ধর্ম ডেস্ক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
মানুষের আয়ু সীমিত, অথচ তার আশা-আকাঙ্ক্ষার যেন শেষ নেই। জীবনের পথে একের পর এক বিপদও আসে। মানুষের সীমিত আয়ু, দীর্ঘ আশা এবং জীবনের নানা বিপদকে বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (স.) একদিন সাহাবিদের সামনে একটি চিত্র এঁকে তার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে নবীজির (স.) অসাধারণ প্রজ্ঞা ও পাঠদান পদ্ধতির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।
নিজের ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একদিন একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন। এরপর চতুর্ভুজের মাঝখানে একটি রেখা টানলেন, যা চতুর্ভুজ অতিক্রম করে ওপরের দিকে উঠে গেল। মাঝের রেখার দুপাশ থেকে আরও কয়েকটি ছোট রেখা টানলেন। এর কিছু কিছু মাঝের রেখাকে স্পর্শ করল।
এরপর রাসুলুল্লাহ (স.) এসব রেখার মাধ্যমে মানুষের জীবন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন। শায়খ আহমাদুল্লাহর বর্ণনায়, চতুর্ভুজের মাঝের রেখাটি মানুষকে বোঝায়। চতুর্ভুজটি তার আয়ু, যা তাকে ঘিরে রেখেছে। চতুর্ভুজের বাইরে চলে যাওয়া রেখাটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আর ছোট ছোট রেখাগুলো মানুষের বিপদাপদের প্রতীক।
আরও পড়ুন: জীবনে অন্তত একবার নবীজির সীরাত পড়ুন: শায়খ আহমাদুল্লাহ
তিনি লিখেছেন, মানুষ জীবনের একটি বিপদ এড়িয়ে যেতে পারলেও অন্য কোনো বিপদ তাকে আক্রমণ করতে পারে। সেটি এড়াতে পারলে আরেকটি বিপদ সামনে আসতে পারে।
এই চিত্রকল্পের সঙ্গে মানুষের বাস্তব জীবনের সম্পর্ক তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, মানুষ সুনির্দিষ্ট এক আয়ুর বৃত্তে বন্দি। অথচ এই সীমিত জীবনেই সে এমন সব স্বপ্ন দেখে, যেখানে পৌঁছাতে হলে আয়ুর রেখা অতিক্রম করতে হয়। সেই স্বপ্নের বন্দরে জীবনতরী নোঙর করার আগেই মৃত্যু এসে মানুষের পথ রোধ করে দাঁড়াতে পারে।
সহিহ বুখারিতে বর্ণিত এই হাদিসের কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, এটি যতবার পড়েন, ততবার নবীজির (স.) প্রজ্ঞা ও পাঠদান পদ্ধতি দেখে বিস্মিত হন। ক্ষণস্থায়ী জীবন, জীবনের চাওয়া-পাওয়া এবং নিত্যসঙ্গী বিপদ-আপদ বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (স.) কী চমৎকার এক চিত্রকল্পের আশ্রয় নিয়েছেন, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের নিগূঢ় রহস্য ছবি এঁকে এর চেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব কি না, তা ভাবার বিষয়।
আরও পড়ুন: প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো আত্মার: যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
প্রায় পনেরশ বছর আগে মরুভূমির রুক্ষ মাটিতে যেসব মরুচারীর সামনে রাসুলুল্লাহ (স.) এই চিত্র এঁকেছিলেন, সেই সময়ের স্মৃতি ও শিক্ষাকে তাঁরা আজীবন হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শিক্ষকসুলভ গুণের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের নবীজি (স.) প্রকৃত অর্থেই সর্বকালের সেরা শিক্ষক ছিলেন।’ শ্রোতাদের মনস্তত্ত্ব তিনি যেভাবে অনুভব করতে পারতেন, তা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব ছিল না।
সবশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, হাদিস পাঠের অভিজ্ঞতায় এই বর্ণনাটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অসামান্য প্রজ্ঞার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে সব সময়।
তথ্যসূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পোস্ট; সহিহ বুখারি