শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

শেষ সময়ে জমজমাট সেমাইয়ের বাজার

মহিউদ্দিন রাব্বানি
প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

শেষ সময়ে জমজমাট সেমাইয়ের বাজার
সেমাই শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালি মুসলমানদের ঈদ সংস্কৃতির এক অনিবার্য অনুষঙ্গ

সেমাই ছাড়া যেন ঈদ কল্পনাই করা যায় না। পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকাল মানেই ঘরে ঘরে দুধে ভেজা সেমাইয়ের সুবাস—যার সঙ্গে মিশে থাকে শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক ভালোবাসা আর উৎসবের আনন্দ। দুধ, কিসমিস, বাদাম, আলুবোখরা আর কখনো নারকেলের কুঁচি দিয়ে সাজানো এক বাটি সেমাই যেন ঈদের প্রথম স্বাদ। তাই সেমাই শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালি মুসলমানদের ঈদ সংস্কৃতির এক অনিবার্য অনুষঙ্গ। 

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন জমে উঠেছে সেমাইয়ের বাজার। রমজানের শেষ সপ্তাহে এসে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিভিন্ন মুদি দোকান, সুপার শপে বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও রাস্তার পাশেও সেমাই নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থামছে না এসব কেনাবেচা। বাজারজুড়ে যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ—দোকানির ব্যস্ততা, ক্রেতার কোলাহল আর রঙিন প্যাকেটের সারি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ঈদের আগাম আবহ।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লাচ্ছা, খোলা, রঙিনসহ নানা ধরনের সেমাই সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানগুলোতে। প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাইয়ের ৪০০ গ্রাম ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সেমাই প্রতি কেজি ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে লাল সেমাই মান ও ব্র্যান্ডভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে তেমন অস্থিরতা নেই, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির।

shemai_bazar_ii
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সেমাইয়ের বাজারে অস্থিরতা নেই, যা ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির ব্যবসায়ী রায়হান আহমেদ জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই বেচাকেনা বাড়তে শুরু করে। এখন প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। অনেকে আজ শেষ সময়ে কিনতে এসেছেন। অনেকেই একবারে পুরো ঈদের বাজার করে নিচ্ছেন—সেমাইয়ের সঙ্গে চিনি, পাউডার দুধ, কিসমিস, বাদাম সবই নিচ্ছেন।


বিজ্ঞাপন


রায়হান বলেন, এই সময়টাই আমাদের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভালো বিক্রি হলে অনেকটাই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।  

ক্রেতাদের মাঝেও সন্তুষ্টির ছাপ স্পষ্ট। রাবেয়া বেগম নামে এক গৃহিণী বলেন, ঈদের দিন সকালে সেমাই রান্না করা আমাদের পরিবারের অনেক দিনের রীতি। এবার দাম মোটামুটি সহনীয়, তাই কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই কিনতে পারছি।  

আরেকজন তরুণ ক্রেতা বলেন, শুধু নিজের জন্য না, আত্মীয়দের বাড়িতেও নেওয়ার জন্য কিনছি। সেমাই ছাড়া ঈদের আনন্দটাই যেন অসম্পূর্ণ লাগে।  

শুধু সেমাই নয়, এর সঙ্গে সম্পর্কিত উপকরণগুলোর চাহিদাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চিনি, গুঁড়া দুধ, কিসমিস, কাজুবাদাম, আলুবোখরা—সবকিছুর বিক্রি এখন তুঙ্গে। অনেক দোকানে এসব পণ্যের প্যাকেজও তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা একসঙ্গে সব কিনে নিতে পারেন। এতে সময়ও বাঁচে, ঝামেলাও কমে। 

shemai_bazar
ভারতীয় উপমহাদেশে সেমাই অত্যন্ত জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খাবার, যা মূলত ঈদ-উল-ফিতরসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক। কোনো কৃত্রিম সংকটও তৈরি হয়নি। ফলে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রবণতাও কম। ক্রেতারাও স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন। এ কারণে বাজারে এক ধরনের ভারসাম্য বজায় রয়েছে।

ঈদের আগে এমন জমজমাট বেচাকেনা শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃশ্যও তৈরি করে। বাজারে আসা মানুষদের মুখে হাসি, দোকানিদের ব্যস্ততা আর শিশুদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেমাইয়ের এই জমজমাট বাজার কেবল একটি পণ্যকে ঘিরে নয়, বরং একটি উৎসবকে ঘিরে মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য আর সম্পর্কের গল্প বলে। তাই বলা যায়, সেমাই শুধু ঈদের খাবার নয়—এটি ঈদের আনন্দের প্রথম স্বাদ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলেছে ভালোবাসার বন্ধনে।
 
এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর