ভারতীয় সিরিয়াল ‘ভুতু’ তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের ঘরের মেয়ে বনে যায় আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়। ছোটপর্দার গণ্ডি পেড়িয়ে সে নাউ ভিড়িয়েছে টলিউডে। অভিষেকেই মুখ দেখিয়েছে দেবের সিনেমায়। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘ওসিডি’। প্রকাশিত ট্রেলারে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানের ছোটবেলার চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। ছবিটিতে কাজের অভিজ্ঞতাসহ নানাবিধ বিষয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা হয়েছে আর্শিয়ার।
‘ওসিডি’তে কীভাবে যুক্ত হলেন?
এই ছবির পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের স্ত্রীর পূজার দিদির সঙ্গে আগে থেকে আমাদের সম্পর্ক ছিল। কয়েকটা কাজের কারণে দেখাও হয়েছিল। তিনিই সৌকর্য দাদাকে আমার কথা বলেন। তারপর আমাকে এই ছবিতে কাস্ট করা হয়।
সিনেমাটিতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
এর আগে দেবের ‘ককপিট’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। তখন অনেক ছোট ছিলাম। সিনেমাতে কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলে ‘ওসিডি’তে হয়েছে। খুব ভালো এক্সপেরিয়েন্স। এই সিনেমার সবাই অনেক গুণী মানুষ। তারা সবসময় আমাকে শিখিয়েছেন। গল্পটাও একেবারে ভিন্ন ধরনের।
বিজ্ঞাপন

জয়া আহসানের ছোটবেলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শুটিং সেটা কখনও দেখা হয়েছে?
একই সিনেমায় অভিনয় করলেও ওনার (জয়া আহসান) সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য এখনও হয়নি। কারণ আমি ওনার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছি। একই স্ক্রিনে ওনার আর আমার কোনো শুট হয়নি। কিন্তু একবার শুটিং সেটে দেখা হয় তখন শুধুমাত্র আলাপ হয়েছে।
চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাই
চরিত্রটি একটু অন্য ধরনের। একটি স্পর্শকাতর টপিক নিয়ে গল্প এগিয়েছে। শিশুদের ওপর যে নির্যাতন হয় সেটা নিয়েই সিনেমা। আমি যে চরিত্রে অভিনয় করছি সেই মেয়েটি ‘ওসিডি’ নামের মানসিক রোগে আক্রান্ত। ছোটবেলায় তার ওপর অনেক অন্যায় নির্যাতন হয়। সে বড় হয়ে প্রতিশোধ নিতে শুরু করে। যে চরিত্রে কাজ করেছি মনে হয় নামটা পরিবর্তন হয়েছে। তখন যে নাম ছিল সেটা হয়তো এখন নেই। তাই নাম বলা ঠিক হবে না। পরে দর্শক খুঁজে পাবে না।

এই চরিত্রে কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
স্পর্শকাতর গল্পে নির্মিত ছবিতে নিজের চরিত্র ঠিকঠাক ফুটিয়ে তোলা আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। এর অন্যতম কারণ, আমি তখন অনেকটা ছোট ছিলাম। আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম। এখন মাধ্যমিকে পড়ি। এখন যেভাবে চরিত্রটা বুঝতে পারি তখন এতটা বুঝতে পারিনি। যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি সেভাবেই করেছি। আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু ছবির পরিচালক, সহ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সবাই আমাকে গাইড করেছেন। যে জায়গাগুলোতে ভুল হয়েছে সবই আমাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। এজন্য আমি ওভারকাম করতে পেরেছি।
শুটিং সেটের কোনো বিশেষ স্মৃতি কী মনে পড়ে?
এই সিনেমায় যিনি আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওঁনার নাম অনিমেশ ভাদুরী। এর আগে ‘ভুতু’ ধারাবাহিকে আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আমি তাঁকে বাবাই বলে ডাকি। সিনেমাতে একটা সিন ছিল যেখানে ওঁনাকে আমাকে একটা চড় মারতে হতো। উনি একদম চড় মারতে চাইছিলেন না। কিন্তু ওই দৃশ্যের জন্য করতে হয়েছে। চড় মারার আগে আমাকে অনেকবার বুঝিয়েছেন। আমার অনুমতি নিয়ে চড় মেরেছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন আমি কি তোকে চড়টা মারব? আমি বললাম ‘হ্যাঁ, সিনেমার জন্য যে দৃশ্যই করতে হবে সব করতে রাজি’। চড়টা মারার পর নিজেই আমার কাছে এসে ক্ষমাও চেয়ে বলেন ‘বাবা তোকে চড় মারতে হলো আমাকে ক্ষমা করে দিস’। এটা ভালো স্মৃতি ছিল।

অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনা কী?
পড়ালেখায় ফোকাস করার জন্য মাঝে কয়েক বছর অভিনয় থেকে একটু বিরতি নিয়েছিলাম। শিগগিরই ‘স্বর্গরথ সরগরম’ নামে একটি ওয়েব সিরিজ ‘প্লাটফর্ম ৮’-এ মুক্তি পাবে। সামনে আমার মাধ্যমিক পরীক্ষা। এরপর আবারও নিয়মিত হতে চাই। ধারাবাহিক, সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ— যাইহোক অভিনয়ের সঙ্গে থাকতে চাই।
নায়িকা হিসেবে কবে দেখা যাবে?
আমার এখনও বয়স কম। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর যখন আরেকটু বড় হব চেহারায় পরিপক্কতা আসবে তখন নিশ্চয়ই নায়িকা হয়ে দেখা দেব। নায়িকা হওয়ার ইচ্ছা তো আমারও আছে। কিন্তু রোমান্টিক চরিত্রে হয়তো আমাকে এখনই নিজেকে দেখাতে পারব না। তাই আরেকটু সময় নিচ্ছি।
ইএইচ/আরআর

