ধর্ম ডেস্ক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
হজ ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ, যা একজন সামর্থ্যবান মুমিনের ওপর জীবনে একবার ফরজ। এই ইবাদত আত্মশুদ্ধি ও মহান রবের নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। রাসুলে কারিম (স.) বলেছেন, ‘একটি মকবুল (কবুল) হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (বুখারি)। কিন্তু এই পরম সৌভাগ্য অর্জনের জন্য হজের আরকান-আহকাম পালনের পাশাপাশি কিছু মৌলিক শর্ত ও মাসয়ালা জানা প্রত্যেক হাজির জন্য অপরিহার্য।
ইবাদত কবুলের প্রধান শর্ত হলো ইখলাস বা আল্লাহর সন্তুষ্টির একনিষ্ঠ নিয়ত। হজের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর নির্দেশ পালন। হাদিসে জিবরাঈলে বলা হয়েছে, ‘তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। যদি দেখতে না পাও, তাহলে বিশ্বাস করো যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৮) এছাড়া মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (বুখারি: ১) সুতরাং নামযশ বা সম্মানের মোহ পরিহার করে একমাত্র রবের সন্তুষ্টিই হোক হজের পাথেয়।
যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য তা অবশ্যই রাসুলে কারিম (স.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে হতে হবে। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল, যাতে আমার নির্দেশ (সুন্নাহ) নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।’ (মুসলিম: ১৭১৮) তাই হজের তালবিয়া থেকে শুরু করে পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত প্রতিটি আমল সুন্নাহ মোতাবেক সম্পন্ন করার গুরুত্ব সবচাইতে বেশি।
আরও পড়ুন: কোরআন-সুন্নাহর পথে অবিচল থাকার উপায়
হজ ইবাদতটি কবুল হওয়ার জন্য উপার্জিত অর্থ শতভাগ হালাল হওয়া জরুরি। কারণ হারাম সম্পদ দিয়ে করা ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ব্যয় করো তোমাদের অর্জিত হালাল সম্পদ থেকে।’ (সুরা বাকারা: ২৬৭) হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া কিছু কুবুল করেন না।’ (তিরমিজি: ২৯৮৯) সুতরাং হজের সফরের প্রতিটি কদম যেন হালাল উপার্জনের বরকতে সিক্ত থাকে।
হজকে ‘মাবরুর’ বা কবুল করার জন্য সব ধরনের পাপাচার ও গর্হিত কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হজের সময় কোনো যৌনাচার করবে না, কোনো গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না।’ (সুরা বাকারা: ১৯৭) রাসুল (স.) ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনোরূপ অশ্লীল কথা বা গুনাহের কাজে লিপ্ত না হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হজ সম্পন্ন করে, সে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।’ (বুখারি: ১৫২১)
আরও পড়ুন: হজে গিয়ে যেসব কাজ করার চিন্তাও করবেন না
হজের সফরে ধৈর্য ও সহনশীলতা অপরিহার্য। তাওয়াফ, সাঈ কিংবা জামরাতে পাথর নিক্ষেপের সময় প্রচণ্ড ভিড় হতে পারে। এমতাবস্থায় অন্য কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। হাজি সাহেবের উচিত কোমল ও উদার হওয়া এবং সহযাত্রীদের প্রতি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আচরণ করা। অন্যের অধিকার হরণ বা অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকাই মকবুল হজের অন্যতম শিক্ষা।
হজের তিনটি ফরজ (ইহরাম, আরাফাতে অবস্থান ও তাওয়াফে জিয়ারত) এবং ছয়টি ওয়াজিব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বিশেষ করে মিকাত অতিক্রমের আগে ইহরাম বাঁধা, নির্ধারিত স্থানে অবস্থান এবং বিদায়ী তাওয়াফের মাসয়ালাগুলো গুরুত্বের সাথে পালন করতে হবে। নারীদের ক্ষেত্রে মাহরামের উপস্থিতি এবং বিশেষ শারীরিক অবস্থায় হজের নিয়মগুলো জেনে নেওয়া জরুরি।
হজ একটি জীবন পরিবর্তনকারী ইবাদত। হজে যাওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য আলেমদের সাহচর্য গ্রহণ বা প্রামাণ্য কিতাব অধ্যয়ন করা উচিত, যাতে সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতে ইবাদত করা যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল হজযাত্রীকে সুন্নাহ মোতাবেক হজ পালনের মাধ্যমে ‘হজে মাবরুর’ নসিব করুন। আমিন।