images

ইসলাম

হজ ২০২৬: নিয়ম ভাঙলে জরিমানা ৬-৩২ লাখ টাকা ও নিষেধাজ্ঞা

ধর্ম ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমকে সামনে রেখে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। অনুমতি ছাড়া হজ পালন এবং হজের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার থেকে ৩২ লাখ টাকা) পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে গালফ বিজনেস জানায়, হজ প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জিলকদ থেকে ১৪ জিলহজ পর্যন্ত এই নিয়মগুলো কার্যকর থাকবে।

কার জন্য কত জরিমানা?

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি হজের অনুমতিপত্র (পারমিট) ছাড়া হজ পালন বা এর চেষ্টা করেন, তবে তাকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল (প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা) জরিমানা করা হবে।

একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে যেকোনো ধরনের ‘ভিজিট ভিসা’ ধারীদের জন্য। যদি তারা নির্ধারিত সময়ে (১ জিলকদ থেকে ১৪ জিলহজ) মক্কা নগরী বা হজের পবিত্র স্থানগুলোতে (মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফা) প্রবেশ করেন বা অবস্থান করেন, তবে তাদের ওপর এই জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন: হজের সফরে ধৈর্যের গুরুত্ব

সহায়তাকারীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি

যারা অবৈধভাবে হজ পালনে সরাসরি সহায়তা বা সুযোগ তৈরি করে দেবেন, তাদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি হজের অনুমতি নেই এমন কারো জন্য ভিজিট ভিসার আবেদন করেন, প্রবেশে সহায়তা করেন কিংবা সেখানে অবস্থানের ব্যবস্থা (আবাসন) করে দেন, তবে তাকে ১ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩২ লাখ টাকা) পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, সহায়তাকারী বা আশ্রয়দাতার ক্ষেত্রে এই জরিমানা ‘প্রতি ব্যক্তির হিসেবে’ বহুগুণে বাড়বে। অর্থাৎ, যত বেশি মানুষকে অবৈধভাবে সহায়তা করা হবে, জরিমানার পরিমাণও তত বাড়বে। এছাড়া অবৈধ হাজিদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনটিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ও বহিষ্কার

সৌদি আরবে অনুপ্রবেশকারী, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তি কিংবা সেখানে বসবাসরত বাসিন্দা (রেসিডেন্ট) যে-ই এই আইন অমান্য করবেন, তাকে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে (ডিপোর্ট)। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির ওপর পরবর্তী ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

আরও পড়ুন: হজ ২০২৬: প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা

আপিলের সুযোগ

সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তারা বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। এরপর প্রশাসনিক আদালতে আপিল করার জন্য আরও ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে।

কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, হজের নিয়ম মেনে চলা প্রতিটি হজযাত্রীর জন্য আবশ্যক। সবার জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হজ নিশ্চিত করতেই এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সূত্র: গালফ বিজনেস (এসপিএর বরাতে)