আগামী ২০২৬ সালের পবিত্র হজ উপলক্ষে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হজ পালনের জন্য সামর্থ্যবান মুমিনদের এখন থেকেই নিতে হবে যথাযথ শারীরিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি। আগামী বছরের মে মাসের শেষ দিকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হজের সময়সূচি ও গুরুত্ব
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের হজ শুরু হতে পারে ২৫ মে (৮ জিলহজ)। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা বা আরাফাতের দিন হতে পারে ২৬ মে এবং এর পরের দিন উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।
নিবন্ধন ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া
হজের প্রধান ধাপ হলো সঠিক সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করা। সৌদি আরবের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পাসপোর্ট জমা দিয়ে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়। আবাসনের মান ও যাতায়াত সুবিধার ওপর ভিত্তি করে হজের খরচ ও প্যাকেজ নির্ধারিত হয়।
আরও পড়ুন: হজ ২০২৬: অবশিষ্ট প্যাকেজ টাকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ
বিজ্ঞাপন
হজের ধরন ও আরকান
হজ মূলত তিন ধরনের- তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ। প্রথমবার যারা হজে যাচ্ছেন, তাদের জন্য আলেমগণ ‘হজে তামাত্তু’ পালনের পরামর্শ দেন। মক্কায় প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট ‘মিকাত’ থেকে ইহরাম বাঁধা এবং কাবার তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া পাহাড়ের সাঈ করা হজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না।
শারীরিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি
হজ একটি কষ্টসাধ্য শারীরিক ইবাদত। দীর্ঘ পথ হাঁটার সক্ষমতা গড়তে এখন থেকেই নিয়মিত ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হতে হবে। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হজের নিয়মগুলো ভালোভাবে শেখা এবং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়তকে বিশুদ্ধ করা আবশ্যক। সফরের সময় অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা বা বিবাদে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: হজ ভিসা কার্যক্রম শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি
নবজীবনের পথচলা
হজ একজন মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। হজের প্রতিটি মুহূর্ত হাজিদের জীবনকে কলুষমুক্ত করে নতুনভাবে গড়ে তোলে। যথাযথ প্রস্তুতি ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে পালিত এই পবিত্র সফর একজন মুমিনের জীবনে আত্মশুদ্ধি ও নবজীবনের এক অনন্য সূচনা হয়ে ওঠে।

