দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুমিনের জীবনে আসে আনন্দের সওগাত পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই খুশির দিনে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ইসলামের সৌন্দর্যমণ্ডিত সামাজিক সংস্কৃতির অংশ। তবে এই শুভেচ্ছা বিনিময় লৌকিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে রাসুল (স.) ও তাঁর সাহাবিদের অনুসৃত সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে করা অধিক সওয়াবের কাজ।
হাদিস ও ইসলামি ফিকহের আলোকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও শিষ্টাচারের দালিলিক রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো-
বিজ্ঞাপন
১. সালামের পর শুভেচ্ছা
ইসলামি আদব অনুযায়ী, যেকোনো কথোপকথনের আগে সালাম দেওয়া উত্তম। তাই ঈদের দিনেও প্রথমে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা উচিত।
আরও পড়ুন: সালাম দিলে কত নেকি লাভ হয়
২. সাহাবিদের অনুসৃত সর্বোত্তম দোয়া
ঈদের শুভেচ্ছার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো দোয়ার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) একে অপরকে বলতেন- ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের (আমল) কবুল করুন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তাঁর ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে এই আমলের উল্লেখ করেছেন।
৩. ‘ঈদ মোবারক’ বলা যাবে কি?
ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো শব্দ বাধ্যতামূলক নয়। তাই ‘ঈদ মোবারক’ বলা জায়েজ। তবে সুন্নাহসম্মত দোয়াটি পাঠ করা উত্তম।
৪. মুসাফাহায় গুনাহ মাফ
ঈদের দিনে দেখা হলে মুসাফাহা (হাত মেলানো) করা উত্তম আমল। হাদিসে এসেছে, দুই মুসলিম সাক্ষাতে মুসাফাহা করলে আল্লাহ তাদের গুনাহ মাফ করে দেন। (আবু দাউদ, তিরমিজি)
আরও পড়ুন: ঈদের নামাজের তাকবির ও নিয়ম
৫. মুয়ানাকা (কোলাকুলি)
দীর্ঘদিন পর সাক্ষাৎ বা ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে মুয়ানাকা করা জায়েজ। তবে এটি ঈদের নির্দিষ্ট সুন্নাহ নয়, বরং সামাজিক রীতি।
মুয়ানাকার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়-
- একবার কোলাকুলি করাই যথেষ্ট
- ডান দিক থেকে ঘাড় মিলিয়ে করা উত্তম
- অতিরঞ্জিত বা প্রদর্শনমূলক আচরণ পরিহার করা উচিত
৬. আধুনিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা
বর্তমানে মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো সাধারণ বিষয়। তবে কপি-পেস্ট বার্তার পরিবর্তে অর্থবহ দোয়া ও আন্তরিক বাক্য ব্যবহার করা ভালো।
আরও পড়ুন: চাঁদরাতে যেসব আমল মিস করবেন না
৭. যা পরিহার করা উচিত
- বেপর্দা পরিবেশে অশোভন মেলামেশা
- অহংকার বা আড়ম্বর প্রদর্শন
- আন্তরিকতাহীন, যান্ত্রিক শুভেচ্ছা
ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হলো বিনয়, ভ্রাতৃত্ব ও তাকওয়া। সাহাবিদের মতো করে একে অপরের জন্য আমল কবুলের দোয়া করার মাধ্যমে যেমন সুন্নাহর অনুসরণ হয়, তেমনি সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিও সুদৃঢ় হয়।
আসুন, এই ঈদে আমরা বলি- ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’। আল্লাহ আমাদের সবার আমল কবুল করুন। আমিন।

