শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

কৃষি উচ্চশিক্ষায় ২২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প, ব্যয়ে কাটছাঁট!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

কৃষি উচ্চশিক্ষায় ২২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প, ব্যয়ে কাটছাঁট!
প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি ব্যয়ে কাটছাঁট করা হয়েছে। ছবি: এআই
  • পরামর্শক খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা
  • কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার আধুনিকায়ন করা হবে
  • শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ফেলোশিপের ব্যবস্থা থাকবে
  • শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও বৃত্তির সুযোগ বাড়বে
  • বিদেশে উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যয় কমেছে ৪০ কোটি টাকা

দেশের কৃষি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে ২ হাজার ২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘স্ট্রেংদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট’ বা ‘সেটেপ’ নামের এই প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি ব্যয়ে কাটছাঁট করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক গবেষণাগার, কৃষি প্রযুক্তি ও শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রস্তাব করা প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩০০ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তবে গবেষণা অনুদান ও শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রমে অন্যান্য সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় চূড়ান্ত করার আগে পরিকল্পনা কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যালোচনায় বেশ কিছু খাত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরামর্শক খাতে বড় ধরনের ব্যয় কমানো হয়েছে। আগে এ খাতে ১৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকলেও পর্যালোচনার পর তা ১৩০ কোটি ৩০ লাখ ৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ এ খাতে প্রায় ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে বিদেশে পূর্ণকালীন পিএইচডি ও মাস্টার্স করার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ রাখার প্রস্তাব ছিল। পর্যালোচনায় বিদেশে পূর্ণকালীন ডিগ্রির পরিবর্তে বিদেশের গবেষণাগারে কাজের সুযোগ এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন পিএইচডির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় ১০০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

বিদেশি প্রশিক্ষণ খাতেও ব্যয় কমেছে। এ খাতে আগের ৩৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রস্তাব কমিয়ে ২৪ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কর্মশালা, সম্মেলন ও সেমিনারের জন্য প্রস্তাবিত ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা কমিয়ে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল রিসার্চ বা ‘বিকার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষির অভিযোজন নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি কেন্দ্রটির গবেষণাগার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ জনগণের জন্যও কিছু সুবিধা উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিকার ভবনের নকশা ও তদারকির পরামর্শক সেবার ব্যয়ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগে এ কাজের জন্য ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ১১ ডলার ব্যয়ের প্রস্তাব ছিল। পর্যালোচনার পর তা কমিয়ে ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ ডলার করা হয়েছে।

গবেষণা কার্যক্রমে শুধু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে না রেখে অন্যান্য সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ডিগ্রি প্রদানকারী বিভাগ ও অনুষদকে যুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ও যৌথ গবেষণা অনুদানের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপে সহায়তার ব্যবস্থাও থাকবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মিলনায়তন ও ক্রীড়া সুবিধা সংস্কার করা হবে। নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব স্যানিটেশন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের জন্য বসার স্থান, রাতের আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও সিসিটিভি স্থাপনের মতো কাজও রাখা হয়েছে। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণাগার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে কৃষি শিক্ষার পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন ও স্বীকৃতি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ থাকবে।

এ ছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ইন্টার্নশিপ, শিক্ষক ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষক বিনিময়, যৌথ ও স্যান্ডউইচ পিএইচডি, গবেষণা ফেলোশিপ ও বৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থা আধুনিকায়ন, ভর্তি ও নিবন্ধন কার্যক্রম ডিজিটাল করা, তথ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষি শিক্ষায় নির্ভুল কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রতিযোগিতা, নমুনা পণ্য তৈরির সুযোগ, বাজারসংযোগ ও কৃষিভিত্তিক নতুন উদ্যোগে প্রাথমিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্যও কার্যক্রম নেওয়া হবে।

প্রকল্পটির বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই প্রথম যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট দ্বিতীয় যাচাই সভায় প্রকল্পটির গুরুত্ব, অগ্রাধিকার, ব্যবহারিক প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নকাল পর্যালোচনা করে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের মতামত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়।

প্রকল্পের জনবল ও পদ সৃষ্টির বিষয়ে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদনের জন্য চলতি বছরের ১১ আগস্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অনুমোদিত প্রকল্পের তালিকাতেও প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন পুনর্গঠিত ডিপিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পের অন্যতম বড় উদ্যোগ বাকৃবিকে কৃষি গবেষণার উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক গবেষণা ও জ্ঞান হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বাকৃবির সঙ্গে দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠক্রম ও একাডেমিক কাঠামো আধুনিকায়ন, গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিক্ষক ও গবেষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু-স্মার্ট ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষি শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগও থাকবে।

বাকৃবিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণার জন্য একটি আধুনিক ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের বিভিন্ন বিষয়ে আধুনিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, ওয়েদার অ্যানালিটিকস, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিকসের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল কৃষি খাত ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষিশিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব এবং গবেষণা-শিল্প-উদ্যোক্তা সংযোগ বাড়ানো হবে। তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রি-স্টার্টআপ, স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা বাড়ানো এবং কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার সম্প্রসারণে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। তবে প্রকল্পের বড় অঙ্কের ব্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনার সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দেশের কৃষি, উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান সক্ষমতার বৈষম্য কমিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত না করে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কৃষি দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমি কমে যাওয়া এবং খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কৃষিতে প্রযুক্তি ও গবেষণার ব্যবহার আরও বাড়ানো জরুরি।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর