স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট চলাকালীন এক সাক্ষাৎকার নিয়ে অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা তৈরি হয়। স্কাই স্পোর্টসে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটনের নেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান বাবার কারাবাসের অবস্থা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন। এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে ওই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার বন্ধের দাবি এবং মাঠে না নামার হুমকির কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছেলেদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
আরও পড়ুন-ইমরান খানের মুক্তিতে একাট্টা ক্রিকেট দুনিয়া
কাসিম খান দাবি করেছেন, ‘ওরা স্পষ্টতই বাবাকে ওখানে (কারাগারে) মেরে ফেলতে চাইছে। ওরা যতটা সম্ভব গোপনে তাকে চুপ করিয়ে দিতে চায় এবং ধীরে ধীরে তাকে অস্তিত্বহীন করে দিতে চায়।’

পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হওয়ায় এটা সহজ নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যখনই পরিবার কথা বলে, কর্তৃপক্ষ সবকিছু শান্ত হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করে, তারপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ চাপায়, যা বাবার বেঁচে থাকাকে আরও কঠিন করে তোলে।’
আরও পড়ুন-ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, যা বলেছিলেন
পিসিবির প্রতিক্রিয়াকে কাসিম ‘নিজেদেরই বোকা বানানো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সুলাইমান খান জানান, ‘তিনি কিছু প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন, কিন্তু মাঠে না নামার হুমকি দেওয়ার মতো অবিবেচক পদক্ষেপ আশা করেননি।’ তিনি বলেন, ‘একজন সাবেক পাকিস্তানি খেলোয়াড় এবং ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন বসবাসকারী ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সাক্ষাৎকার সরিয়ে ফেলার দাবি পিসিবির কাজের মধ্যে পড়ে না। এটা রাজনীতি নয়, মানবিক বিষয়।’

পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বারবার অস্বীকার করে আসছে যে ইমরান খানের সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার হচ্ছে। তারা বলছে, তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন। তবে সুলাইমান প্রশ্ন তুলেছেন এই আশ্বাসের ওপর।
আরও পড়ুন- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারতের গাভাস্কারসহ ২১ অধিনায়কের চিঠি
তিনি বলেন, ‘‘পরিবারকে বাবার অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খারাপের খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাহায্যের ভান করছে, যাতে পরে কিছু ঘটলে ‘বুড়ো মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে দায় এড়ানো যায়। শেষ যাচাইযোগ্য তথ্য ছয় মাস আগে বাবার কাছ থেকেই এসেছিল, যখন তিনি চোখের সমস্যা ও তার অবহেলার কথা বলেছিলেন। স্বচ্ছতা না থাকায় এবং পরিবারকে প্রবেশাধিকার না দেওয়ায় এই সব দাবি বিশ্বাস করা কঠিন।’’
এই ঘটনা ক্রিকেট ও রাজনীতির সংযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভির ওপর সমালোচনা বাড়ছে। ইমরান খানের পরিবার দাবি করছে, একাকী কারাবাসের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং কর্তৃপক্ষ তাকে নীরব করতে চাইছে।
এসটি