ধর্ম ডেস্ক
০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
আজান ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন (শিআর)। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় মুয়াজ্জিন আজানের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করে। এ মহান দায়িত্ব পালনের ফজিলত সম্পর্কে কোরআন-সুন্নাহয় বহু বর্ণনা এসেছে।
অনেকের মুখে একটি কথা শোনা যায়- টানা ১২ বছর আজান দিলে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। প্রশ্ন হলো, এ কথার ভিত্তি কি সহিহ হাদিসে আছে? ইসলামি শরিয়ত এ বিষয়ে কী বলে?
এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ১২ বছর আজান দেবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। তার প্রতিদিনের আজানের কারণে ৬০টি নেকি এবং প্রতিটি ইকামতের জন্য ৩০টি নেকি লেখা হবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৭২৮; মেশকাতুল মাসাবিহ: ৬৭৮)
হাদিসবিশারদরা এ বর্ণনাটিকে গ্রহণযোগ্য (সহিহ সনদ) বলে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: আজানের কোন দোয়া সহিহ হাদিসে আছে অনেকেই জানেন না
হাদিসে 'জান্নাত ওয়াজিব' বলা হলেও এর অর্থ এই নয় যে, একজন ব্যক্তি অন্য ফরজ-ওয়াজিব আমল ছেড়ে দিলেও শুধু আজানের কারণে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এ ধরনের সুসংবাদ তাদের জন্য, যারা ঈমানের সঙ্গে ইসলামের অন্যান্য ফরজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন এবং কবিরা গুনাহ থেকে তওবা করেন। অর্থাৎ এটি একটি মহান ফজিলতের ঘোষণা, যা একজন মুয়াজ্জিনকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও জান্নাতের সুসংবাদ দেয়।
আজানের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর ঘরের দিকে এবং জামাতে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়। তাই এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘লোকেরা যদি জানত আজান দেওয়া এবং নামাজের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর কী ফজিলত, তারপর যদি লটারি ছাড়া তা পাওয়ার কোনো উপায় না থাকত, তবে তারা অবশ্যই লটারির মাধ্যমে হলেও তা অর্জনের চেষ্টা করত।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৫; সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে একজন মুয়াজ্জিনের মর্যাদা কতটা মহান।
আরও পড়ুন: আজানের আগে নামাজ পড়া যায়?
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের ঘাড় সবচেয়ে দীর্ঘ হবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৭২৫)
আলেমরা বলেন, এর অর্থ হলো- কেয়ামতের দিন তারা বিশেষ মর্যাদা, সম্মান ও পরিচিতি লাভ করবেন।
মানুষ, জ্বিন ও পৃথিবীর সব বস্তু কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের জন্য কল্যাণের সাক্ষ্য দেবে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যেকোনো মানুষ ও জ্বিন অথবা যেকোনো বস্তু মুয়াজ্জিনের কণ্ঠ শুনবে সে কেয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। (বুখারি: ৬০৯) আর যারা তার আজানে সাড়া দিয়ে নামাজে আসে, তাদের কারণে তার জন্যও সওয়াব লেখা হয়।’ (আবু দাউদ: ৫১৫; নাসাঈ: ৬৬৭)
কিছু মানুষের মুখে ৭ বছর আজান দেওয়ার ফজিলতের কথাও শোনা যায়। তবে এ বিষয়ে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা জয়িফ (দুর্বল)। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত ফজিলত হিসেবে কিছু বলা ঠিক নয়। নির্ভরযোগ্য বর্ণনা হলো ১২ বছর আজান দেওয়ার হাদিস।
আজান দেওয়া শুধু একটি দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করার এক মহৎ ইবাদত। তাই যাদের এ দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছে, তাদের উচিত আন্তরিকতা, ইখলাস ও সুন্নাহ অনুযায়ী আজান দেওয়া। একই সঙ্গে মুসলমানদেরও আজানের জবাব দেওয়া, আজানের পরের দোয়া পড়া এবং জামাতে নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আজানের মর্যাদা উপলব্ধি করে তার শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।