বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

মাংসের বাজারে ঈদের ধাক্কা, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মাংসের বাজারে ঈদের ধাক্কা, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সারাদেশে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা আর পরিবারকে ঘিরে নানা আয়োজন। এই আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ মাংস—গরু ও মুরগি। কিন্তু ঈদের আগে সেই মাংসের বাজারেই দেখা দিয়েছে অস্বস্তিকর চিত্র। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মাংসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস এখন কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৭৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বেশিরভাগ দোকানে ৮৫০ টাকাই নেওয়া হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও যে দামে কিছুটা স্বস্তি ছিল, ঈদকে সামনে রেখে তা বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিতে ২৩০ টাকা, যা আগে ছিল প্রায় ২১০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগির দামও এক লাফে বেড়ে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় পৌঁছেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এই মুরগির দাম।

তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে প্রতি ডজন ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা কমে ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। যদিও এই স্বস্তি মাংসের বাজারের চাপে অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

চাহিদার চাপে ঊর্ধ্বমুখী দাম

ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে।


বিজ্ঞাপন


রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকার একটি বাজারে মাংস কিনতে আসা আবুল কালাম বলেন, ঈদের জন্য ভেবেছিলাম টাটকা মাংস নেব। ফ্রিজে রাখা মাংসের স্বাদ থাকে না। কিন্তু এসে দেখি দাম অনেক বেশি। গরুর মাংস ৮৫০ টাকা, ব্রয়লার ২৩০ টাকা—সবকিছুই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

মাছ-মাংসের দামে আগুন, গরিবের ‘ভরসা’ পোল্ট্রি মুরগি-ডিমেও অস্বস্তি

যাত্রাবাড়ী এলাকার রবিন হোসেন বলেন, গরুর মাংস তো আর আমাদের মতো মানুষের জন্য না। এখন ব্রয়লার মুরগিই ভরসা, কিন্তু সেটার দামও বেড়ে গেছে। দুই কেজির মতো মুরগি কিনতেই ৫০০ টাকার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা

মাংস বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে গরু ও মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

Bazar2

এক বিক্রেতা জানান, মাঝারি আকারের গরু কিনতেই এখন অনেক খরচ পড়ে। ভালো মাংস বিক্রি করতে গেলে ৮৫০ টাকার নিচে রাখা সম্ভব না। এর কমে বিক্রি করলে লাভ থাকে না।

অন্যদিকে মুরগি বিক্রেতা আব্দুল হাকিম বলেন, ব্রয়লার কেজিতে মাত্র ১০ টাকা বেড়েছে। তবে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি, তাই এর দাম বেশি বেড়েছে। খরচ বেশি হওয়ায় একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা, ক্ষোভ ক্রেতাদের

ক্রেতাদের মতে, নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে কঠোর নজরদারি থাকলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

আরও পড়ুন

ডিমপ্রতি লোকসান ৩ টাকা, দিশেহারা খামারিরা

একাধিক ক্রেতা জানান, সপ্তাহখানেক ধরেই প্রতিদিন বাজারে গিয়ে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, ভালো খাবার আর আপ্যায়ন। কিন্তু মাংসের এই বাড়তি দামে অনেক পরিবারকেই হিসাব করে চলতে হচ্ছে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তারা বলছেন, ঈদের আনন্দের বড় অংশই এখন ব্যয় হিসাবের ভেতর আটকে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও গরু ও মুরগির মাংসের ঊর্ধ্বগতিতে ঈদের বাজারে চাপ বেড়েছে। কার্যকর নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না এলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমআর/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর