images

ইসলাম

প্লেটে খাবার ফেলে রাখলে যে বরকত হারাতে পারেন

ধর্ম ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

খাবার আল্লাহর দেওয়া এক মহান নেয়ামত। এই নেয়ামতের প্রতিটি দানার পেছনে জড়িয়ে আছে কৃষকের শ্রম, প্রকৃতির অবদান এবং দয়াময় আল্লাহর অশেষ করুণা। তবে আধুনিক যুগে ‘প্লেটে সামান্য খাবার ফেলে রাখা’র যে সংস্কৃতি আমরা আভিজাত্য হিসেবে গ্রহণ করছি, তা ইসলামের অপচয়বিরোধী অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে খাবারের শেষ অংশ পর্যন্ত পরিচ্ছন্নভাবে গ্রহণ করতে, কারণ আমরা জানি না খাবারের কোন অংশে ‘বরকত’ বা প্রকৃত কল্যাণ লুকিয়ে আছে।

নবীজির (স.) নির্দেশনা

খাবার শেষে পাত্র পরিষ্কার করে খাওয়া এবং আঙুল চেটে খাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। এ বিষয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী দলিল রয়েছে। হজরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বলেছেন, নবীজি (স.) আঙ্গুল ও প্লেটকে চেঁটে খেতে আদেশ করেছেন এবং বলেছেন, ‘যখন তোমাদের খাবার খাবে আঙ্গুল চেঁটে না খেয়ে হাত মুছবে না। কারণ, তোমরা জান না যে, কোন খাবারে বরকত আছে। (মুসনাদে আহমাদ: ১৩৮০৯) 

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা থালা (প্লেট) পরিষ্কার করে ফেলি। তিনি আরও বলেছেন- ‘নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রতিটি কাজের সময় উপস্থিত থাকে, এমনকি খাওয়ার সময়ও। তাই যদি তোমাদের কারো লোকমা নিচে পড়ে যায়, তবে সে যেন তা থেকে ময়লা পরিষ্কার করে খেয়ে ফেলে এবং শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে।’ (মেশকাত: ৪১৬৭)

আরও পড়ুন: ইসলামে খাবার গ্রহণের ১১ শিষ্টাচার

বরকতের প্রকৃত অর্থ

অনেকে মনে করতে পারেন, সামান্য একটু খাবার ফেলে দিলে কী এমন ক্ষতি! কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে খাবারের প্রতিটি দানায় ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব থাকতে পারে। হতে পারে আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি বা রোগমুক্তির মূল উপাদানটি ওই শেষ লোকমাটিতেই ছিল যা আপনি ফেলে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ভাষায় যা ‘বরকত’। এই বরকত কেবল পেট ভরা নয়, বরং এটি শারীরিক সুস্থতা ও আত্মিক প্রশান্তির নাম। যা ফেলে দেওয়ার অর্থ- নিজের অজান্তেই সেই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়া

অপচয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীদের শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৭) বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী যখন চরম খাদ্য সংকটে দিন পার করে, তখন প্লেটে খাবার ফেলে রাখা একটি অমানবিক আচরণও বটে। তথাকথিত ‘ভদ্রতা’ বা আভিজাত্যের দোহাই দিয়ে খাবার নষ্ট করা প্রকারান্তরে আল্লাহর নেয়ামতের অবমাননা।

আরও পড়ুন: বিলাসিতা যেভাবে মুসলমানের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে

মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক প্রভাব

খাবার শেষে পাত্র পরিষ্কার করে খাওয়া বিনয় ও নম্রতার প্রতীক। এটি মানুষের ভেতর থেকে অহংকার দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত পরিষ্কার করে খাওয়ার এই চিরায়ত অভ্যাসটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে খাবারের প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতা বোধ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া থালা পরিষ্কার করে খাওয়ার অভ্যাসটি পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার এক অনন্য শিক্ষা।

খাবারের প্রতিটি দানা আল্লাহর এক একটি বিশেষ উপহার। থালা বা পাত্রে খাবার অবশিষ্টাংশ ফেলে রাখা কোনোভাবেই আভিজাত্য হতে পারে না, বরং এটি এক ধরণের অকৃতজ্ঞতা। নবীজি (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে পাত্র পরিষ্কার করে খাওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত বরকত ও তৃপ্তি নিহিত। আমাদের একটি ছোট অভ্যাস পরিবর্তন, অর্থাৎ প্লেটে খাবার না রাখা হতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বড় একটি মাধ্যম।