স্পোর্টস ডেস্ক
২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
বল দখলে আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিপক্ষের পোস্টে মুহুর্মুহু শট নেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হলো না। হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা নিজেদের ঘরের মাঠে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলের বিপরীতে কাতালানদের একমাত্র গোলটি করেন রাফিনিহা। মাঠের পরিসংখ্যানে এগিয়ে থেকেও কৌশলগত মারপ্যাঁচ এবং ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় কীভাবে হাতছাড়া হলো ম্যাচটি, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
ম্যাচে প্রায় ৬২ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেছিল বার্সা। রিয়ালের ১০টি শটের বিপরীতে তারা নিয়েছিল ১৮টি শট। তবে গোলের সুযোগ তৈরির দক্ষতায় রিয়াল ছিল অনেক বেশি এগিয়ে। এই পরাজয়ের পেছনে মূলত পাঁচটি বড় কারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-দর্শকদের জন্য অভিনব উদ্যোগ, গ্যালারিতে ফোন কম ব্যবহার করলেই পুরস্কার
আরও পড়ুন-ব্যালন ডি’অর জয়ে কার কত আধিপত্য? দেখুন পূর্ণাঙ্গ তালিকা
প্রথমত, প্রতিপক্ষ কোচের সুনিপুণ কৌশল। বল পায়ে রেখে নিজেদের চিরচেনা ছন্দময় খেলা খেলতে চেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু সুসংগঠিত প্রেস ও দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে তাদের সেই ছন্দ পুরোপুরি ভেঙে দেয় রিয়ালের কৌশলগত রক্ষণভাগ।
দ্বিতীয়ত, রক্ষণভাগের দুর্বলতা। বার্সার ডিফেন্সের দুই পাশের ফাঁকা জায়গার পূর্ণ সুযোগ নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। উইং দিয়ে দ্রুত গতিতে উঠে এমবাপের জন্য গোল করার একাধিক সুযোগ তৈরি করেন সতীর্থরা। যার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে।
তৃতীয়ত, ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা। প্রচুর আক্রমণ শাণালেও গোলবার টার্গেট করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় দেয় বার্সার আক্রমণভাগ। বিশেষ করে প্রথমার্ধে দারুণ এক সুযোগ পেয়েও বক্সের কাছ থেকে নেওয়া লামিনে ইয়ামালের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করার চড়া মূল্য দিতে হয়েছে তাদের। মার্ক কুকুরেয়ার কঠোর মার্কিংয়ের কারণেও ইয়ামাল সেভাবে নিজের জাদু দেখাতে পারেননি।
চতুর্থত, মধ্যমাঠে কার্যকারিতার অভাব। ক্যারিয়ারের প্রথম এল ক্লাসিকোয় মাঠে নেমে ৯৬টি পাস দিলেও রদ্রি সেভাবে কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেননি। তার অসংখ্য পাসের মধ্যে রিয়ালের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে পেরেছিল কেবল একটি পাস। এই মিডফিল্ডারের তুলনায় রিয়ালের খেলোয়াড়েরা সুযোগ তৈরিতে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।
পঞ্চমত, ম্যাচের শেষ মুহূর্তের রক্ষণের মারাত্মক ভুল। ৬১ মিনিটে রাফিনিয়ার গোলে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে সমতায় ফিরেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে বল হারিয়ে ফেলে তারা। ৮৭ মিনিটে রিয়ালের সেই দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ আর রুখতে পারেনি বার্সার ডিফেন্স, যা থেকে এমবাপে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি তুলে নেন।