images

ইসলাম

ঢাকা ছাড়ার সময় এবিট লিউ’র আবেগঘন পোস্ট 

ধর্ম ডেস্ক

২২ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৫৩ পিএম

ঢাকা ছেড়েছেন বিশ্ববিখ্যাত দাঈ ও সমাজকর্মী এবিট লিউ। এ সময় তিনি এক আবেগঘন পোস্ট দেন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে। এতে তিনি লিখেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন , আমি মালয়েশিয়াতে ফিরে যাচ্ছি ৷ আমি আমার অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের মানুষদের প্রতি , আমাকে এত আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা দেওয়ার জন্য ৷ আমি যত দূরেই থাকি না কেন আপনারা সবাই আমার অন্তরে আছেন এবং থাকবেন ৷ আমরা সবাই একটি পরিবার।’

শনিবার (২১ জানুয়ারি) ১১টার দিকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন: নবীগণ যে ৬ বিষয়ের দাওয়াত দিয়েছেন

মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও দাঈ ওস্তাদ ইবিট লিও গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ঢাকায় তিনি খোলা রিক্সায় ঘুরে বেড়ানোর একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ, আই লাভ বাংলাদেশ।’ 

এর আগে বিমানে ওঠে তিনি সবার দোয়া চেয়ে লিখেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি ঢাকা যেতে পারি।’ এরপর বাংলাদেশে আসেন এবং দুদিনের সফর শেষ করেন। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে যতটুকু জানা যায়, তিনি এ দুই দিনের সফরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ধর্মহীনতা থেকে আত্মরক্ষার উপায়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব জনপ্রিয় এই দাঈ একজন নও-মুসলিম। ১২ বছর বয়সে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি ইসলামের দাওয়াতের পথে বেরিয়ে পড়েন এবং যেখানেই সুযোগ পান, সেখানেই দীন প্রচারে নিজেকে বিলীন করে দেন। ছোট-বড় কিংবা ভালো-খারাপ যে কারো কাছে, যেখানে সেখানে ইসলাম ধর্ম প্রচারে তিনি তৎপর থাকেন। 

সম্প্রতি তাঁর এক ভিডিও ভাইরাল হয়। দীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার এক পতিতালয়ে চলে যান তিনি। একজন হুজুরকে পতিতালয়ে দেখে সবাই হতবাক হয়ে যান। তিনি পতিতালয়ে কেন, এই চিন্তায় ডুবে যান উপস্থিত সবাই। মূলত যারা অর্থের বিনিময়ে নিজের ইজ্জত বিলীন করে দেন তাদের সৎপথ দেখানোর জন্য তিনি পতিতালয় প্রবেশ করেন। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, পতিতালয়ের মহিলারা এবিট লিউর দাওয়াতের এক পর্যায়ে কান্না শুরু করে দেন। ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে তারা পর্দায় নিজেদের আবৃত করে নেন। 

আরেকটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, বাজে কাজে জড়িত ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ কিছু তরুণের কাছে যান এবিট লিউ। তাদেরকে ইসলামের বাণী শোনান। তারা এক পর্যায়ে হুজুরের আলোচনায় প্রভাবিত হয়ে পড়েন। তারা নিজেদের ভুল বুঝে কান্না শুরু করলে হুজুর তাদের বুকে জড়িয়ে নেন। এভাবে এবিট লিউ ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। তাঁর এরকম বহু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখে পড়ে। 

আরও পড়ুন: সেলফি আসক্তি নিয়ে ইসলাম কী বলে

মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিত। কারণ কারো বিপদে-আপদের খবর শুনলেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ছুটে চলেন তিনি। এবিট লিউ মূলত একজন মালয়েশিয়ান চাইনিজ মুসলিম। তিনি মালয়েশিয়ার একজন ইসলামি উদ্যোক্তা এবং ধর্ম প্রচারক। তার পুরো নাম-এবিট ইরাওয়ান বিন ইব্রাহিম লিউ। ১৯৮৪ সালের ২১ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। তার পিতার নাম মুয়াডজম শাহে লিউ ইউ পাউ। ১১ জন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। 

তিনি স্কুল (সেকোলাহ) কেবাংসান বুকিত রিদান, সেকোলাহ মেননগাহ কেবাংসান মুয়াডজম শাহ, পাহাং সেকোলাহ মেননগাহ টেকনিক জহুর বারু এবং সেকোলা মেননগাহ কেবাংসান আবদুল রহমান তালিব, পাহাং থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

এবিট লিউ দাতু ডা. হাজী মোহাম্মদ ফাদজিল্লাহ কামসাহ এবং অধ্যাপক হানিম তাহিরের পরিচালনায় এক্সেল প্রশিক্ষণের মোটিভেশনাল স্পিকার। তিনি সকলের প্রেরণাদানকারী, ইসলাম আগামা, ইসলাম ইতু ইন্দাহ, উসরাহ নুরানি এবং আইকেআইএম এবং সিনার রেডিওর নিয়মিত বক্তা।
২০১৫ সালে তিনি ‘মওলিদুর রসুল’ জাতীয় পুরস্কার এবং ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় যুব দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে সমাজ বিনির্মাণে এবং মহামারি করোনার সময়ে মানব কল্যাণে বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় যুব দিবসের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তানশ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।

এছাড়াও মানব কল্যাণে অবদান রাখায় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময় তিনি একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।