বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

১১ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদায়নের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

১১ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদায়নের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের ১১ অক্টোবরের মধ্যে পদায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ ব্যাচ’।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের ১১ অক্টোবরের মধ্যে পদায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ ব্যাচ’। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদায়ন না হলে জেলা শিক্ষা অফিসের সামনে লাগাতার অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগের পর দীর্ঘ আট মাস ধরে অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। চাকরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিন দফায় শাহবাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে কর্মসূচি পালন, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, গত ২ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১ অক্টোবর যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সরকারি তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) মাধ্যমেও বিষয়টি প্রচার করা হয়। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ৪ অক্টোবরের পদায়নের তারিখ পরিবর্তন করে ১১ অক্টোবর করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও ছিল নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা। কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় অধিকাংশ স্থানে খাবারের ন্যূনতম ব্যবস্থাও করা হয়নি। এরপরও নিজেদের অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করে তারা পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণও শেষ হয়েছে।

এরপর প্রশিক্ষণের মেয়াদ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি পদায়নের তারিখ ১১ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষকরা প্রশ্ন তোলেন, একটি অফিস আদেশ কতবার পরিবর্তন করা হবে এবং একই ব্যাচের শিক্ষকদের নিয়ে কতবার নতুন সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর আবার কেন প্রশিক্ষণের সময় বাড়ানো হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে শূন্য পদ থাকার পরও কেন পদায়ন আটকে রাখা হচ্ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মাগুরাসহ কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। একই ব্যাচের অন্য জেলাগুলোর ক্ষেত্রে বারবার নতুন তারিখ ঘোষণা করায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই সমন্বয়হীনতার মূল্য ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে আগামীকালের সব ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ৬১ জেলার সব উপজেলায় বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। পাশাপাশি আগামী শনিবার দুপুর ২টায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সব নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের পদায়ন নিশ্চিত করা। এর ব্যত্যয় ঘটলে ১১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে প্রত্যেক জেলা শিক্ষা অফিসের সামনে পদায়ন না পাওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শিক্ষকরা বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং চাকরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত ও নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর ন্যায্য কর্মস্থলে যোগদানের দাবিতে তাদের কর্মসূচি। দীর্ঘদিন বেকারত্বের পর সুপারিশ পাওয়ার পরও আট মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিয়োগ ও যোগদান শেষে প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন তারা। এখন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই তাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

এম/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর