নেত্রকোনার পূর্বধলায় ব্যস্ত বাজারে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগে জেলা তাঁতীদলের সহ-সম্পাদক ও খলিশাউড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাজী সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পূর্বধলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল রাহিদ এই মামলা করেন।
এর আগে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ইচুলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিক বিএনপির সহযোগী সংগঠন তাঁতীদলের জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক। খলিশাউড় গ্রামের মৃত ফজল করিমের ছেলে আবু বকর খলিশাউড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গণসংযোগ করে আসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খলিশাউড় ইউনিয়নের খলাপাড়া (দক্ষিণপাড়া) জামে মসজিদের মাইক কেনার জন্য ইমাম ও মসজিদ কমিটি সম্প্রতি বিভিন্নজনের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকও তাদের গত ১৭ সেপ্টেম্বর চার হাজার টাকা অনুদান দেন।
আরও টাকার দরকার হলে পরদিন কমিটির লোকজন আরেক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার কাছ থেকে আরও পাঁচ হাজার টাকা অনুদান নেন। এটি জানার পর আবু বক্কর সিদ্দিক ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ইচুলিয়া বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে বসে মসজিদের ইমাম ও কমিটিকে ডাকেন। এ সময় তিনি তার অনুদানের চার হাজার টাকা ফেরত চাইলে কমিটির সদস্যরা ফেরত দিয়ে দেন।
টাকা নিয়ে তিনি সামনে এগিয়ে মাছমহলের কাছে বাজারে তার লাগানো নির্বাচনি ব্যানারে কেউ যেন হাত না দেয়— এই মর্মে হুমকি দিতে থাকেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আবু বক্কর সিদ্দিক কোমর থেকে একটি পিস্তল বের করে উঁচিয়ে ধরেন এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। হঠাৎ গুলির শব্দে বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক দৌড়াতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে আবু বক্করকে তার লোকজন সেখান থেকে নিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পাশাপাশি আবু বকর সিদ্দিককে আটক করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালায়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।
মসজিদের ইমাম উমর ফারুক ও মসজিদ কমিটির সহসভাপতি ফজল হক বলেন, প্রথমে আবু বকর সিদ্দিক মসজিদে চার হাজার টাকা অনুদান দেন। পরে গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে আরেক সম্ভাব্যপ্রার্থী মাসুদ মিয়া মসজিদে এলে তার কাছ থেকে মাইক কিনতে পাঁচ হাজার টাকা নেয়া হয়। পরদিন সন্ধ্যার পর আবু বক্কর বাজারের ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার কাপড়ের দোকানে উপস্থিত হয়ে আমাদের ডেকে নিয়ে বলেন, তোমরা টাকার জন্য ব্যবসা শুরু করে দিছ, দেখি কার টাকা বেশি হয়েছে দেখব। তারপর তিনি তার দেওয়া চার হাজার টাকা ফেরত নিয়ে নেন। এরপর কে গুলি করেছে সে বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।
এ বিষয়ে জানতে আবু বক্কর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পর থেকে আবু বকর আত্মগোপনে চলে গেছেন।
তবে আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী গুলি ছোড়েননি। নির্বাচনি মাঠ থেকে তাকে (আবু বক্কর) সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
জেলা তাঁতীদলের সভাপতি সাইফুদ্দীন আহমেদ লেলিন বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আবু বকর সিদ্দিকের নামে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। তাই অস্ত্রটি অবৈধ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ ঘটনায় আবু বকরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেফতার এবং অবৈধ পিস্তলটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/এলএ




