নেত্রকোনার পূর্বধলায় ব্যস্ত বাজারে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা তাঁতী দলের সহসম্পাদক ও খলিশাউড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাজি সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।
তবে তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের দাবি, আবু বকর গুলি ছোড়েননি। নির্বাচনী মাঠ থেকে তাকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে অন্য কেউ গুলি ছুড়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের ইচুলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবু বকরের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, নির্বাচনী মাঠ থেকে আবু বকরকে সরাতেই ষড়যন্ত্র করে এমন নাটক সাজানো হয়েছে। সে গুলি করেনি। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করার দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, ওই দিনের গুলির ঘটনার পরই ইউনিয়নের বিভিন্ন লাগানো শত শত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এটাও প্রতিপক্ষের পরিকল্পনার আরেকটি অংশ।
তবে একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ আলমের দাবি, মসজিদে দানের টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আবু বকর গুলি ছোড়েন। তিনি বলেন, ঘটনাটি সবাই দেখেছেন। এখানে ষড়যন্ত্রের কোনো বিষয় নেই। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খলিশাউড় ইউনিয়নের খলাপাড়া শেখবাড়ী জামে মসজিদে মাইক কেনার জন্য আবু বকর সিদ্দিক চার হাজার টাকা অনুদান দেন। পরে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ আলম একই কাজে পাঁচ হাজার টাকা দেন। এ নিয়ে আবু বকর মসজিদ কমিটির লোকজনের কাছে তার নির্বাচনী অবস্থান ও সমর্থনের বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে তিনি তার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে মসজিদ কমিটি তা ফেরত দেয়। টাকা ফেরত নেওয়ার পর আবু বকর বাজারে তার লাগানো নির্বাচনী ব্যানারে কেউ যেন হাত না দেয়, সে বিষয়ে হুমকি দেন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাজারের মাঝখানে পিস্তল বের করে গুলি ছোড়েন বলে তাদের অভিযোগ। গুলির শব্দে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কারও নাম বলতে পারেননি। তাদের ভাষ্য, গুলির শব্দ তারা শুনেছেন; কিন্তু ওই সময় বাজারে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে কে গুলি ছুড়েছেন, তা তারা দেখতে পাননি।
এদিকে, উপজেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভাবশালী নেতা দাবি করেন, আবু বকর সিদ্দিককে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বের করার জন্য তিনি পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা তাঁতী দলের সভাপতি সাইফুদ্দীন আহমেদ লেলিন আবু বকর সিদ্দিকের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, আবু বকর সিদ্দিক যদি সত্যিই এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, আবু বকর সিদ্দিকের নামে কোনো বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।
প্রতিনিধি/টিবি




