ধর্ম ডেস্ক
১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
মদিনা মুনাওয়ারায় গেলে মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় এবং নবীজি (স.)-এর রওজায় সালাম পেশ করা মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও আবেগঘন বিষয়। মসজিদে নববীতে নামাজের ফজিলত নিয়ে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমার এ মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মসজিদে হারাম ছাড়া অন্যান্য মসজিদে এক হাজার নামাজ আদায় করার চেয়েও উত্তম।’ (বুখারি: ১১৯০)
রওজা জিয়ারতের সময় তাই নবীজি (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার পাশাপাশি কিছু আদব মেনে চলাও জরুরি।
মসজিদে নববীতে প্রবেশের পর সুযোগ হলে তাহিয়্যাতুল মসজিদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন। রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার সুযোগ হলে সেখানে আদায় করতে পারেন। সুযোগ না হলে মসজিদের অন্য জায়গায় নামাজ আদায় করলেও তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় হয়ে যাবে।
এরপর প্রশান্ত মনে ইবাদত করবেন এবং আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবেন।
আরও পড়ুন: মসজিদে নববি ভ্রমণ করুন ঘরে বসেই
রওজায় সালাম পেশের সময় শান্ত ও বিনয়ীভাবে দাঁড়াবেন। উচ্চস্বরে কথা বলা, ভিড় করা কিংবা অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
নবীজি (স.)-এর প্রতি এভাবে সালাম পেশ করতে পারেন-
السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
‘আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান-নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।’
অর্থ: হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
এরপর দরুদে ইবরাহিম পড়তে পারেন। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘কেউ আমাকে সালাম দিলে আল্লাহ আমার রুহ ফিরিয়ে দেন এবং আমি তার সালামের জবাব দিই।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২০৪১)
কেউ যদি আপনাকে নবীজি (স.)-এর কাছে সালাম পৌঁছে দিতে বলেন, তাঁর পক্ষ থেকে সালাম পেশ করতে পারেন। যেমন বলা যায়, ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ, অমুকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি সালাম।’
এ জন্য দীর্ঘ কোনো নির্দিষ্ট বাক্য পড়া জরুরি নয়। আন্তরিকতার সঙ্গে সালাম পেশ করাই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন: উম্মতের সালাম নবীজির কাছে পৌঁছানো হয়
নবীজি (স.)-কে সালাম দেওয়ার পর আবু বকর (রা.)-কে সালাম পেশ করবেন। এরপর ওমর (রা.)-কেও সালাম দেবেন।
আবু বকর (রা.)-কে বলতে পারেন, ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা বকর।’ এরপর তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।
ওমর (রা.)-কে বলতে পারেন, ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া ওমর।’ এরপর তাঁর জন্যও আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর আমল থেকে জানা যায়, তিনি মসজিদে নববীতে এসে নবীজি (স.), আবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.)-কে সালাম পেশ করতেন। (সুনানে বায়হাকি: ৯৬৫৮)
নিজের প্রয়োজন ও মনের কথা আল্লাহর কাছেই বলবেন। দোয়া, সাহায্য প্রার্থনা এবং বিপদ থেকে মুক্তির আবেদন একমাত্র আল্লাহর কাছে করাই ইসলামের শিক্ষা।
রওজায় সালাম পেশের সময় নবীজি (স.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থাকবে। তবে রওজার জালি, দেয়াল বা অন্যকোনো অংশ স্পর্শ করা, চুমু খাওয়া কিংবা তা প্রদক্ষিণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
মসজিদে নববীতে অবস্থানের সময় ভিড় করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, ধাক্কাধাক্কি করা কিংবা উচ্চস্বরে কথা বলা থেকেও বিরত থাকা উচিত। অন্য মুসল্লিদের ইবাদতের সুযোগ করে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: দরুদে ইবরাহিম কি শুধু নামাজের জন্য?
রাসুলুল্লাহ (স.) তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে সফর করার কথা বলেছেন- মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আকসা। (সহিহ মুসলিম: ১৩৯৭)
তাই মদিনায় গেলে মসজিদে নববীতে নামাজ ও ইবাদতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সুযোগ হলে রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় করাও সৌভাগ্যের বিষয়।
রওজায় সালাম পেশের সময় আবেগ থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই আবেগ যেন অন্য মুসল্লির কষ্টের কারণ না হয়। একই সঙ্গে শরিয়তের আদব ও সীমারেখার প্রতিও যত্নবান থাকা জরুরি।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ১১৯০; সহিহ মুসলিম: ১৩৯৭; সুনানে আবু দাউদ: ২০৪১; সুনানে বাইহাকি: ৯৬৫৮