স্পোর্টস ডেস্ক
০৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, বিজ্ঞান এবং কখনও কখনও নিজস্ব সংস্কৃতির ছোঁয়া। এবারের বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নরওয়ে ফুটবল দলও সেই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতির নজির গড়েছে। দলটির সঙ্গে উড়ে গেছে শত শত কেজি মাছ, পনির এবং নরওয়ের নানা খাদ্যসামগ্রী। শুনতে অবাক লাগলেও এর পেছনে রয়েছে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ফিটনেস ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করার বিশেষ পরিকল্পনা।
আরও পড়ুন-ব্রাজিল না মরক্কো? ম্যাচের আগেই ফল জানিয়ে দিল ‘হাঙর রিতিনিয়া’!
প্রায় তিন দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে যাচ্ছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছে দেশটি। ফলে দলকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড এবং আর্সেনালের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড।
আরও পড়ুন-অবশেষে বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুখবর পেল বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীরা
তবে নরওয়ের প্রস্তুতি শুধু তারকা ফুটবলারদের ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়। দলের পারফরম্যান্সে খাবারের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। খেলোয়াড়দের খাদ্যতালিকা দেখভালের জন্য দলে যুক্ত করা হয়েছে নরওয়ের দুই খ্যাতিমান শেফ আরন এসপেল্যান্ড ও এরিক তুফতেকে। আরন এসপেল্যান্ড ২০২০ সালে নরওয়ের হয়ে কুলিনারি অলিম্পিক জয়ী দলের সদস্য ছিলেন।
আরও পড়ুন-২১ হাজার কোটি টাকার বিশ্বকাপ দল, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে ছাড়াল এই দেশ
বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের শরীরকে সর্বোচ্চ অবস্থায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঠোর অনুশীলন ও টানা ম্যাচের কারণে ফুটবলারদের শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই তাদের জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর, পরিচিত এবং উচ্চমানের খাবার। এই কারণেই নরওয়ে থেকে বিশেষভাবে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেফদের ভাষায়, তারা শুধু খাবার পরিবেশন করতে চান না; বরং খেলোয়াড়দের সামনে এমন খাবার তুলে ধরতে চান যার সঙ্গে তাদের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং আবেগ জড়িয়ে আছে। দেশের কৃষকের উৎপাদিত সবজি কিংবা নরওয়ের সমুদ্র থেকে ধরা মাছের স্বাদ বিদেশের মাটিতেও খেলোয়াড়দের ঘরের অনুভূতি এনে দিতে পারে।
আরও পড়ুন-কান্না, অভিশাপ আরও যত অজনা গল্পে তৈরি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি
এই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে অন্তত ৩০০ কেজি লাল মাছ। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই মাছ ফুটবলারদের জন্য আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। পেশি গঠন, দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধার এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করতে মাছের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
শুধু মাছই নয়, সঙ্গে নেওয়া হয়েছে ১১৬ কেজি বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ বা বাদামি পনির। এটি নরওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য এবং দেশটির খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকলে পরিচিত খাবার খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তি দেয়। বাড়ির স্বাদ ও পরিচিত পরিবেশের অনুভূতি চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা বড় টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে নরওয়ে দলের ঘাঁটি নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবরো শহরে। সেখানে তারা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মরক্কোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে দলটি। এরপর ১৬ জুন ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা নরওয়ের লক্ষ্য এবার শুধু অংশগ্রহণ নয়, নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। সেই লক্ষ্যে ফুটবলারদের পাশাপাশি কাজ করছেন পুষ্টিবিদ, শেফ এবং সহায়ক কর্মীরা। কারণ আধুনিক ফুটবলে সাফল্য নির্ভর করে শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নয়; এর পেছনে থাকে সঠিক পরিকল্পনা, বিজ্ঞানভিত্তিক খাদ্যব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নরওয়ে কতদূর যাবে, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত হলান্ডদের দল যুক্তরাষ্ট্রে শুধু ফুটবল খেলতে যায়নি, তারা সঙ্গে করে নিয়ে গেছে নিজেদের দেশের স্বাদ, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের এক টুকরো অংশও।
এসটি