ধর্ম ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ও ইবাদতের দিন। কোরবানির মূল শিক্ষা আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম: ১৬২)
ঈদুল আজহার দিন রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অনুসৃত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমলগুলো নিচে দালিলিকভাবে তুলে ধরা হলো।
জিলহজের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব- اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৬৫১)
আরও পড়ুন: তাকবির ও ঈদগাহের আদব: মুমিনের উৎসবের পূর্ণতা
ঈদের দিন মেসওয়াক করা, গোসল করা এবং সাধ্যমতো উত্তম ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা সুন্নত। নতুন পোশাকই হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পুরোনো হলেও পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত হওয়াই মূল উদ্দেশ্য। পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার সুন্নত; তবে নারীদের বাইরে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা জরুরি।
ঈদুল আজহার দিনে নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা এবং নামাজের পর কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম আহার করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (স.) এই আমলটি পছন্দ করতেন। (জামে তিরমিজি: ৫৪২)
কোনো ওজর না থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। এতে বিনয় প্রকাশ পায় এবং পথে তাকবির ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরতেন। (সহিহ বুখারি: ৯৮৬)
যাওয়ার পথে উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা সুন্নত। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯২)
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহার প্রস্তুতি: ছোট্ট এই আমলটি বাড়িয়ে দিন
মসজিদের পরিবর্তে খোলা মাঠ বা ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নত। তবে প্রয়োজনে মসজিদেও নামাজ আদায় করা জায়েজ। (ফতোয়া শামি: ১/৫৫৬)
ঈদের নামাজের পর ইমামের দুটি খুতবা দেওয়া সুন্নত এবং মুসল্লিদের জন্য তা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা উঠে চলে যাওয়া গর্হিত কাজ। (হেদায়া: ২/৭১)
কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম- নিজের পরিবারের জন্য, আত্মীয়স্বজনের জন্য এবং গরিব-মিসকিনদের জন্য। (জামে তিরমিজি)
সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পরকে বলতেন- ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের আমল কবুল করুন।) (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি: ৬২৯৪) এটিই ঈদের সর্বোত্তম অভিবাদন।
আরও পড়ুন: ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন যেভাবে
ঈদের দিনকে কবর জেয়ারতের জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট মনে করা, কোলাকুলিকে বিশেষ সুন্নত ভাবা এবং নতুন পোশাককেই সুন্নত মনে করা- এসব ধারণার শরিয়তে বিশেষ ভিত্তি নেই। কাজগুলো জায়েজ হলেও এগুলোকে ঈদের বিশেষ সুন্নত মনে করা ঠিক নয়।
ঈদের আনন্দের নামে গান-বাজনা, বেপর্দা চলাফেরা বা অশালীনতায় জড়িয়ে পড়া ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরবানির প্রকৃত সার্থকতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওগুলোর গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: ৩৭)
সুতরাং সুন্নাহভিত্তিক আমল, দান-সদকা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ঈদের দিনকে সত্যিকার অর্থে বরকতময় করে তোলাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
সুরা আনআম: ১৬২; সুরা হজ: ৩৭; বুখারি: ৯৮৬; তিরমিজি: ৫৪২; ইবনে মাজাহ: ৯২; সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি: ৬২৯৪; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৬৫১; হেদায়া: ২/৭১; ফতোয়া শামি: ১/৫৫৬