ঢাকা মেইল ডেস্ক
১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতার ২৯তম আসরে এবার রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। বিশ্বের ১৩৫টি দেশ থেকে মোট ২০ হাজার ৫০০টি আবেদন এসেছে। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার রাখা হয়েছে।
১৪৪৮ হিজরি ২০২৭ সালের এই আসরের নিবন্ধন বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম সম্প্রদায় থেকেও এতে অংশ নিতে আবেদন এসেছে।
দেশভিত্তিক আবেদনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মিসর। দেশটি থেকে আবেদন এসেছে ৬ হাজার ৮৩৮টি। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া ১ হাজার ৯২৩, পাকিস্তান ১ হাজার ৮৬২ এবং সিরিয়া ১ হাজার ৫১১টি।
১৬ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ প্রতিযোগী বিভাগে আবেদন পড়েছে ১৪ হাজার ৪০টি। ১৬ বছরের কম বয়সী ছেলে ও মেয়েদের বিভাগে আবেদন পড়েছে ৬ হাজার ৪৯৫টি। এর মধ্যে মেয়ে প্রতিযোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৪।
আরও পড়ুন: কিং আবদুল আজিজ কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৫ লাখ রিয়াল পুরস্কার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ আয়োজন।
এবার প্রতিযোগিতায় আবেদনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিজ দেশের মাধ্যমে মনোনয়ন বা স্বীকৃত ইসলামিক সেন্টারের সুপারিশের পাশাপাশি সরাসরি আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
২৮তম আসরে শুরু হওয়া একটি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রতিযোগিতার বিভাগ, যোগ্যতার শর্ত, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়।
দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ বিভাগের মহাপরিচালক ও পুরস্কারটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ দারবিশ আল মুহাইরি বলেন, এবারের ব্যাপক অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে কোরআন তেলাওয়াতের প্রতিভাদের কাছে এ পুরস্কারের বিস্তৃত পরিসর তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কারের উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো প্রচলিত কোরআন প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে অসাধারণ কোরআন তিলাওয়াতের প্রতিভাদের জন্য বিশ্বমানের একটি অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরি করা।’
এবার পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ দিরহামের বেশি। ১৬ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং ১৬ বছরের কম বয়সী ছেলে ও মেয়েদের দুই বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রত্যেকে পাবেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন: মক্কার আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৩ দেশের প্রতিযোগী
দুই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীরা পাবেন ১ লাখ ডলার করে। তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য রয়েছে ৫০ হাজার ডলার করে পুরস্কার।
এ ছাড়া ‘গ্লোবাল কোরআনিক পার্সোনালিটি’ বা বৈশ্বিক কোরআনিক ব্যক্তিত্ব পুরস্কারের অর্থমূল্যও ১০ লাখ ডলার।
চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্বাচিত কয়েকজন প্রতিযোগীকে রমজান মাসে দুবাইয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তারা শহরের বিভিন্ন বড় মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করবেন।
এরপর জনসাধারণের ভোটে নির্বাচন করা হবে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কোরআন তেলাওয়াত’। এ ভোট ২০২৭ সালের ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে আবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তাজবিদ, কণ্ঠস্বর, তেলাওয়াতের মান ও সামগ্রিক পরিবেশনার ওপর ভিত্তি করে বিচারকরা পরবর্তী ধাপের জন্য প্রতিযোগীদের নির্বাচন করবেন।
দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন পুরস্কারের ২৮টি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১২৩টি দেশের ৭ হাজার ৮২৬ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নিয়েছেন। এ সময়ে ৬ কোটি ৭০ লাখ দিরহামের বেশি পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ