর ওত পাতে হামলাকারীরা। টাইগারকে নিশানা করে ছোড়ে গুলি। অল্পের জন্য বেঁচে যান অভিনেতা। তবে আততায়ীর ছোড়া গুলি থেকে রক্ষা পেলেও শরীরের একাধিক স্থানে জখম হয় তার। গুলিবিদ্ধা হন অভিনেতার গাড়িচালকসহ দুইজন। হামলার পরপর দায় স্বীকার করেন গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই।
এদিকে হামলা প্রায় এক সপ্তাহ চলে গেলেও ধাক্কা সামলাতে পারেননি টাইগার। তাই দেননি পুলিশকেও বয়ান। তবে টাইগারের গাড়ির চালক ফেরদৌস বালোচ ও ভ্লগার উমেশ চৌহান বয়ান দিয়েছেন পুলিশের কাছে।
আরআর




