ধর্ম ডেস্ক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। পাশাপাশি যাদের রমজানের কিছু রোজা শরয়ি কারণে (অসুস্থতা বা সফর) ছুটে গেছে, তাদের জন্য সেগুলো কাজা করা ফরজ দায়িত্ব। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- একই রোজায় কি রমজানের কাজা রোজা এবং শাওয়ালের রোজার নিয়ত একসাথে করা যাবে? শরিয়তের দলিল ও ফিকহি ব্যাখ্যার আলোকে বিষয়টি নিচে আলোচনা করা হলো।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)
ইমাম নববি (রহ.) এই ফজিলতের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি উল্লেখ করেছেন- ‘যে সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ।’ (সুরা আনআম: ১৬০)
রমজানের ৩০টি রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলে মোট ৩৬টি রোজা হয়। ১০ গুণ সওয়াবের হিসেবে ৩৬টি রোজায় মোট ৩৬০ দিনের সওয়াব অর্জিত হয়, যা পুরো বছর রোজা রাখার সমান।
আরও পড়ুন: কাজা রোজার নিয়তে যে সতর্কতা জরুরি
রমজানের কাজা রোজা একটি ফরজ ইবাদত এবং শাওয়ালের রোজা একটি নফল (মোস্তাহাব) ইবাদত। এই দুই নিয়ত একত্রে করার বিষয়ে আলেমদের বিশ্লেষণ নিম্নরূপ-
ফজিলত নিশ্চিত নয়: একসাথে নিয়ত করলে কাজা রোজা আদায় হয়ে গেলেও শাওয়ালের বিশেষ ফজিলত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে না—এ বিষয়ে অধিকাংশ আলেম সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। কারণ হাদিসের বাহ্যিক শব্দ থেকে বোঝা যায়, রমজানের রোজা পূর্ণ করার পর শাওয়ালের রোজা রাখা উচিত।
হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি: হানাফি মাজহাবের মূলনীতি অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি একই সাথে ফরজ ও নফলের নিয়ত করে, তখন ফরজের বিষয়টিই প্রাধান্য পায়। এক্ষেত্রে ফরজ আদায় নিশ্চিত হয়, তবে নফলের পৃথক ফজিলত প্রাপ্তি নিশ্চিত নয়। সুতরাং সারাবছর রোজা রাখার বিশেষ সওয়াব নিশ্চিত করতে শাওয়ালের রোজা আলাদাভাবে রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কাফফারা দিতে হবে কি?
শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার ক্ষেত্রে শরিয়তে কোনো কঠিন বাধ্যবাধকতা নেই।
ধারাবাহিকতা শর্ত নয়: শাওয়ালের ছয় রোজা ধারাবাহিক হওয়া শর্ত নয়; অর্থাৎ টানা ছয় দিন রাখা জরুরি নয়। বরং পুরো মাসের যেকোনো সময় ভাগ করে বিরতি দিয়েও এই রোজাগুলো আদায় করা যায়।
সমন্বয়ের সুযোগ: যারা নিয়মিত প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখেন অথবা প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে ‘আইয়ামে বিজের’ রোজা রাখেন, তারা ওই দিনগুলোতে শাওয়ালের রোজার নিয়ত করে নিতে পারেন। এতে সহজেই ছয়টি রোজা পূর্ণ করা সম্ভব।
শরিয়তের দৃষ্টিতে সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো- প্রথমে রমজানের কাজা রোজাগুলো আদায় করা, এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা আলাদা নিয়তে রাখা। এতে ফরজ দায়িত্ব নিশ্চিতভাবে সম্পন্ন হয় এবং শাওয়ালের বিশেষ সওয়াবও পূর্ণভাবে অর্জিত হয়। তবে সময় কম থাকলে বা শাওয়াল মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে আগে শাওয়ালের রোজা রেখে পরে কাজা আদায় করাও জায়েজ বলেছেন অনেক আলেম।
সংক্ষেপে বলা যায়, কাজা ও শাওয়ালের রোজার নিয়ত একসাথে করলে ফরজ কাজা আদায় হয়ে গেলেও শাওয়ালের বিশেষ নফল রোজার পূর্ণ ফজিলত পাওয়ার ব্যাপারে কোনো দলিল নেই। তাই অধিকাংশ আলেমের মতে, আমলের পূর্ণতা ও সওয়াবের নিশ্চয়তার জন্য উভয় রোজা আলাদা নিয়তে পৃথকভাবে আদায় করাই উত্তম ও অধিক নিরাপদ।