২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যবই বছরের প্রথম দিনে নয়, বরং চলতি বছরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগের দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে বইয়ের মান ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।
তিনি আরও বলেন, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগের দিনই সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। কোনো মুদ্রণপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের বই সরবরাহ করলে তা গ্রহণ না করা যাবে না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বইয়ের কাগজের গ্রেড, বাঁধাইসহ সবকিছু নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী হতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বই সরবরাহ করলেও তা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে প্রতিটি মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষ নজর রাখার অনুরোধ জানাই।
বিগত বছরগুলোতে কিছু মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার এবং সময়মতো বই সরবরাহ না করার অভিযোগ তুলে ধরে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার এসব অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ৯০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর পর সেগুলোর মান যাচাই করে বাকি অর্থ পরিশোধ করা হবে। এবার দরপত্রে বাজারদর অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে অনিয়মের সুযোগ নেই। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনো ধরনের ফাঁকি দিতে না পারে, সেজন্য শিক্ষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।
সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সঙ্গে নিজের এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুল মান্নান শিক্ষক ছিলেন এবং জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন। মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তার অনবদ্য ভূমিকা ছিল।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে মাদরাসা শিক্ষায় সাধারণ শিক্ষার বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গেও মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সময়ে মাদরাসা শিক্ষায় কারিগরি শিক্ষার প্রসারে দাখিল ভোকেশনাল ও আলিম ভোকেশনাল চালু করা হয়। ওই সময়ে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারিত হয়। ফাজিল ও কামিল শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হয়, যা বর্তমানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
মাদরাসা শিক্ষার্থীরা যেন ব্যবসায় শিক্ষা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে কোরআন-হাদিসের জ্ঞান এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদরাসাগুলোকে কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
বর্তমান সরকারের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ও বিএনপি সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার উন্নয়ন, দেশ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শিক্ষিত করে তোলা। এক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।
এম/এফএ




