ধর্ম ডেস্ক
১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
রমজানের শেষ দশকে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম ইতেকাফ। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ বা রমজানের শেষ দিন সূর্যাস্তের মাধ্যমে এই আধ্যাত্মিক সাধনার সমাপ্তি ঘটে। তবে ইতেকাফ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার মুহূর্তটি একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ১০ দিনের এই ইবাদতের নূর ও বরকত জীবনে ধরে রাখতে ৫টি আমল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ সময় আল্লাহর ঘরে অবস্থানের পর বিদায়ের মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো দোয়া পাঠ করা সুন্নাহ। মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রথমে বাম পা বাইরে দেবে। এরপর ডান পা দেবে। বাম পা দিয়ে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়বে-
আরবি: بِسْمِ اللَّهِ وَالصّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِك، اللَّهُمَّ اعْصِمْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণ: বিস্মিল্লা-হি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ, আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদ্বলিকা, আল্লা-হুম্মা আ‘সিমনি মিনাশ শায়ত্বানির রাজিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি)। আল্লাহর রাসুলের উপর দরুদ ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার দয়ার দরজাগুলো খুলে দিন। হে আল্লাহ, আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন। (আবু দাউদ: ০১/১২৬; সাহিহুল জামি: ০১/৫২৮; ইবনে মাজাহ: ০১/১২৯)
আরও পড়ুন: নবীজির ইতেকাফ যেমন ছিল
ইতেকাফ শেষে আত্মতৃপ্তি বা অহমিকা পরিহার করা জরুরি। ইবাদতে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না- এই বিনয় নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কবুলিয়াত প্রার্থনা করতে হবে।
হজরত ইবরাহিম (আ.)-ও মহান কাজ শেষে দোয়া করেছিলেন-
আরবি: رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম।’
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে (এ আমল) কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা: ১২৭)
এর পাশাপাশি বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা উত্তম।
সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। ইতেকাফ শেষে এটি আদায়ে সচেতন হওয়া জরুরি, যাতে অভাবী মানুষ ঈদের আগে প্রয়োজন মেটাতে পারে। রাসুলুল্লাহ (স.) ফিতরাকে রোজাদারের ভুল-ত্রুটি দূরকারী এবং দরিদ্রদের খাদ্যের ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। (আবু দাউদ: ১৬০৯)
আরও পড়ুন: ইতেকাফের গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা
রমজান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকবির পাঠ শুরু হয়। ইতেকাফ শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখার পর থেকে ঈদের নামাজ পর্যন্ত তাকবির পাঠ করা সুন্নাহ।
তাকবির: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘...তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)
ইতেকাফ মুমিনের জন্য একটি আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ। এই সময়ে অর্জিত আমল জামাতে নামাজ, তাহাজ্জুদ ও কোরআন কেলাওয়াত রমজানের পরও ধরে রাখার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। ইতেকাফ শেষ মানে ইবাদতের সমাপ্তি নয়; বরং নতুনভাবে তাকওয়াভিত্তিক জীবন শুরু করা।
ইতেকাফ শেষে এই ৫টি আমল যথাযথভাবে পালন করলে একজন মুমিন তার ইতেকাফের শিক্ষাকে সার্থক করতে পারেন। ঈদের আনন্দের মাঝেও জিকির, শুকরিয়া ও ইবাদতের এই ধারা অব্যাহত রাখা বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ আমাদের সবার ইতেকাফ ও ইবাদত কবুল করুন। আমিন।