সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো আত্মার: যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো আত্মার: যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
ফাইল ছবি

শৈশবের মাদরাসা জীবনের এক দরিদ্র লজিং পরিবারের স্মৃতি তুলে ধরে হৃদয়স্পর্শী একটি পোস্ট করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি লিখেছেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল না হয়েও একটি হতদরিদ্র পরিবার যেভাবে একজন অচেনা মাদরাসাছাত্রের খাবারের দায়িত্ব নিয়েছিল, সেই স্মৃতি আজও তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, তাঁর বয়স তখন ১১-১২ বছর। তিনি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার দোয়ালিয়া গ্রামের একটি মাদরাসায় কিতাব বিভাগের প্রথম দিকের শ্রেণিতে ভর্তি হন। সে সময় গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের লজিংয়ে রেখে পড়াশোনার প্রচলন ছিল। তিনিও একটি লজিং বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।

তিনি লিখেছেন, তাঁর বাবা মাদরাসার বোর্ডিংয়ের খাবারের খরচ বহন করতে সক্ষম ছিলেন। তবে বোর্ডিংয়ের তুলনায় লজিং বাড়ির খাবার কিছুটা ভালো হওয়ায় তিনি সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করলে অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় যেসব পরিবার শিক্ষার্থীদের লজিংয়ে রাখতেন, তাঁদের অধিকাংশই সচ্ছল ছিলেন না। বরং বাবা-মায়ের আদর ছেড়ে দূর থেকে পড়তে আসা একটি নাবালক শিক্ষার্থীর খাবারের দায়িত্ব নেওয়াকে তারা নিজেদের কর্তব্য মনে করতেন এবং ভালোবেসেই সেই দায়িত্ব পালন করতেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশেষভাবে একটি দরিদ্র পরিবারের কথা স্মরণ করেন, যাদের বাড়ি ছিল বাঁশের বেড়া দেওয়া একচালা টিনের ঘর। একটু জোরে বাতাস হলেই ঘর নড়বড় করে উঠত। দিনের বেলায় বেড়ার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ত। অনেক সময় তিনি মেঝেতে বসে খাবার খাওয়ার সময় সেই আলো তাঁর মুখের ওপর এসে পড়ত।

তিনি আরও লেখেন, ওই পরিবারের কাছে যখন তাঁর খাবারের পালা আসত, তখন তাঁকে পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে পান্তাভাত এবং সঙ্গে বাড়ির পোষা মুরগির ডিম ভেজে পরিবেশন করা হতো। তখন বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে না পারলেও এখন উপলব্ধি করেন, সেই ডিমই ছিল দরিদ্র পরিবারটির আয়ের অন্যতম উৎস।

বহু বছর আগের সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, একটি হতদরিদ্র পরিবার একজন অচেনা মাদরাসাছাত্রের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, তা ভাবলে আজও তাঁর হৃদয় বিগলিত হয়ে যায়। তাঁর উপলব্ধি, অর্থে গরিব হলেও সেই পরিবারের হৃদয় ছিল অনেক বড়। আর সেই বড় হৃদয়ই তাদের এমন উদার হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

আরও পড়ুন: প্রকৃত যোদ্ধা গড়ে ওঠে প্রতিকূলতায়: তরুণদের উদ্দেশে শায়খ আহমাদুল্লাহ

বর্তমান সমাজের সঙ্গে অতীতের সেই সময়ের তুলনা করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আজ গ্রাম হোক বা শহর- অর্থনৈতিকভাবে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছল। কিন্তু অচেনা কোনো শিক্ষার্থীর দুবেলা খাবারের দায়িত্ব নেওয়া তো দূরের কথা, অনেকেই আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে এলে বিরক্ত হন, আর বিদায় নিলে স্বস্তি অনুভব করেন।

তিনি লিখেছেন, সময়ের পালাবদলে মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বেড়েছে, কিন্তু হৃদয় ততটা বড় হয়নি। ফলে পরার্থপরতা ও ত্যাগের মতো মহৎ গুণের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। আর এ কারণেই বিত্তবান হওয়া সত্ত্বেও মানুষ আত্মিকভাবে প্রকৃত সুখ খুঁজে পাচ্ছে না।

পোস্টের শেষাংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ রাসুলুল্লাহ (স.)-এর একটি হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘ধন-সম্পদ বেশি থাকাই প্রকৃত ধনাঢ্যতা নয়; বরং প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো আত্মার ধনাঢ্যতা।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৪৬; সহিহ মুসলিম: ১০৫১)

এই হাদিসের আলোকে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, প্রকৃত সুখী হতে চাইলে অল্পে তুষ্ট থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, আত্মাকে বড় করতে হবে এবং ভোগের পরিবর্তে ত্যাগের সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর